হোম » পাহাড় ধসে নতুন মৃত্যু, তবু কেন ঘর ছাড়ছে না মানুষ?

পাহাড় ধসে নতুন মৃত্যু, তবু কেন ঘর ছাড়ছে না মানুষ?

admin- Sunday, June 18th, 2017

ফারহানা পারভীন : বাংলাদেশে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে দুটি জেলায় আবারো পাহাড়-ধসে ঘটনা ঘটেছে এবং অন্তত পাঁচজন মারা গেছে।

খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজারে এই পাহাড় ধসে নিহতদের মধ্যে ৪ জন শিশু রয়েছে বলে খবর পাওয়া।

মৌলভীবাজারের শনিবার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়। সাতে পাহাড়ি ঢল আর বজ্রপাত। ডিমাই এলাকায় পাহাড়ের কোল ঘেঁষা টিনের চাল আর বেত দিয়ে ঘেরা ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন মা- মেয়ে। দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় মাটির নিচে চাপা পড়েন তারা।

খাগড়াছড়ির দুটি পৃথক স্থান পাহাড় ধসে প্রাণহানি হয়েছে আরো তিন জনের।

সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জেরা রাঙামাটিতে শনিবার রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে রাঙ্গামাটিতে। সম্প্রতি পাহাড় ধসে সবচেয়ে প্রাণহানি হওয়া এই জেলায় ৫০ হাজারের মত মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। জেলায় আরো পাহাড় ধস হতে পারে এ আশঙ্কায় প্রশাসন থেকে মাইকিং করে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে।

কিন্তু রাঙ্গামাটির বনরুপা এলাকার বাসিন্দা বিজয় ধর বলছিলেন মাইকিং করা হলেও অনেকেই তাদের ভিটামাটি ছাড়ছেন না ।

কেন তারা সরছেন না?

প্রাকৃতিক দুযোর্গ এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকা নিয়ে যারা গবেষণা করেন তারা বলছেন বাংলাদেশে অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন ঝড় বা বন্যার ইতিহাস দীর্ঘ এবং এ নিয়ে সচেতনতা তৈরি হয়েছে, কিন্তু পাহাড় ধস মানুষের কাছে ততটা পরিচিত নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্সটিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এন্ড ভালনারেবিলিটি এর পরিচালক-অধ্যাপক মাহবুবা নাসরীন বলছেন ২০০৭ সালের আগে পাহাড় ধসে প্রানহানীর ইতিহাস বাংলাদেশে নেই। তাই এই ধসে প্রাণ যেতে পারে সে সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা গড়ে উঠেনি এখনো।

বাংলাদেশে পাহাড়ধসের ঘটনায় গত কদিনে পাঁচটি জেলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৬৩ জনে। শুধু রাঙ্গামাটিতেই অন্তত ১১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এত প্রানহানির পর নিরাপদ স্থান বা প্রশাসনের করা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে কেন তারা যাচ্ছে না?

মাহবুবা নাসরিন বলছেন, বিশেষ করে তিন পার্বত্য এলাকার মানুষের মধ্যে বসতভিটা দখল হয়ে যাওয়ার একটা ভয় তাদের কাজ করে। সেকারণে ঝুঁকি থাকলেও হয়তো অনেকে বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেন না।

রাঙ্গামাটি জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত রাঙ্গামাটির ১৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুই হাজার চারশো জন অবস্থান করছে, যদিও এ জেলায় অন্তত ৫০ হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বাস করছে।

বিবিসি বাংলা, ঢাকা

সর্বশেষ সংবাদ