পশ্চিমবঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী পাচারচক্র আটক, ৩ বাংলাদেশি নারী উদ্ধার

আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্রের একটি দলকে পাকড়াও করল পশ্চিমবঙ্গ রেল পুলিশ। তাদের খপ্পর থেকে উদ্ধার হয়েছে দুই নাবালিকাসহ তিন বাংলাদেশি নারী। পাচার করার জন্য তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল।

বুধবার রাতে জি আর পি পুলিশের একটি দল পশ্চিমবঙ্গের  শিয়ালদা-বনগাঁ লাইনের গোবরডাঙ্গা রেল স্টেশন থেকে তাদের উদ্ধার করে। এসময় গ্রেফতার হয়েছে ৪ জন নারী পাচারকারী। আটক নারী পাচারকারীদের নাম- রীতা সরকার (২৮), শিল্পা মাঝি (২৬), স্বপন দাস (৪০) এবং রতন গুহ (৩৩)।

আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে অভিযুক্তদের স্থানীয় বনগাঁ মহকুমা আদালতে হাজির করে পুলিশ। রেল পুলিশ সূত্রে  জানা গেছে, ওই মহিলারা সম্প্রতি বাংলাদেশের যশোরে তাদের এক বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে যায়। সেখানে কিছু অপরিচিত লোকের সঙ্গে আলাপ হয় তাদের। পানীয়ের সাথে কিছু মিশিয়ে খাওয়ানোর ফলে তারা হুঁশ হারিয়ে ফেলে। পরে নদী পার করে তাদেরকে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ সীমান্তে আনা হয়।  সেখান থেকে তাদেরকে একটি অটো  রিকশা করে গোবরডাঙ্গা স্টেশানে নিয়ে যায় ওই পাচারকারীরা। সেখানে পাচারকারী এবং ওই মহিলাদের মধ্যে সন্দেহজনক কথাবার্তা শুনে তাদের ঘিরে ধরে স্থানীয় মানুষজন জিজ্ঞাসাবাদ করে। মহিলারা সব কথা খুলে বললে পাচারকারীদের মারধর করে লোকজন। টহলরত রেল পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই পাচারকারীদের গ্রেফতার করে।

রেলপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাচারকারীরা মোট ছয় জন থাকলেও দুইজন পালিয়ে যায়। ধৃত পাচারকারীদের বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের ভদ্রেশর, স্বরূপ নগর, গাইঘাটা এবং কাচড়াপাড়া এলাকায়।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ জি আর পি থানার ভারপ্রাপ্ত  কর্মকর্তা তপোজ্যোতি ঘোষ জানান, বাংলাদেশ থেকে পাচার করে আনা শিউলি (১৪), মুক্তা আক্তার (১৭) এবং আয়েশা খাতুনের (১৯) বাড়ি চট্টগ্রাম, নোয়াখালী এবং মুন্সিগঞ্জ জেলায়।

পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৬৩, ৩৬৬, ৩৭০ এবং ৩৭৬ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। পালিয়ে যাওয়া অন্য পাচারকারীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৬ এপ্রিল কোলকাতার সি আই ডি পুলিশকে সাথে নিয়ে মুম্বাই পুলিশের একটি দল উত্তর ২৪ পরগণার বনগাঁ এলাকা থেকে তিন নারী পাচারকারীকে গ্রেফতার করে। সেই সময় গ্রেফতার হয় গুরুদাস দাস, মদন মোহন বিশ্বাস (মলয়) এবং সুনাই সিং। তাদের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এবং গাইঘাটা এলাকায়। মুম্বাই পুলিশের তৎকালীন উপ নির্দেশক উদয় গণপতরাই দেশাই জানিয়েছিলেন, তারা বাংলাদেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের পাচার করে এনে কাজ দেয়ার নাম করে দেহ ব্যবসায় নামতে বাধ্য করে। বুধবার রাতের ঘটনাতেও ফের প্রমাণিত হলো যে, আন্তর্জাতিক নারী পাচারকারী চক্র এই এলাকাতে বেশ সক্রিয় রয়েছে।

You Might Also Like