পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে মুসলিমদের

পশ্চিমবঙ্গে উন্নয়ন নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে মুসলিমদের ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা কেন্দ্র বা এমএসকে শিক্ষকদের অনশন আন্দোলন থেকে শুরু করে সার্বিকভাবে মুসলিমদের উন্নয়ন নিয়ে এরইমধ্যে জোরালো প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাজ্য সরকার। এই সরকার ক্ষমতায় আসা থেকে চার বছর পেরিয়ে গেলেও মুসলিমদের নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে মুসলিম নেতারা অভিযোগ করছেন।

রাজ্যে সংখ্যালঘুদের অন্যতম সংগঠন ‘সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন’-এর পক্ষ থেকে ‘তোষণ নয়, উন্নয়ন চাই’ শীর্ষক আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত তারা এ নিয়ে রাজ্যজুড়ে সভা সমাবেশ করবে।

ফেডারেশনের রাজ্য সম্পাদক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান আজ (বুধবার) জানান, ‘আমরা কেবল ভোট ব্যাংক নই, আমরা সমান অংশিদারও। সেই ভাগ বুঝে নেয়ার জন্য সমাজের অনগ্রসর এবং পিছিয়ে পড়া মানুষদের সচেতন করতেই ‘তোষণ নয়, অধিকার চাই’ আন্দোলনের ডাক দেয় হয়েছে। আগামী ১ নভেম্বর দেগঙ্গা বাজারে এক সমাবেশের মধ্যে দিয়ে এই অভিযানের সূচনা হবে।’

মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের দেশের সংবিধান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের স্বাধীনভাবে ধর্ম পালনের অধিকারের পাশাপাশি উন্নয়ন এবং আর্থিক সুবিধার অধিকার দিয়েছেন। যদিও শাসক শ্রেণি সংখ্যালঘুদের স্বল্প শিক্ষা এবং দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে।’

কামরুজ্জামান রাজ্য সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘ ‘অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি’র (ওবিসি) সংরক্ষণের আওতায় সরকার উচ্চশিক্ষায় সংরক্ষণের কথা ঘোষণা করলেও মেডিক্যাল এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেনি।’ এসব প্রসঙ্গে আগামী আগামী ১৮ ডিসেম্বর কোলকাতায় সংখ্যালঘুদের নিয়ে বড় সমাবেশ করা হবে বলেও জানান মুহাম্মদ কামরুজ্জজামান।

মুসলিমদের সার্বিক উন্নয়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দ’-এর পশ্চিমবঙ্গের আমীর মুহাম্মদ নূরুদ্দিন। তিনি আজ (বুধবার) রেডিও তেহরানকে জানান, ‘সংখ্যালঘুদের জন্য সরকার হয়তো কিছু ভাবছে, মুখে অনেক কথা বলছে কিন্তু সুদূরপ্রসারী বা কংক্রিট কোনো পরিকল্পনা আমাদের নজরে আসছে না।’

এ প্রসঙ্গে তিনি ১০ হাজার মাদ্রাসার অনুমোদন দেয়ার প্রতিশ্রুতি কথা তুলে ধরে বলেন, ‘এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং বর্তমানে এমএসকে শিক্ষকরা নানা সমস্যায় ভুগছেন। তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবিকে সরকার কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। এ নিয়ে নিছক রাজনৈতিক প্রচারণা সৃষ্টি না করে সরকারকে ঠাণ্ডা মাথায় সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন নিয়ে ভাবা প্রয়োজন এবং আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যা দূর করতে হবে।’

‘জমিয়তে আহলে হাদিস’-এর রাজ্য সম্পাদক আলমগীর সরদার আজ জানান, ‘সাচার কমিটির রিপোর্টে মুসলিমরা কিভাবে পিছিয়ে রয়েছে তা প্রকাশ পেয়েছিল রাজ্যের তৎকালীন বাম সরকারের আমলে। কার্যত সেই রিপোর্টকে হাতিয়ার করে সংখ্যালঘুদের গণসমর্থনের ভিত্তিতে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলিমদের জন্য অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু আমরা গত সাড়ে চার বছরে দেখতে পাচ্ছি সেই উন্নয়ন আদৌ আশাব্যঞ্জক নয়। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না করেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার অনেক কৃতিত্ব দাবি করেছেন।’

সব মিলিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু মুসলিমদের মধ্যে ক্ষোভ বেড়ে চলেছে। অধিকন্তু এমএসকে শিক্ষকেরা বিভিন্ন দাবিতে ২৮ দিন ধরে যে অনশন আন্দোলন চালাচ্ছেন তাকে রাজ্যের বিরোধীদল বামফ্রন্ট, কংগ্রেস এবং অন্যরা সমর্থন জানানোয় এই ক্ষোভ আরো জোরালো মাত্রা পেয়েছে।

রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের মুখে সংখ্যালঘুরা রাজ্য সরকারের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে তা তাদের পক্ষে যথেষ্ট চিন্তার কারণ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম অবশ্য বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘রাজ্যে বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস এখন ডুবন্ত। এরা একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করছে।’

You Might Also Like