হোম » পদ্মা সেতু ইস্যু : আরো বড় বিজয় আসবে

পদ্মা সেতু ইস্যু : আরো বড় বিজয় আসবে

admin- সোমবার, মার্চ ১৩, ২০১৭

আরিফুর রহমান  : ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রায় সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে পরাজয়ের বড় প্রতিশোধ নিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি। ভেবেছিল বাংলাদেশ আর কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারবে না। কিন্তু তাদের অশুভ উদ্দেশ্যকে ব্যর্থ প্রমাণ করে বাংলাদেশ আবার শুধু কোমর সোজা করে দাঁড়িয়েই ক্ষান্ত হয়নি, জোরে হাঁটতে শুরু করেছে। উন্নয়নের গলিপথ থেকে বেরিয়ে উঠে এসেছে রাজপথে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩২তম অর্থনৈতিক শক্তি। কিন্তু পরাজিত শক্তি থেমে নেই। এরা কখনো ধর্মের লেবাসে, কখনো সুশীলতার মুখোশে কাজ করে যায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিরোধী শক্তির এমনই একটি ষড়যন্ত্র পদ্মা সেতু দুর্নীতি ইস্যু । পদ্মা সেতু ইস্যুতে বিশ্বব্যাংকের ভূমিকা, কোনো অর্থায়ন না করেই দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করা, দুর্নীতি হয়েছে মর্মে রায় দিয়ে পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন বাতিল করা, আবার কানাডার আদালতে বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়া মিলে যে বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যর্থ প্রমাণ করার জন্য এখনো সমান তৎপর।

তবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার দক্ষ হাতে সেসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে চলেছেন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার যাত্রা শুরু করেছিল বিডিআর বিদ্রোহের মতো এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে। ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন কাজও আওয়ামী লীগকে শুরু করতে হয়েছে। ১৯৭১-এ যুদ্ধাপরাধের বিচার। এই বিচার ঠেকাতে ১৯৭১-এর পরাজিত শক্তি সর্বশক্তি নিয়ে তৎপর হয়ে ওঠে। একদিকে ধর্মীয় লেবাসের অপশক্তি, অন্যদিকে সুশীলতার ছদ্মবেশে শিক্ষিত একটি শ্রেণি। বিশ্বব্যাংক যখন দাবি করেছিল, পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি হয়েছে এবং তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তখন এদেশের কিছু পত্রিকা ও ‘সুশীল’ সমাজভুক্ত ব্যক্তির খবর প্রকাশের ধরন ও বক্তৃতা-বিবৃতি ঘেঁটে দেখলেই তাদের আজ্ঞাবহ রূপ আমাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে।

এখন আদালতে পদ্মা সেতু ইস্যুতে বিশ্বব্যাংকের পরাজয় শুধু আইনি নয়, একই সঙ্গে নৈতিকও। বিশ্বব্যাংকের অপতৎপরতার কারণে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির যেমন ক্ষতি হয়েছে, তেমনি স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বাস্তবায়ন পিছিয়েছে বহুদিন। আর ব্যক্তি আবুল হোসেনের পরিশ্রম ও সাধনায় গড়া ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিত্বকে ফেলেছে হয়রানিতে। দূর ভবিষ্যতে যেন এই বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের সঙ্গে এমন অপতৎপরতায় লিপ্ত হতে না পারে, সেজন্য আমাদের সরকারের উচিত হবে এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা।  ব্যক্তি আবুল হোসেনও চাইলে মামলা করতে পারেন।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলার পর গত কয়েক বছর ধরে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে জানিয়ে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন এক লিখিত বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি যে নির্দোষ তা কানাডার আদালতে প্রমাণ হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাংকের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থান্বেষী একটি মহল ষড়যন্ত্র করেছিল।

কানাডার আদালতের বক্তব্যও এমনই। বিশ্বব্যাংকের আনা দুর্নীতি চেষ্টার অভিযোগকে গালগপ্প, অনুমানভিত্তিক, গুজব, শোনা কথা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিচারক অন্টারিও সুপ্রিম কোর্টেও বিচারক ইয়ান নরডেইমার।

সৈয়দ আবুল হোসেনের কাছে বিশ্বব্যাংক ক্ষমা চাইবে তো! সৈয়দ আবুল হোসেনের সোনালি দিনগুলো কেড়ে নেওয়ার যৌক্তিকতা যে ছিল না, কানাডার আদালতের রায়ে তা প্রমাণিত। তিরস্কৃত আবুল হোসেনের এবার পুরস্কৃত হবার পালা!

আবুল হোসেন পুরস্কৃত হবেন কি না আমরা জানি না। কিন্তু বিশ্বব্যাংকের শাস্তি পাওয়া এখন সময়ের দাবি। শেখ হাসিনার সরকার অবশ্য শক্ত হাতে বিশ্বব্যংকের ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে তাদের নৈতিক পরাজয়ের স্বাদ দিয়েছেন। এখানেই শেষ হওয়া উচিত হবে না এই লড়াই।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে সব সময় সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সরব ভূমিকা রেখেছেন। যদি বলি বাংলাদেশের জন্মই হয়েছে সাম্রাজ্যবাদের গালে চপেটাঘাত করে, তাহলে অত্যুক্তি হবে না। বঙ্গবন্ধু লড়াই শেষ করতে পারেননি। কিন্তু জাতির জনকের দল এবং তার কন্যা সে লড়াই জারি রেখেছেন। অনেক ঝুঁকি আছে সামনে। কিন্তু সবাই সতর্ক ও সৎ থাকলে আরও বড় বিজয় আসবে।