পাকিস্তানে হামিদ মীরকে আবারো হুমকি

সুপরিচিত এবং বিতর্কিত পাকিস্তানি টেলিভিশন টক শো অতিথি হামিদ মীরকে আবারো হত্যার হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। এর আগে হামিদ মীরের উপর গত ১৯ এপ্রিল হত্যার উদ্দেশে হামলা করে সন্ত্রাসীরা। কিন্তু ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান। তিনি ছয়টি গুলিবিদ্ধ হন যার দু’টি এখনো তার শরীরের মধ্যে রয়েছে। সাংবাদিকদের সংগঠন ‘কমিটি প্রটেস্ট জার্নালিস্ট’ এ তার সহযোগীদের ছুটির দিনে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় তিনি লেখেন, ‘আমি পায়চারি করতে পারি, নড়াচড়া করতে পারি এবং আমি কথা বলতে পারি কিন্তু আমি এখনো ফিজিওথেরাপি নিচ্ছি এবং ঔষধ গ্রহণ করছি।

কিন্তু তিনি মেইলটি পাঠিয়েছেন অন্য কারণে। বাংলাদেশি দৈনিক প্রথম আলো আয়োজিত একটি কনফারেন্সে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হওয়ার পর থেকে তিনি প্রচুর পরিমাণ হুমকি পাচ্ছেন এবং তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে যা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

সম্মেলনের বিষয়টি হচ্ছে, মূলত ১৯৭১ সালে পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে সংগঠিত মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে। যে যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে গিয়েছিল এবং যে যুদ্ধে পাকিস্তান ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ নৃশংসতা ও নিষ্ঠুরতা চালিয়েছিল।

গত ৫ নভেম্বর উর্দু দৈনিক জং এ লিখিত একটি প্রবন্ধে হামিদ মীর পাকিস্তান সরকারকে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কর্তৃক সংগঠিত নৃশংসতার জন্য অভিযুক্ত এবং একইসঙ্গে কৃত অপরাধের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দেন।

বাংলাদেশে রক্তগঙ্গা বইয়ে দেয়ার জন্য পাকিস্তান আর্মির যেসব অফিসার জড়িত সেসব কালপিটদের তালিকা গত বছর প্রকাশিত হয়েছে।

হামিদ মীর তার পাঠানো ই-মেইলে বলেন, আমি পাকিস্তান আর্মির বিরুদ্ধে বলছি না, আমি বলছি একজন পাকিস্তান আর্মির নিজের লেখা বইয়ের কথা যেখানে তিনি ১৯৭১ সালে সংগঠিত নৃশংসতার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি আরো লেখেন আমি বাংলাদেশের হাইকমিশনে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই কিছু রহস্যময় লোক বিভিন্ন পত্রিকায় আমার বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিদ্বেষমূলক অপবাদ প্রচার করতে থাকে।

কিছু মানুষ আমাকে পাকিস্তানের শত্রু ও বাংলাদেশের চর বলে আখ্যায়িত করে টুইট করতে থাকে।

তিনি তার নিরাপত্তা নিয়ে অতিমাত্রায় শঙ্কিত। ভাবুন এই সেই লোক যাকে আট মাস আগে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল তার স্পষ্টভাষী স্বভাবের জন্য। হামিদ মীর হাসপাতালে থাকা অবস্থায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ তিন সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন যাদের তিন সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার কথা ছিল কিন্তু ছয় মাস শেষ হলেও তারা আজো রিপোর্ট জমা দেননি।

You Might Also Like