‘পাকিস্তান মিয়ানমার নয়-এটা মনে রাখা উচিত ভারতের’

ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতীয় বিদ্রোহীদের দমনে মিয়ানমারের ভেতরে ঢুকে অভিযান চালিয়েছে বলে দাবি করার পর পাকিস্তান বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে ভারত যেন পাকিস্তানের ভেতর এধরনের অপারেশনের কথা কল্পনাও না করে।
ভারতের সেনাবাহিনী ওই অভিযানে কমান্ডো হামলা চালিয়ে মিয়ানমারের ভেতরে বিদ্রোহীদের দুটো ক্যাম্প ধ্বংস করে দিয়েছে বলে দাবি করেছে। মিয়ানমার অবশ্য এরকম কোনো অভিযানের কথা অস্বীকার করছে।এই নিয়ে একটা ধোঁয়াশা চলছে।
এখন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ভারতীয় সেনা অপারেশন নিয়ে ভারত আর পাকিস্তান একে অপরকে হুঁশিয়ারি -পাল্টা হুমকি দিয়েছে।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিসার আলি খানের মন্তব্য, “পাকিস্তান মিয়ানমার নয় – এটা মনে রাখা উচিত ভারতের। তারা যেন পাকিস্তানে এধরনের অপারেশন করার কথা কল্পনাও না করে।”
এর পাল্টা প্রতিক্রিয়াতে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পর্রিকরের জবাব, “এই অপারেশনে যারা ভয় পেয়েছে, তারাই প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছে।”
দুই দেশের রাজনীতিবিদরা এই প্রতিক্রিয়া-পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলেও মিয়ানমারের মতো কোনো অপারেশনের পরিকল্পনা কি পাকিস্তানে আদৌ করা হতে পারে? কতটা বাস্তব হবে সেই পরিকল্পনা?
ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল কে কে চৌধুরী বলছেন, “এধরনের অপারেশনের ক্ষমতা ভারতের রয়েছে। তার কৌশলও যেমন বাহিনীর জানা আছে, তেমনই অস্ত্র বা অন্যান্য উপকরণও মজুত রয়েছে। কিন্তু ভারত যদি সীমান্ত পেরিয়ে এধরণের হামলা চালায় পাকিস্তানে, তাহলে তৎক্ষণাৎ পাকিস্তান যে প্রতিক্রিয়া দেখাবে ভারতের ওপরে, তার জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে। গোটা পশ্চিম সীমান্ত জুড়েই আবারও শুরু হবে গোলাগুলি।”
বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন ভারতের রাজনীতিবিদরা, মূলত বিজেপি নেতারা অনর্থক পাকিস্তানের দিকে হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন রাজনৈতিক লাভের উদ্দেশ্যে।
অন্যদিকে ভারতের রাজনীতিবিদরা এই অপারেশনের কথা ফলাও করে বলে দিয়ে অস্বস্তিতে ফেলেছেন মিয়ানমারকেও, যেটা একটা সার্বভৌম রাষ্ট্র।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের অফিস থেকে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে তাদের “সেনাবাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভারতীয় সেনা সীমানা পেরয় নি, অপারেশনটা হয়েছে ভারতের সীমান্তের মধ্যেই।”
এধরনের অপারেশনের বিষয়ে বেশি কথা না বলাই ভালো – বলছিলেন ভারতের অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী।
“মিয়ানমার যে রিঅ্যাকশন জানিয়েছে, সেটা সম্ভবত তাদের নাগরিকদের কাছে একটা বার্তা দেওয়ার জন্য। আসলে অনেকেই মওকা বুঝে অনেক কিছু বলে ফেলছেন। এধরনের গোপন অপারেশনের বিষয়ে কম কথা বলাই ভালো,” মি. চক্রবর্তীর মন্তব্য।
যেসব সেনা সদস্য মিয়ানমারের ভেতরে ওই অপারেশনে গিয়েছিলেন, তাদের ছবি প্রকাশ্যে চলে এসেছে, যা এক কথায় অভূতপূর্ব। যদিও ভারতের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র সিতাংশু কর বলছেন সেনাবাহিনী কোনো ছবি-ই প্রকাশ করে নি, তবে ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো আর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি হেলিকপ্টারের সামনে বসে থাকা সেনা কম্যান্ডোদের ছবি ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রাক্তন সেনা কম্যান্ডো দীপাঞ্জন চক্রবর্তী নিজেই মিয়ানমারের ভেতরে একাধিকবার এরকম অপারেশনে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলছিলেন, “ছবি প্রকাশ পেলে আমাদের মতো কম্যান্ডোদের নিরাপত্তা বিঘিœত হবে – এটা খুব একটা বড় প্রশ্ন না। আমরা নিজেদের রক্ষা করতে জানি, সেটাই পেশা। নেতা-মন্ত্রীদের মতো নিরাপত্তা রক্ষী নিয়ে কী কম্যান্ডোরা ঘোরে? তবে ছবিটা এভাবে না দেওয়াই উচিত। আমাদের কাজটা তো গোপনীয়। আর ছবি বেরনোর পরে যেভাবে হিরো-ওয়ারশিপ শুরু হয়েছে, তাও কাম্য নয়। আমরা কেউ হিরো হতে চাই না। আমাদের কাজটা জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা।”
মঙ্গলবার খুব ভোরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্যারাকমান্ডোবাহিনীর সদস্যরা মিয়ানমারের সীমান্ত পেরিয়ে নাগা বিদ্রোহী গোষ্ঠী এনএসসিএন –খাপলাঙয়ের অন্তত দুটি শিবির ধ্বংস করে আসে আর তাতে অন্তত ৩৮ জন জঙ্গী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়। খাপলাঙ বলেছে এধরনের কোনো অভিযান হয়নি। তাদের কেউ মারও যায়নি।
গত ৪ জুন মনিপুরে সন্দেহভাজন নাগা জঙ্গীদের আক্রমনে ডোগরা রেজিমেন্টের ২০ জন সদস্য নিহত হন। বিবিসি

You Might Also Like