পুলিশকে গুলি করে গুলিবিদ্ধ যুবলীগ নেতা পল্লব!

শেখ ফেরদৌস ইসলাম পল্লব (৩৪)। তিনি রাজধানীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগর সহ-সভাপতি। পুলিশকে গুলি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

রোববার ভোর রাতে রাজধানীর কলাবাগান থানাধীন ভুতের গলি জামে মসজিদের সামনের সড়কে পুলিশের সঙ্গে ওই যুবলীগ নেতারা ‘বন্ধুকযুদ্ধ’ হয়। কলাবাগান থানা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বন্ধুকযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী কলাবাগান থানার এসআই শহিদুল ইসলাম জানান, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডে দ্রুত গতিতে একটি মোটরসাইকেল পুলিশের টহল গাড়ি অতিক্রম করে যায়। পুলিশ মোটরসাইকেলটি থামানোর সংকেত দিলে কিছুদূর সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।

এসময় পুলিশ তার তার পরিচয় জানতে চাইলে মোটরসাইকেল আরোহী উল্টো পুলিশের পরিচয় জানতে চায়। পুলিশ পরিচয় দিলে মোটরসাইকেল আরোহীও নিজেকে পুলিশ বলে দাবি করেন। পুলিশের প্রমাণ দেখতে চাইলে মোটরসাইকেল আরোহী পুলিশকে পিস্তল দেখান। এরপর তিনি খুব দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল নিয়ে মিরপুর এলাকার দিকে চলে যান।

এসময় এসআই মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে টহল পুলিশ দল তার পিছু নেয়। ঘটনাটি ফোন কলাবাগান থানায় জানায়। এরপর এসআই শহিদুল ইসলাম পুলিশের আরেকটি টিম নিয়ে মোটরসাইকেল আরোহীর পিছু নেন। একপর্যায়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে ওই যুবলীগ নেতা মোটরসাইকেল নিয়ে মিরপুরের মনিপুর এলাকার একটি গলিতে ঢুকে পড়েন।

কিছুক্ষণ পর তিনি আবার সেন্ট্রাল রোড দিয়ে কলাবাগান এলাকার দিকে আসতে থাকেন। পুলিশ তাকে আবার ধাওয়া দিলে তিনি সেন্ট্রাল রোড থেকে কলাবাগান ভুতের গলিতে ঢুকে পড়েন। পুলিশ ও তার পিছু নিয়ে ওই গলিতে ঢোকে। তিনি ভুতের গলি জামে মসজিদের পাশে গিয়ে অবস্থান নেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি শুরু করেন। এসময় পুলিশ ও তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। এসময় তার সঙ্গে মোটরসাইকেলে থাকা আরো দুইজন পালিয়ে যায়। গোলাগুলির একপর্যায়ে তার পায়ে একটি গুলি লাগলে একটু দূরে দৌঁড়ে গিয়ে মাটিতে পড়ে যান। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে। আটকের সময় তার কাছে ১৬টি বুলেট, দুটি ম্যাগাজিন ও একটি ৭.৬২ পিস্তল উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, আটকৃত ব্যক্তির নাম ফেরদৌস ইসলাম পল্লব। রাজধানীর মিরপুর থানাধীন মধ্যমনিপুর এলাকার ৩৩৮ বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন।

এদিকে মনিপুর গিয়ে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধ পল্লব নগরীর ১৩ নং ওয়ার্ডের যুবলীগের সহ-সভাপতি। ফেরদৌস এলাকায় ডিস ও ওয়েলডিংয়ের ব্যবসা করেন। এছাড়াও তিনি রাজনীতি করেন। ওই এলাকার বিভিন্ন দেয়ালে সাটানো পোস্টারেও তার রাজনীতির পরিচয় পাওয়া যায়। তার পিতার নাম গিয়াস উদ্দিন। তবে পল্লবের ওই বাসায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাসাটি তালা বদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানায়, মণিপুরের এ বাসায় শুধু পল্লব এবং তার স্ত্রী থাকেন। তার স্ত্রী মণিপুর স্কুলের শিক্ষিকা। আর ফেরদৌসের বাবা-মা থাকেন অন্য একটি বাসায়।

এসআই শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ব্যবসার ও রাজনীতির পাশাপাশি ফেরদৌস ওই এলাকায় বিভিন্ন অপরাধজনিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় থানায় তার বিরুদ্ধে মিরপুর থানা মামলা রয়েছে। সেকোনো গোপন অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং একটা সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে।

তবে পুলিশের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গুলিবিদ্ধ পল্লব। তিনি বলেন , ‘আমি একজন ব্যবসায়ী। পুরান ঢাকায় কাজ শেষ করে বাসায় ফিরছিলাম। এক বন্ধুকে নামিয়ে দিয়ে কলাবাগান হয়েই যাচ্ছিলাম। প্রথমে পুলিশ আমাকে থামতে বলে। এরপর টাকা দাবি করে। টাকা না দিয়ে যেতে চাইলে তারা আমাকে দুই পায়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে। আমার লাইসেন্স করা পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি তারা ছিনিয়ে নেয়।’

এদিকে অস্ত্রের ব্যপারে এসআই শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘সোমবার রাত পর্যন্ত সে অস্ত্রের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।’

এ ব্যাপারে কলাবাগান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল জানান, ফেরদৌস মিরপুর এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মিরপুর মডেল থানায় মামলা রয়েছে।

এছাড়াও রোববারের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে বলেও জানান ওসি।

You Might Also Like