ন্যাটোর অস্ত্র ও সেনা মোতায়েন হচ্ছে রাশিয়ার দোর গোড়ায়

পেন্টাগন ট্যাংক, সাঁজোয়া যানসহ ভারি অস্ত্র এবং ৫০০০ সেনা কয়েকটি বাল্টিক তীরবর্তী এবং পূর্ব ইউরোপীয় কয়েকটি দেশে মোতায়েনের পদক্ষেপ নিয়েছে। ইউক্রেন সংকটকে কেন্দ্র করে ইউরোপে কথিত সম্ভাব্য রুশ আগ্রাসন মোকাবেলার জন্য এ পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস।

শীতল যুদ্ধের পর এই প্রথম পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে ভারি অস্ত্র মোতায়েনের পদক্ষেপ নিয়েছে আমেরিকা। পূর্ব ইউরোপীয় এ সব দেশ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

২০০৪ সালে ন্যাটোতে যোগ দেয় বাল্টিক তীরবর্তী দেশ লিথুনিয়া, লাটভিয়া এবং এস্তোনিয়া। সে সময়েও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছে এ সব দেশ এবং আমেরিকার সেখানে স্থায়ী ভাবে অস্ত্র বা সামরিক যন্ত্রপাতি মোতায়েন করে নি।

ন্যাটোর সাবেক প্রধান অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল জেমস জি স্টারিডিস বাল্টিক তীরবর্তী এবং পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলোতে মার্কিন ভারি অস্ত্র মোতায়েনের সম্ভব্য পদক্ষেপকে অর্থপূর্ণ নীতি পরিবর্তন হিসেবে অভিহিত করেছেন। অবশ্য এ জাতীয় পদক্ষেপ নেয়ার আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আশ্টন কার্টারকে পেন্টাগনের প্রস্তাব অনুমোদন করতে হবে।

এদিকে রাশিয়ার দোর গোড়ায় ভারি অস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনার প্রতি মস্কোর প্রতিক্রিয়া নিয়ে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর উদ্বেগের কথাও এ খবরে তুলে ধরা হয়েছে।

এ ছাড়া, নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবরের বিষয় প্রশ্ন করা হলে পেন্টাগন মুখপাত্র কর্নেল স্টিভেন এইচ ওয়ারেন জানান, মিত্রদের সঙ্গে আলাপ করে এবং পরিস্থিতি অব্যাহত ভাবে পর্যালোচনার ভিত্তিতে মার্কিন সেনাবাহিনী যন্ত্রপাতি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। অবশ্য, যন্ত্রপাতি আদৌ মোতায়েন করা হবে কি না বা কখন করা হবে এখনো সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয় নি বলেও দাবি করেন তিনি।

মার্চ মাসে ক্রিমিয়া গণভোটের মাধ্যমে রাশিয়ার যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর মস্কোর সঙ্গে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর টানাপোড়েন তুঙ্গে ওঠে। এদিকে, কথিত রাশিয়ার আগ্রাসনের মোকাবেলার জন্য শিল্পোন্নত সাত দেশের ফোরাম জি-সেভেনের বৈঠকে গত রোববার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

You Might Also Like