‘পালিয়ে বিয়ে করার আনন্দই আলাদা’

বিয়ের দিনই প্রেমিক শ্যামল মাওলার সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় অভিনেত্রী সানজিদা তন্ময়। রাজশাহীতে গিয়ে আশ্রয় নেয় রিয়াজুল রিজুর কাছে। এদিকে তন্ময়ের বাবা পুলিশের বড় কর্তা। শুরু হয় নানা কর্মকাণ্ড। গল্পটি ‘চলো পালাই’ নামের একক নাটকের।

মেহেদী হাসান সজীবের রচনা ও মামুন খানের পরিচালনায় নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন শ্যামল মাওলা, সানজিদা তন্ময়, ফারজানা রিক্তা, রিয়াজুল রিজুসহ অনেকে।

এ প্রসঙ্গে অভিনেতা শ্যামল মাওলা বলেন, ‘গল্পটি খুবই সুন্দর, সাধারণত আমরা যে ধরনের গল্পে অভিনয় করি বা দেখে থাকি তার থেকে ব্যতিক্রম একটি গল্প। পরিচালকও খুব যত্ন নিয়ে নির্মাণ করেছেন। আশা করি, দর্শকদের ভালো লাগবে।’

পরিচালক মামুন খান বলেন, ‘আমি এর আগেও দুটি নাটক পরিচালনা করেছি। নাটক দুটির গল্পও ভিন্ন ধরনের ছিল এবং আমার নাটক সবসময় ন্যাচারাল রাখতে চাই। তারই ধারাবাহিকতায় এই নাটকটির গল্পেও ভিন্নতা এনেছি এবং ন্যাচারাল রাখার জন্যই সকলে যেখানে খরচ বাঁচাতে উত্তরা কিংবা গাজীপুরের বাইরে যেতে চান না, সেখানে আমরা রাজশাহী গিয়ে শুটিং করেছি। আশা করছি, দর্শকদের ভালো সাড়া পাব।’
অভিনেত্রী সানজিদা তন্ময় বলেন, ‘পালিয়ে বিয়ে করার আনন্দই আলাদা, যেটা এই নাটকের মাধ্যমে আমি উপলদ্ধি করতে পেরেছি। বিয়ের দিন আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে পালিয়ে যাই। তবে এটাও ঠিক যে এভাবে পালিয়ে বিয়ে করাটা মোটেও ঠিক না, বাবা-মাকে কষ্ট দেওয়া ঠিক না এবং আমরা যখন বুঝতে পারি তখন আবার ঢাকায় ফিরে আসি। নাটকটির শুটিং করার সময় মনে হয়েছে যে, আমি সত্যিই পালিয়ে বিয়ে করতে যাচ্ছি, আমার কাছে মনেই হয়নি এটা স্রেফ অভিনয়।’

অভিনেত্রী ফারজানা রিক্তা বলেন, ‘আমাদের তো প্রায় প্রতিদিনই শুটিং করতে হয়। শুটিং করতে করতে একঘেয়েমি চলে আসে তাই মাঝে মাঝে কোথাও ঘুরতে যাই। তবে এবার আর নিজের খরচে ঘুরতে যেতে হলো না, কারণ শুটিং আমরা এমনভাবে করেছি যে মনেই হয়নি আমরা শুটিং করছি। বরং আমার মনে হয়েছে আমরা কোন ট্যুরে যাচ্ছি। নাটকটির শুটিং করে খুব উপভোগ করেছি।’

গত ৯-১০ মার্চ ঢাকা থেকে শুরু হয় নাটকটির শুটিং। ঢাকা-রাজশাহী হাইওয়েসহ রাজশাহীতেও নাটকটির দৃশ্যধারণের কাজ হয়েছে। নাটকটি প্রযোজনা করেছে কারুকাজ প্রোডাকশন। নাটকটির প্রযোজক অভিনেতা রিয়াজুল রিজু বলেন, ‘যতই দিন যাচ্ছে আমাদের নাটকের মান ততই কমে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ নাটকের বাজেট। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো কিংবা অ্যাজেন্সিগুলো খুব একটা বাজেট দেয় না, যে বাজেট দেয় তার উপর নির্ভর করেই আমরা গল্প লিখি এবং যতটুকু সম্ভব কম খরচ নাটকটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারি সকলে সে চিন্তায় মগ্ন থাকি। তাই এমনটি হয়। এই নাটকটির ক্ষেত্রে তা হয়নি, যদিও বাজেট কম তবু আমরা চেষ্টা করেছি ভালো কিছু বানাতে। আমি জানি যে টাকা দিয়ে এই নাটক বানানো হচ্ছে কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বা অ্যাজেন্সি এত টাকা দিবে না মানে এই নাটকটি একটি লস প্রজেক্ট। তবু তাদেরকে বুঝিয়ে দিতে চাই যে, বাজেটটা একটু বেশি হলে আমাদের নাটকের মান বহুগুণে ভালো হবে। আর দর্শকরা আর বিদেশি চ্যানেলের দিকে মনোযোগী হবে না।’

You Might Also Like