পিকেটারদের হামলায় কর্মীর মৃত্যু দাবি যুবলীগের, পুলিশ বলছে সড়ক দুর্ঘটনা

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের হাজিরহাট এলাকায় পিকেটারদের ধাওয়া মোটরসাইকেল আরোহী যুবলীগ কর্মী ইউসুফ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে যুবলীগ। এ ঘটনায় নিহতের দুই ভাই আবদুল মতিন ও সোলায়মান আহত হয়েছেন। অবরোধকারীদের ধাওয়ায় ইউসুফ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন রামগতি উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন হেলাল। তবে পুলিশ সুপার শাহ মিজান সাফিউর রহমানের ধারণা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ইউসুফ। বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ইউসুফের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে পুলিশ। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ইউসুফ নোয়াখালী জেলার আন্ডার চর গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের ছেলে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতে ওই এলাকায় দুইটি দোকান ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে যুবলীগের নেতাকর্মীরা।
নিহতের বড় ভাই আবদুল্লাহ জানান, ইউসুফ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বৃহস্পতিবার রাতে কমলনগর উপজেলা হাজিরহাট আওয়ামী লীগ অফিসে একটি শালিসে এসেছিলেন তার তিন ভাই ইউসুফ, আবদুল মতিন ও সোলায়মান। শালিস শেষে নোয়াখালীর নিজ বাড়িতে যাওয়ার সময় হাফিজীয়া মাদ্রাসা এলাকায় পৌঁছলে ৩ থেকে ৪ জনের একদল যুবক তিন টুকরা গাছের গুড়ি ফেলে মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এসময় লাঠি দিয়ে ইউসুফকে আঘাত করে তারা। এতে মাটরসাইকেলটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ইউসুফ ঘটনাস্থলে মারা যান। এসময় অপর দুই ভাই আহত হন। তবে পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে জানান তিনি।
অপর দিকে স্থানীয়রা জানান, হাজিরহাট আওয়ামী লীগ অফিসে শালিস শেষ করে ইউসুফসহ তিনজন মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি যাওয়ার সময় হাফিজীয়া মাদ্রাসা এলাকায় পৌঁছলে মোটরসাইকেলটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ইউসুফ মারা যান। এ ঘটনার সঙ্গে অবরোধের কোন সর্ম্পক নাই। এটি একটি সড়ক দুর্ঘটনা। কমলনগর থানার এসআই শাহ আলম জানান, পিকেটারদের ধাওয়া, সড়ক দুর্ঘটনায় না পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের পর বলা যাবে হত্যা নাকি এটি সড়ক দুঘর্টনা।

You Might Also Like