নৌবহরে যোগ দেয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ভারতের প্রথম পরমাণু ডুবোজাহাজ

ভারতের প্রথম পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডুবোজাহাজ আইএনএস অরিহন্ত দেশটির নৌবহরে যোগ দেয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়েছে। অরিহন্তকে নৌবহরে যোগ দেয়ার উপযুক্ত বলে প্রমাণ দেয়ার জন্য গত পাঁচ মাস ধরে গভীর সাগরে কয়েক দফা অনুশীলন এবং পরমাণু অস্ত্র ছোঁড়ার মহড়া চালাতে হয়েছে।

ভারতীয় নৌবাহিনীতে আইএনএস’কে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করার জন্য এখন শুধু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। অরিহন্তকে নৌবহরে যুক্ত করার উপযোগী করে তোলার প্রকল্পে জড়িত কয়েকজন কর্মকর্তা ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে এ সব তথ্য জানিয়েছেন।

ভারত পাঁচটি পরমাণু ডুবোজাহাজ নৌবাহিনীতে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং তার প্রথম হচ্ছে অরিহন্ত। অরিহন্তের পরমাণু অস্ত্র ছোড়া সম্পর্কিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা গোপনে করা হয়েছে। এতে অরিহন্তির সক্ষমতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অরিহস্তকে নির্মাণ করা হয়েছে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকুলীয় শহর বিশাখাপত্তমে। এ ছাড়া, গভীর সাগরের অনুশীলনও বিশাখাপত্তমের উপকুলে চালানো হয়েছে। গভীর সাগরের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অরিহন্তের সঙ্গে সহায়তাকারী হিসেবে তৎপরতা চালায় রাশিয়ার এ সংক্রান্ত রণতরী আরএফএস অ্যাপ্রোন। পরমাণু অস্ত্রবাহী ডুবোজাহাজের অস্ত্র ছোঁড়া সংক্রান্ত পরীক্ষার সময় এ ধরনের জাহাজের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। অবশ্য ভারতের এখনো এ শ্রেণীর কোনো জাহাজ নেই। গত নভেম্বরে ভারতে পৌঁছায় প্রুট শ্রেণীর ডুবোজাহাজকে সহায়তাদানকারী রণতরী আরএফএস অ্যাপ্রোন।

বিশাখাপত্তমে সদ্য সমাপ্ত ইন্টারন্যাশনাল ফ্লিট রিভিউ বা আইএফআর-এ রুশ নৌবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেছে অ্যাপ্রোন। অবশ্য আড়িপাতার শিকার হওয়ার আশংকার কারণে আইএফআর-এ যোগ দেয় নি আইএনএস অরিহন্ত।

৬,০০০ টন শ্রেণীর অরিহন্তে ৭০০ কিলোমিটারের বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম কে১৫ বা বিও৫ ক্ষেপণাস্ত্র বসানো হবে। এ ছাড়া, বসানো হবে সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পাল্লার কে৪ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও।

১৯৭০’র দশকে পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ডুবোজাহাজ তৈরির প্রকল্প নেয় ভারত। ১৯৮৪ সালে অরিহন্তের নকশা এবং এটি নির্মাণের প্রকল্প চূড়ান্ত করা হয়। ১৯৯৮ সালে অরিহন্ত নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এ কাজে ভারতের বেসরকারি খাতের ব্যাপক সহায়তা নেয়া হয়। ২০০৯ সালে অরিহন্তকে প্রথম উন্মোচন করা হয় এবং ২০১৩ সালে ডুবোজাহাজটিতে বসানো পরমাণু চুল্লি চালু হয়। আর এটি চালু করার কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলতি বছরে শেষ হয়। সব পরীক্ষায় উতরে গেছে অরিহন্ত এবং কোনো কোনো পরীক্ষার সফলতা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে। এ কথা জানিয়েছেন ভারতীয় এক কর্মকর্তা।

বর্তমানে নৌবহরের দায়িত্ব পালনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে আইএনএস অরিহন্ত। আগামী মাসের আগে অরিহন্তকে নৌবাহিনীতে অন্তর্ভূক্ত করার সম্ভাবনা নেই। ভারতের প্রধানমন্তী নরেন্দ্র মোদির সরকার এ সংক্রান্ত তারিখ নির্ধারণ করবে।

You Might Also Like