পিপল টেক-এর ‘জব এন্ড স্কলারশীপ’ সেমিনার

প্রবাসে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অনন্য ভূমিকা পালনকারী ইন্সটিটিউট অফ ইনফর্মেশন টেকনোলজী’র প্রতিষ্ঠান ‘পিপল টেক’ আয়োজিত ‘জব এন্ড স্কলারশীপ’ সেমিনারে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ বলেছেন, স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে ‘দক্ষ স্কীল’ গড়ে তোলা আর বাংলাদেশী-আমেরিকানরাই আমাদের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, এখন টেকনোলজী আর ইনফর্মেশনের যুগ। এই যুগে যে ব্যক্তি, কমিউনিটি বা জাতি বেশী যত বেশী টেকনোলজী বিদ্যায় এগিয়ে সে জাতি তত বেশী সমৃদ্ধ। তিনি বলেন, আমরা আমাদের কমিউনিটিকে শুধু পথ দেখাতে পারি। তিনি বলেন, আমরা কোন কাজকেই ছোট করে দেখছি না। তবে উন্নত ও সফল জীবনের জন্য আমরা ‘অড জব-কে না বলতে চাই, নো মোর অড জব’। তিনি পিপল টেক-এর সংগঠন ভিত্তিক স্কলারশীপ প্রকল্প সফল করতে প্রবাসের সকল সংগঠনের সহযোগিতা কামনা করেন।

People Tech-1
সিটির এস্টোরিয়ার স্টেইনওয়েস্থ পিপল টেক’এর কার্যালয়ে গত ২ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত ‘জব এন্ড স্কলারশীপ’ সেমিনারে কী নোট স্পীকারের বক্তব্যে আবু হানিপ এসব কথা বলেন। তিনি পর্বে আয়োজিত সেমিনারের প্রথম পর্বে ছিলো তার মূল বক্তব্য, দ্বিতীয় পর্বে ছিলো প্রশ্নোত্তর আর তৃতীয় পর্বে ছিলো পিপল টেক থেকে আইটি বিষয়ে সার্টিফিকেটধারী এবং চাকুরী প্রাপ্ত তিন শিক্ষার্থীর বক্তব্য। অনুষ্ঠানে প্রবাসে জব সেমিনারের প্রবর্তক খান শওকত বিভিন্ন সিটি জব-এর তথ্য তুলে ধরেন। এছাড়াও কয়েকজন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ তাদের মতামত তুলে ধরেন সেমিনারে। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম কর্মকর্তা সালাউদ্দিন নোমান।

People Tech-2
অনুষ্ঠানে ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিপ তার বক্তব্যে প্রবাসী জীবনের অভিজ্ঞতা, পিপল টেক প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ থেকে প্রযুক্তি বিদ্যায় উচ্চ শিক্ষা নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র এসে প্রথমে সাড়ে তিন ডলার আওয়ারের চাকুরী করার পাশাপাশি আইটি বিষয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করি। এরপর জীবনের মোড় ঘুরাতে আইটি সেক্টরে নিজেকে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেই। তিনি বলেন, আমার প্রথম প্রস্তাবে সাড়া দেন একজন ট্যাক্সি অটোরিপেয়ার শপের মালিক। তিনি সবকিছু ফেলে এক মাস আমার বাসায় থেকে আইটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে সফল হন এবং ভালো বেতনে চাকুরী পান। এরপর আরো আরো কয়েকজন বাংলাদেশী আমার আহ্বানে সাড়া দেন এবং এক পর্যায়ে পিপল টেক প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেই। আবু হানিপ বলেন, নিউইয়র্ক ছাড়াও ভার্জেনিয়া, নিউজার্সী এবং ভারত ও বাংলাদেশে আমাদের শাখা রয়েছে। ভাজিনিয়া শাখার শতকরা ৯৫ ভাগ শিক্ষার্থীই বিদেশী। পিপল টেক প্রতিষ্ঠার পর এপর্যন্ত প্রায় তিন হাজারের মতো শিক্ষার্থী এই প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করে বিভিন্ন নামীদামী প্রতিষ্ঠানে ভালো বেতনে চাকুরী করছেন এবং এপর্যন্ত কোন শিক্ষার্থী কর্মস্থল থেকে চাকুরী হারান নি। তিনি বলেন, শারীরিকভাবে সমর্থ যেকোন বয়সের নর-নারী পিপল টেক থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারেন। বর্তমানে এই পিএইচডি ডিগ্রীধারী ৫/৭জন শিক্ষার্থী তার প্রতিষ্ঠান থেকে আইটি বিভাগে শিক্ষা গ্রহণ করছেন।

People Tech-4
তিনি বলেন, পিপল টেক বাংলাদেশী নারী শিক্ষার্থীদের উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। সফট ওয়ার টেস্টিংসহ বর্তমানে বিআইটি (বাংলাদেশী ইন ইনফরমেশন টেকনোলজী) ও এফআইটি (ফিমেল ইন ইনফরমেশন টেকনোলজী), ইএসএল প্রভৃতি প্রকল্প চলছে পিপল টেক-এ। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাসিক জব লেটার।

People Tech-5
আবু হানিপ বলেন, বাংলাদেশ থেকেও অনলাইনে ক্লাশ করার সুযোগ রয়েছে। যে কেউ অল্প ফি’র বিনিময়ে পিপল টেকে-এর এই সুযোগ নিতে পারেন। পিপল টেক-এর শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে কিস্তিতে তাদের ফি পরিশোধ করতে পারেন।
সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই সেমিনারে অংশ নেন।

You Might Also Like