নেপাল পুলিশের ভারতীয় নারীকে ‘অপহরণের’ ঘটনায় সীমান্তে উত্তেজনা

নেপাল পুলিশের তত্‍‌পরতায় ফের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ভারতের বিহার সীমান্তে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, সন্তানসহ এক ভারতীয় নারীকে ‘অপহরণের’ অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। সেই উত্তেজনার মধ্যেই নেপাল পুলিশের বিরুদ্ধে ফের গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। পরে বিহার পুলিশের হস্তক্ষেপে পূর্ব চম্পারণ থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ওই নারী ও তার সন্তানকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় নেপাল পুলিশ। তারপরও সীমান্তে চাপা উত্তেজনা রয়ে গেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলার গোধাশান থানার অন্তর্গত খারসালওয়া এলাকায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সূত্রে খবর, শুক্রবার খারসালওয়া এলাকার বাসিন্দা ওই নারী তার সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে ভারত-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় ঘাস কাটছিলেন। আচমকা সেখানে হাজির হয় নেপাল পুলিশ। ওই নারীকে ঘাস কাটতে নিষেধ করা হয়। যুবতী প্রতিবাদ করে জানান, তিনি ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্যে রয়েছেন। কেন ঘাস কাটতে পারবেন না? এ নিয়ে কথা কাটাকাটির মধ্যেই নেপালি পুলিশ ওই নারীর গায়ে হাত তোলে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাকে বেধড়ক মারধর করে, সন্তানসহ নেপাল সীমান্তের মধ্যে থাকা পুলিশ পোস্ট তুলে নিয়ে যায়।

এ খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। নারীর যেখানে বাড়ি বিহারের সেই খারসালওয়া এলাকার মানুষ সীমান্তের কাছে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানাতে থাকে। ওই নারীকে অবিলম্বে ছেড়ে দিতে হবে বলে নেপাল পুলিশের কাছে দাবি জানায়। গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় তুমুল গণ্ডগোল বেঁধে যায়। সে সময় সীমান্তে জড়ো হওয়া লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায় নেপাল পুলিশ। ততক্ষণে পূর্ব চম্পারণের পুলিশের কাছে খবর পৌঁছলে, ফোর্স চলে আসে। নেপাল পুলিশের সঙ্গে কথা বলে সন্তানসহ ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়।

পূর্ব চম্পারণের পুলিশসুপার নবীনচন্দ্র ঝা জানান, ওই নারী ও তার সন্তানকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এলাকায় এখনও প্রচণ্ড উত্তেজনা রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। কেন তাকে নেপাল পুলিশ তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

ভারতীয় ভূখণ্ডের তিনটি অঞ্চল নেপাল তাদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করার পর থেকেই দু’দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়।

সূত্র: এই সময়

You Might Also Like