‘পাখির ডানায় লেখা বাংলা ভাষার মান’

শুক্রবার একুশে ফেব্রুয়ারি৷ বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক জায়গাতেই এ দিনে শ্রদ্ধা জানানো হবে ‘৫২-র ভাষা আন্দোলনের শহিদদের৷ তাই ব্লগওয়াচে থাকছে এ দিবস উপলক্ষ্যে কিছু লেখা৷

সামহয়্যার ইন ব্লগে শুভজিৎ শুভ তুলে দিয়েছেন এমন এক গান, যে গান প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির ২১তম দিনে প্রায় সব বাঙালির মুখে মুখে ফেরে৷ এমন দিনে আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখা এবং শহীদ আলতাফ মাহমুদের সুর করা গানের কথা যাঁরা পুরোপুরি মনে করতে চাইবেন তাঁদের মন ভালো করে দেবে শুভর এই পোস্ট৷

একই ব্লগে আমিনুল ইসলাম মামুন লিখেছেন বাংলা ভাষা নিয়ে ছোট্ট একটি ছড়া৷ ছড়ার শিরোনাম, ‘‘সব পাখিরই ডানায় লেখা”৷

ছড়াটি এমন:

‘‘সব পাখিরই ডানায় লেখা

আমার বর্ণমালা

সে বর্ণতে ভরা আমার

মায়ের হাতের বালা৷

সে বর্ণটা মিশে আছে

পাখির গানের সুরে

সেই সুরেলা কণ্ঠ পাবে

চিন ও অচিনপুরে৷

যখন যেথায় যাবে তুমি

শুনবে পাখির গান

মায়ের বালায় পাখির গানে

বাংলা ভাষার মান৷”
[‘যখন যেথায় যাবে তুমি/শুনবে পাখির গান/মায়ের বালায় পাখির গানে/ বাংলা ভাষার মান’]

‘যখন যেথায় যাবে তুমি/শুনবে পাখির গান/মায়ের বালায় পাখির গানে/ বাংলা ভাষার মান’

মোহাম্মদ নাসেরের লেখার বিষয়ও বাংলা ভাষা৷ সামহয়্যার ইন ব্লগে তাঁর লেখার শিরোনাম, ‘‘উন্নয়ন, মাতৃভাষা ও সত্যেন বসু”৷

এটি মূলত একটি প্রবন্ধ৷ প্রবন্ধের শুরুতে মোহাম্মদ নাসের লিখেছেন, ‘‘২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর, এই প্রথম ২১ ফেব্ররুয়ারিকে সামনে রেখে পাঠকবৃন্দের মাঝে নিজের মত প্রকাশ করতে চাই৷ উন্নয়ন, মাতৃভাষা ও সত্যেন বসু প্রবন্ধটি লেখার উপযুক্ত সময় আর কি হতে পারে? (১৯৯৯ সালে ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রকাশিত)৷” অর্থাৎ, প্রবন্ধটি প্রকাশিত হয়েছিল ১৫ বছর আগে৷ তবে বাংলাদেশে এখনো সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু হয়নি৷ মোহাম্মদ নাসের বক্তব্যের সঙ্গে অনেকে একমত না-ও হতে পারেন, তবে তাঁর এ লেখা যে এখনো প্রাসঙ্গিক তা তো মানতেই হবে৷
[‘বুর্জোয়াদের স্থানে উঠে আসতে হবে মেহনতি ও তাদের মিত্রদের‘]

‘বুর্জোয়াদের স্থানে উঠে আসতে হবে মেহনতি ও তাদের মিত্রদের‘

উপসংহারে মোহাম্মদ নাসের লিখেছেন, ‘‘পাঠকদের উপহার দিতে চাই হুমায়ুন আজাদের এক চমৎকার উক্তি: আমার অনুসন্ধান একটি ভয়াবহ সত্য উপহার দিয়েছে, সেটা হচ্ছে এভাবে যদি এগোতে থাকে বাংলাদেশ; তাহলে বিশ ও একুশ শতকের অনেক দশকে বাংলা ভাষা ও তার শোষিত মিত্রদের, সাধারণ মানুষের প্রতিষ্ঠার কোনো সম্ভাবনা নেই৷ বাংলার শোষিত শ্রেণি, প্রগতিশীলতা ও বাংলা ভাষা একই সূত্রে গ্রথিত: এ তিনের প্রতিষ্ঠা ঘটবে একই দিনে৷ এর আগে শক্তির প্রতারিত উৎসরা শাসক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে পাবে শুধু চমৎকার বাক্য, সময়োপযোগী স্তুতি, স্নিগ্ধ প্রতারণা ও মাঝে মাঝে প্রচণ্ড উৎপীড়ন৷” (প্রাগুক্ত ভূমিকা) অর্থাৎ, জাপানে যেমন বুর্জোয়াদের পৃষ্ঠাপোষকতায় ও সত্যেন বসুদের মতো ব্যক্তিদের মেধায়-ভালবাসায় ভাষার মুক্তি ঘটেছে, বাংলাদেশে তেমনভাবে ঘটবে না; এখানে বুর্জোয়াদের স্থানে উঠে আসতে হবে মেহনতি ও তাদের মিত্রদের, অনেকটা চীনের মতো, অন্ধকার যতই গাঢ় হোক৷”

সংকলন: আশীষ চক্রবর্ত্তী

সম্পাদনা: দেবারতি গুহ

You Might Also Like