হোম » পানি কেউ আটকে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পানি কেউ আটকে রাখতে পারবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ঢাকা অফিস- Wednesday, April 12th, 2017

ভারত সফর সবদিক দিয়েই সফল হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিস্তার পানি আসবেই, পানি কেউ আটকে রাখতে পারবে না। তিস্তার পানি নিয়ে এখন অনেকেই কথা বলেন; কিন্তু ভারত যখন গজলডোবায় বাঁধ দিল, তখন যারা ক্ষমতায় ছিল, তখন তো কেউ কথা বলেনি। তার এই সফরে তিস্তা চুক্তির বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সাড়া না পেলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আশ্বাসে ধৈর্য ধরতে চান তিনি। নরেন্দ্র মোদি তো বলেছেনই তার ও আমার শাসনামলেই এই চুক্তি হবে। আমরা আশাবাদী।’

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ভারত সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি একটি জিনিস বিশ্বাস করি, আমরা তো আছি ডাউনস্ট্রিমে। পানি আসবে, পানি কেউ আটকে রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ ছাড়াও অনেক সরকার এসেছে। অন্যরা কেউ তিস্তার পানি নিয়ে টুঁ শব্দ করেননি।

প্রসঙ্গত, ছয় বছর আগে ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও মমতা ব্যানার্জির আপত্তির কারণে তা হয়নি। বিষয়টি এখনও আটকে আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবারের ভারত সফরে ৮ এপ্রিল দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠক হয়। সে সময় মমতা ব্যানার্জিকে ডেকে নিয়ে তিস্তার প্রসঙ্গ তোলেন মোদি। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। এ বিষয়ে মোদি পরে বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান সরকারের সময়েই তিস্তার পানি বণ্টন সমস্যার সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে সুষ্ঠু সমাধান এই সফরে আসেনি সেটা সত্য তবে অগ্রগতি অনেক হয়েছে। আমরা আলোচনা করছি। তিস্তা চুক্তি নিয়ে মমতা কিন্তু একেবারে না করেননি। আশপাশের নদীগুলো সংযোগ করে এটা করার কথা বলেছেন।

তিস্তার পানি প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিকল্প প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য কি না, এ প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমিও বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছি। তাকে বলেছি, অন্য নদীর পানি তারা নিজেরা নিয়ে তিস্তার পানি আমাদের দিন। তবে উনি বলছেন, এটা স্টাডি করতে হবে।’

তবে চুক্তি হওয়ার আগে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পানি সংরক্ষণ ও তা কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র খনন করে বর্ষাকালে আসা পানি ধরে রাখা এবং শুষ্ক মৌসুমে তা কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সে পদক্ষেপ নিজেদেরই নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি, আপনি জায়গা দেখেন, আমরাও জায়গা দেখি, আমাদের শাখা নদী এবং দুই দেশ মিলে, অর্থাৎ ব্যারেজ মানে ওয়াটার রিজার্ভার তৈরি করা। যেন বর্ষাকালে পানিটা আমরা ধারণ করে রাখতে পারি এবং শুষ্ক মৌসুমে যেন তা আমরা ব্যবহার করতে পারি। সেইভাবে একটা জায়গা খুঁজে সেইখানে করাটাই সব থেকে যুক্তিযুক্ত।’