পদবঞ্চিতদের ফের অবস্থান সোমবার

আবারো নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা। আগামী সোমবার সকাল থেকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করবে।

কমিটির বিষয়ে সমঝোতার আগে ছাত্রদল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক শনিবার পার্টি অফিসে যাওয়াতে চরম ক্ষুব্ধ পদবঞ্চিত নেতারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে সোমবার সকাল থেকে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়ার সিদ্ধান্ত তাদের।

পদবঞ্চিত নেতা তরিকুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘আব্বাস ভাই এবং আলাল ভাই সমঝোতা প্রক্রিয়ার দায়িত্বে ছিলেন। আলাল ভাই ম্যাডামের সঙ্গে কথা বলে আমাদের বলেছিলেন, সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কেউই পার্টি অফিসে যাবে না। এবং শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ও সুলতান সালাউদ্দীন টুকু ছাত্রদলের বিষয়ে কোনো ‍বিবৃতি দিবে না।’

টিটু বলেন, ‘আজ সকালে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে তার বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। এর পরপরই রাজিব ও আকরাম পার্টি অফিসে গেছে। সমঝোতার আগে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পার্টি অফিসে যাওয়াতে ছাত্রদলের নেতারা চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে। তারা সকালেই পার্টি অফিসে যেতে চেয়েছিল কিন্তু জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখানো হচ্ছে না।’

টিটু আরো বলেন, ‘আমরা আগামীকাল বিকেলে পরবর্তী করণীয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে মিটিং করবো। এছাড়া এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মির্জা আব্বাস ভাইয়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। তারপরও চেষ্টা চলছে। আগামীকাল রোববার বিকেলের মধ্যে যদি সিনিয়র নেতারা কোনো সমাধান না করেন তাহলে আমরা মিটিং করে আমাদের পরবর্তী কর্মসূচি দেবো। আমাদের পার্টির অফিসের সামনে অবস্থান করা ছাড়া বিকল্প থাকবে না।’

ছাত্রদলের সমঝোতা প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে সুলতান সালাউদ্দীন টুকুর ষড়যন্ত্রে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে গ্রেপ্তার করানো হয়েছে বলে তার অভিযোগ। একই সঙ্গে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজীব আহসানকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. আকরামুল হাসানের নাম ঘোষণা করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ২০১ সদস্য বিশিষ্ট (আংশিক) নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এই কমিটি ঘোষণার পর থেকেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি দিয়ে নতুন কমিটির দাবিতে আন্দোলন করছে পদবঞ্চিতরা।

পদবঞ্চিতদের মধ্যে রয়েছেন- আবু সাঈদ, আনিছুর রহমান তালুকদার খোকন, জাবেদ হাসান স্বাধীন, তরুণ দে, শহীদুল্লাহ ইমরান, ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, তরিকুল ইসলাম টিটু, রবিউল হাসান সবুজ, নুরুজ্জামান মুকিত লিংকন, মশিউর রহমান
মিশু, রাকিবুল ইসলাম রয়েল, শাহসুদ্দোহা, সুমন, হাবিবুর রহমান সুমন, রফিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান মিয়া, এস এম মোশারফ হোসেন মিশু, দবির উদ্দিন তুষার প্রমুখ।

বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজাউল হক ছাড়াও অনেকেই পদবঞ্চিতদের সঙ্গে রয়েছেন বলে জানা গেছে।