হোম » নেই সীমানা পিলার : বজ্রপাতে বেড়েছে প্রাণহানি

নেই সীমানা পিলার : বজ্রপাতে বেড়েছে প্রাণহানি

ঢাকা অফিস- Friday, August 11th, 2017

বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কমানোর লক্ষ্যে ব্রিটিশরা ভারত বর্ষে অসংখ্য ধাতুর পিলার বসিয়েছিল। এসব পিলার যে কোনো ধরনের চৌম্বক রশ্মি আটকাতে পারতো। কিন্তু এসব পিলার চুরি হয়ে যাওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ তথা এই অঞ্চলে বজ্রপাতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অবশ্য এ নিয়ে আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশেষজ্ঞরা একমত হননি। তারা বলেছেন, এ সম্পর্কিত কোন গবেষণালব্ধ তথ্য প্রমাণ তাদের জানা নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রিটিশ আমলে দেশের বিভিন্ন এলাকার সীমানায় মাটির নিচে পিলারগুলো পুঁতে রাখা হয়েছিল। পিলারগুলো পিতল, তামা, লোহা, টাইটেনিয়ামসহ চুম্বকের সমন্বয়ে তৈরি ছিল। এই পিলারকে ‘ম্যাগনেটিক পিলার’ বলা হয়। বজ্রপাতে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি ধারণা, ব্রিটিশ শাসনামলে মাটির নিচে বসানো জেলা, মহুকমা ও ইউনিয়নের সীমানা নির্ধারণী ধাতব পিলারগুলো (সীমানা পিলার) চুরি হয়ে যাওয়ায় বজ্রপাতে আহত-নিহতের সংখ্যা বেড়েছে।

এই পিলারগুলো বজ্রপাতের সময় উচ্চ ইলেকট্রিক চার্জ শোষণ করে আর্থিংয়ের কাজ করত বলে ধারণা করা হয়। তাই এই পিলারগুলো যতদিন বহাল ছিলো সে সময়ে বজ্রপাত হলেও আহত-নিহত কম হতো।

অভিযোগ রয়েছে, সীমানা পিলার মূল্যবান হওয়ায় একশ্রেণির অসাধু মানুষ গভীর রাতে এগুলো তুলে নিয়ে গেছে। অনেক সময়ই এসব পিলারসহ একাধিক ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে বলে খবরও পাওয়া গেছে। পিলার চুরির বিভিন্ন চক্র এখনও সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম খান বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তণ জনিত প্রভাব ঋতু উপর পড়েছে। মেঘ অসময়ে বেশি হচ্ছে, বাতাসে ধূলিকণার পরিমাণও বেশি, চার্জও বেশি হচ্ছে। এ জন্য বজ্রপাত বেশি হচ্ছে।’

পিলার তুলে নেওয়ায় বজ্রপাত বেড়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশরা সীমানা পিলার দিয়েছিল সম্ভবত লাইটনিং (বজ্র) মাটিতে চলে যাওয়ার জন্য। সীমানা পিলারগুলো বজ্র মাটিতে নিতে হেল্প করত। পিলার যদি উঠিয়ে নেওয়া হয় তবে তো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিছুটা নষ্ট হয়ে যেতেই পারে। সীমানা পিলার তুলে নেওয়ায় বজ্র বেড়েছে কিনা- এ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, ‘মাটির নিচের পিলার উঠিয়ে নেওয়ায় বজ্রপাতে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে- এ ধরনের কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা আবহাওয়া অধিদপ্তরের নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রিটিশ শাসনামলে মৌজা ছাড়াও আন্তঃবাউন্ডারি যেমন জেলা, উপজেলার সীমানায় মাটির নিচে পিলারগুলো বসানো হয়েছিল। কিন্তু এগুলোর সঙ্গে বজ্রপাতের সম্পর্ক নিয়ে তুলনামূলক কোনো গবেষণা আমাদের নেই। আগেও বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যু হতো কিন্তু সেগুলো এরকম প্রচার হতো না।’

এ ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. মোহসীন বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলের সীমানা পিলারগুলো আগে লাইটনিং অ্যারেস্টার হিসেবে কাজ করত বলে মনে হয়। বজ্রপাত মোকাবিলায় আমাদের কার্যক্রম একটি নির্দিষ্ট আকারে চলে আসবে। তখন আমরা এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করব। মানুষের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় বজ্রপাতে বেশি মানুষ মৃত্যুর একটি বড় কারণ।’

সচিবালয়ে কথা হয় রংপুর সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মো. জামাল উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সীমানা পিলারগুলো তুলে নেওয়ার পর বজ্রপাতে আহত-নিহতের সংখ্যা বেড়েছে বলে মুরুব্বিদের অনেকেই বলেন। তবে নিশ্চিত করে এটা বলা যাবে না। শুনেছি পিলারের অনেক দাম। রাতের আঁধারে মানুষ পিলার উঠিয়ে অনেক দামে বিক্রি করেছে বলে শুনেছি।’