হোম » নিউ ইয়র্কে যোগ হলো আর একটি সাপ্তাহিক- প্রথম আলো

নিউ ইয়র্কে যোগ হলো আর একটি সাপ্তাহিক- প্রথম আলো

এখন সময় ডেস্ক- Tuesday, March 28th, 2017

নিউ ইয়র্ক থেকে প্রথম আল’র সাপ্তাহিক সংস্করণ প্রকাশ শুরু হয়েছে। গত ২৬ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পত্রিকাটির উদ্বোধন করা হয়। নিউইয়র্কের ইয়র্ক কলেজ অডিটরিয়ামে প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকা সংস্করণের উদ্বোধন করেন ট্রান্সকম গ্রুপ ও মিডিয়াস্টারের চেয়ারম্যান চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান।
এখন থেকে প্রতি শুক্রবার প্রথম আলো সাপ্তাহিক প্রকাশিত হবে নিউ ইয়র্কের নর্দান লাইটস মিডিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানায়।
প্রকাশনা অনুষ্ঠানে মার্কিন কংগ্রেসে বাংলাদেশ ককাসের ভাইস চেয়ারম্যান গ্রেস মেংসহ মূলধারার রাজনীতিকরাও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন। কংগ্রেস ওমেন গ্রেস মেং বলেন, তাঁরা মুক্ত ও স্বাধীন সংবাদপত্রের প্রতি সমর্থন জানিয়ে যাবেন। নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে লতিফুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের জিডিপি ৭ শতাংশের কাছাকাছি, যা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য মার্কিন কংগ্রেস ওমেন গ্রেস মেং, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রতিনিধি, বৈদেশিক মিশনে কর্মরত বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তাসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বলেন, প্রথম আলোর এই যাত্রা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। তিনি উত্তর আমেরিকায় প্রথম আলোর সমৃদ্ধি কামনা করেন।
শুরুতে বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সংগীত ও এরপরে প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকার থিম সংয়ের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করে বিপার শিশু শিল্পীরা।
স্বাগত বক্তব্য দেন নর্দান লাইটস মিডিয়ার প্রধান নির্বাহী সাইফুল সিদ্দিক। তিনি বলেন, এত দিন প্রথম আলো দেশের কথা বলেছে, এখন থেকে প্রবাসীদের কথাও সমানভাবে বলবে। বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি হাসান ফেরদৌস।
টনি ডায়েসের উপস্থাপনায় মঞ্চে আসেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক কথা সাহিত্যিক আনিসুল হক। নিউইয়র্কের ইয়র্ক কলেজ অডিটরিয়ামে প্রথম আলোর সাপ্তাহিক উত্তর আমেরিকা সংস্করণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজ্য থেকে ছুটে আসা লোকজনের মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে তিনি বলেন, বাঙালি বীরের জাতি, বাঙালির জয়যাত্রা ঠেকানো যায় না। উপস্থিত দর্শকদের প্রথম আলো নিয়ে ধারণা দেন তিনি।
এ সময় গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহত ফারাজ হোসেনকে নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। এই পর্বে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানানো হয় ফারাজের মা এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিমিন হোসেন ও নানা লতিফুর রহমানকে। এ সময় লতিফুর রহমান ও সিমিন হোসেনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন নর্দান লাইটস মিডিয়ার সিইও সাইফুল সিদ্দিক ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ইকবাল আনোয়ার।
অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। আরও ছিল শিল্পী সেলিম চৌধুরী, ফুয়াদ, পুনম ও কৃষা তিথির পরিবেশনা। অনুষ্ঠানে আগত দর্শকের জন্য ছিল রাফেল ড্র। নিউইয়র্কের মনির হোসাইন পান নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক বিমান টিকিট।
অনুষ্ঠানে সকল দর্শকদের সাপ্তাহিক প্রথম আলোর সৌজন্য কপি দেওয়া হয়। সাপ্তাহিক প্রথম আলোর উত্তর আমেরিকার ব্যুরোপ্রধান ইব্রাহীম চৌধুরীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।