নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ট্রাইব্যুনাল এলাকা

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মীর কাসেম আলীর রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। একের পর এক নিরাপত্তা প্রাচীর পার করে ট্রাইব্যুনালে প্রবেশ করতে হচ্ছে সংবাদকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের। তবে নতুন করে ট্রাইব্যুনালে এবার আর্মড পুলিশকে নামানো হয়েছে। সারা দেশের স্পর্শকাতর স্থানে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে। রাজধানীজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রাখা হয়েছে সতর্ক অবস্থায়।
রোববার সকালে ট্রাইব্যুনাল এলাকা ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

রোববারের রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে শনিবার সন্ধ্যা থেকেই ট্রাইব্যুনাল এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এলাকায় বেশ কিছু চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে অতিরিক্ত টহল পুলিশ। সোয়াত বাহিনীর পাশাপাশি সাদাপোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে তৎপর রয়েছে পুলিশ।

সরেজমিন দেখা যায়, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে ট্রাইব্যুনালের আশপাশে প্রেসক্লাব, দোয়েল চত্বর, শিশু একাডেমীসহ সড়কগুলোতে সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। মৎস্য ভবন থেকে পল্টন মোড় পর্যন্ত একদিকের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় সন্দেহ হলেই সাধারণ যাত্রীদের তল্লাশি করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার ভোর থেকে ট্রাইব্যুনালের সবগুলো প্রবেশপথ, আশপাশের সব সড়ক ও পুরো এলাকায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। রাত থেকে দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে সিসি ক্যামেরা। পর্যবেক্ষণ করা হবে, কোথাও কোনো নাশকতা চালানো হয় কি না।
রাজধানীর নিরাপত্তা বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এলাকাসহ সবখানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকার আসল কারণ, হরতালেরর মধ্যেই আরো একটি রায় হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, ফাঁসির রায় হলে নতুন করে হরতালের ঘোষণা আসতে পারে, টানা হরতালের ডাক দিতে পারে জামায়াত।এটা হলে অরাজকতা হতে পারে, বিক্ষোভ হতে পারে- সবকিছু মাথায় রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। র্যা ব, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড, রায়ট কার, এপিসি কার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

You Might Also Like