নিলামে উঠছে বন্দরে আটকে থাকা আড়াই হাজার গাড়ি

দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বন্দরে অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকা প্রায় আড়াই হাজার আমদানি করা গাড়ি নিলামে উঠতে যাচ্ছে।

বন্দরের বিভিন্ন শেডে শুল্কসহ নানা জটিলতায় আটকে থাকা ওই সব গাড়ি নিলামে তোলার নির্দেশনা দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন।

সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা এনবিআরের নিলামের সদস্য বরাবর পাঠানো হয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে, কেন নিলামে তোলা হচ্ছে না? নিলামে তোলার জন্য ব্যবস্থা নিন। এনবিআরের একটি সূত্র বিষয়টি রাইজিংবিডিকে নিশ্চিত করেছে।

এনবিআর সূত্রে জানা যায়, কোটি টাকার ল্যান্ড ক্রুজার থেকে শুরু করে ছোট-বড় দামি-বেশি দামি নানা ব্র্যান্ডের প্রায় আড়াই হাজার গাড়ি ধুলোর আস্তরণ পড়ে অকেজো হয়ে যাচ্ছে। এ-সংক্রান্ত বিষয়ে চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি ওই নির্দেশনা দেন।

ব্র্যান্ডনিউ কিংবা রিকন্ডিশনড সব ধরনের আমদানি হওয়া গাড়ি রয়েছে বন্দরের বিভিন্ন শেডে। আবার অনেকগুলো গাড়ি খোলা মাঠে পড়ে আছে। এনবিআর থেকে প্রাপ্ত হিসাব অনুযায়ী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের ওই সব জায়গায় দুই হাজার ৪৯০টি গাড়ি আটকে আছে।

সূত্রমতে, ওই সময় পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৩৭৩টি গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এর মধ্যে অক্টোবর পর্যন্ত ২৭টি জাহাজে ৯ হাজার ৭৫৩টি এবং নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত দুটি জাহাজে করে ৬২০টি গাড়ি বন্দরে আসে। এই সময়ের মধ্যে ৮ হাজার ২৪৮টি গাড়ি খালাস হয়েছে। বাকিগুলো পড়ে আছে।

কোনো কোনো গাড়ি মাস ঘুরে বছরও পেরিয়ে গেছে। তারপরও তা নিলামে তুলে বিক্রি করতে পারেনি বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এনবিআরে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শেডে রাখা গাড়িগুলো থেকে অনেক যন্ত্রাংশ ও তেল চুরি হয়ে যাচ্ছে। চোরদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ ইঞ্জিন কন্ট্রোলার। এর একেকটির দাম দেড় থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত। আর সচরাচরই চুরি যাচ্ছে টায়ার, ডিভিডি, ব্যাটারি, এসিসহ ছোট ছোট যন্ত্রাংশ। আর তেল চুরি মামুলি ঘটনা। মাসে যে পরিমাণ যন্ত্রাংশ চুরি হয়, তার দাম ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। কখনো কখনো আস্ত গাড়িই হাপিস হয়ে যাচ্ছে। এক রাতে শেড থেকে ছয়টি গাড়ি চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সন্দেহের তির বন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের দিকে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিরাপত্তার নামে তারাই (নিরাপত্তাকর্মী) চুরির সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ছে। সবকিছুই ঘটছে কর্তৃপক্ষের নাকের ডগায়।

অন্যদিকে শুল্কায়ন জটিলতায় আমদানিকৃত প্রায় ৩০০ কোটি টাকার রিকন্ডিশনড গাড়ি চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দরে আটকে আছে। এসব গাড়িতে নতুন শুল্কহার কার্যকর করা না-করা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার সুরাহা হচ্ছে না দীর্ঘদিন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রিকন্ডিশনড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স এন্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বারবিডা) প্রাক্তন সভাপতি আবদুল হক বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ শুল্কায়ন জটিলতায় আটক গাড়ি ছাড় করতে আমাদের পক্ষ থেকে নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় আমাদের পক্ষে নির্দেশনা দিলেও এনবিআরেরর পক্ষ থেকে ক্লিয়ারেন্স পাচ্ছি না।’

তিনি আরো বলেন, ‘এমনকি অর্থ উপদেষ্টা মসিউর রহমানকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি আমাদের পক্ষে একটি তদন্ত রিপোর্ট দেওয়ার পরও গাড়ি ছাড় করা হয়নি। আমার ও আমাদের সংগঠনের অনেকেরই আমদানি করা গাড়ি বছরের পর বছর আটকা পড়ে আছে। গাড়ি ছাড় না হওয়ার কারণে আমরা অনেকেই পথের ফকির হয়ে গেছি।’

You Might Also Like