পশ্চিমবঙ্গে রেলস্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে নিহত ২

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাঁতরাগাছি স্টেশনে একসঙ্গে আটটি ট্রেন আসার পর প্রবল ঠেলাঠেলিতে পদপিষ্ট হয়ে দুজন নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরো ১৩ জন।

সাঁতরাগাছি রেল স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম ছ’টি। কিন্তু ফুটব্রিজ দু’টি এবং মূল ফুটব্রিজ সংকীর্ণ। মঙ্গলবার সেখানেই দুর্ঘটনা ঘটে।

রেল সূত্রে খবর, বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট থেকে ৫টা ৫২ মিনিটের মধ্যে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আটটি ট্রেন এসে পড়ে। সেই ঘোষণা শুনে তড়িঘড়ি ট্রেন ধরতে গিয়ে ফুট ওভারব্রিজে যাত্রীদের মধ্যে প্রবল হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। এক দিকে দূরপাল্লার ট্রেন থেকে নেমে আসা যাত্রীরা যখন স্টেশন থেকে বেরোনোর চেষ্টা করছেন তখনই অন্য প্ল্যাটফর্মে যাত্রীরা লোকাল এবং এক্সপ্রেস ট্রেন ধরতে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নেমে আসার চেষ্টা করেন। মূলত এক থেকে তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের সংযোগকারী ফুটব্রিজে মূহূর্তের মধ্যে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। মাত্র কয়েক ফুট চওড়া ফুট ওভারব্রিজে শুরু হয় প্রবল ঠেলাঠেলি। ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সিঁড়িতে পড়ে যান জনা কুড়ির মতো যাত্রী। তাদের উপরেই আছড়ে পড়ে বাকিদের ভিড়।

ঘটনাস্থলে গিয়ে রেলের তরফে সমন্বয়ের অভাব থাকার অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র দিন কয়েক আগেই অমৃতসরে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা স্থানীয় মানুষকে চাপা দিয়ে চলে গিয়েছে ট্রেন।

সেই প্রসঙ্গ মনে করিয়ে তিনি বলেন ‘রেলের কাজে উদাসীনতা এবং গাফিলতি দেখা যাচ্ছে। একটার পর একটা ঘটনা ঘটছে। সমন্বয়ের অভাব ঘটছে বলে মনে হচ্ছে। অমৃতসরের ঘটনা ধরেই বলছি দুর্ভাগ্যজনক। রাজ্য প্রশাসনিক স্তরে তদন্ত করবে। । মৃতদের ৫ লাখ এবং গুরুতর আহতদের ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। রেলমন্ত্রী অথবা রেলের কর্মকর্তাদের দোষ দেব না। তবে প্রাক্তন রেলমন্ত্রী হিসেবে জানি, কী কী সতর্কতা রেলকে নিতে হয়।’

রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দূর পাল্লার ট্রেনে পুজোর ভীড় ছিল। এছাড়া দক্ষিণের রাজ্যে চিকিৎসা করিয়েও অনেকে ফিরছিলেন। নাগেরকয়েল-শালিমার, হাওড়া-বেলদা-জলেশ্বর(মেমু), শালিমার-ভঞ্জপুর এক্সপ্রেস, হাওড়া-মেদিনীপুর লোকাল অল্প সময়ের ব্যবধানে সাঁতরাগাছি পেরিয়ে যায়। এছাড়াও হাওড়া-আদ্রা প্যাসেঞ্জার, শালিমার-বিশাখাপত্তনম এক্সপ্রেস, শালিমার-চেন্নাই এসি এক্সপ্রেস এবং হাওড়া-আমতা লোকালের সাঁতরাগাছি ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিল।

সূত্র : আনন্দবাজার

You Might Also Like