নিউ ইয়র্কে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন

গত ৫ জানুয়ারী সোমবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের একটি রেস্টুরেন্টে জাতীয় পার্টি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির ২৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।চলমান রাজনীতি বাংলাদেশ সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, যুক্তরাষ্ট্র শাখার জাতীয় পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম. জসীম উদ্দিন জসীমপ্রধান আলোচক ছিলেন সাবেক সাংসদ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ডেমোক্রেটিক রিপাবলিকান পার্টির আহবায়ক জনাব আনিসুজ্জামান খোকন। তিনি বলেন, ৭১ এর চেতনায় দেশ চলছে না, বাংলাদেশ এখন টাউটবাটপারধাপ্পাবাজদের নিয়ন্ত্রণে । আমরা দেশ স্বাধীন করেছিলাম একটি বৈষম্যহীন কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য। তিনি বলেন দেশের জন্য এখন সঠিক ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রয়োজন। তারেক রহমানের সাম্প্রতিক উক্তি সম্পর্কে জনাব খোকন বলেন, শেখ মুজিব রাজাকার ছিলেন না, এই ইতিহাস পড়ায় ভুল তারেক রহমানের বাবাও একজন মুক্তিযোদ্ধা ও একজন যোগ্য দেশ পরিচালক ছিলেন। সঠিক ইতিহাস না জেনে ঢালাওভাবে মন্তব্য থেকে বিরত থাকার জন্য তিনি সকল পক্ষের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন দেশে এই দুইদলের ক্ষমতাদখলের লড়াই থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ আপামর জনতার বিপ্লব। ভোট ছাড়া নির্বাচনের তিনি সমালোচনা করেন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক জাপা, কেন্দ্রীয় নেতা কমিউনিটি লিডার আলী ইমাম সিকদার বলেন, জাতীয় পার্টি যে উদ্দেশ্যে জন্ম হয়েছিলো পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি এরশাদ তার ওয়াদা থেকে সরে যাওয়ার কারণে একদল রাজনীতিবিদ তাকে স্বৈরাচার উপাধি দেন। কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়নে একজন শক্তিশালী প্রশাসক এরশাদ, এটা মানতে হবে। দুইনেত্রী সম্পর্কে তুলনামুলক আলোচনা করে তিনি বলেন ১৯৯১ থেকে আপনারা দুই জন ক্ষমতার পালাবদল করেছেন। দুজনের মাঝে ক্ষমতার পালাবদলের দৌড় প্রতিযোগিতার জন্য পরাশক্তির দরজায় ভিক্ষাবৃত্তি করছেন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব এ্যাডভোকেট বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, জাতীয় পার্টি এরশাদের বড় এচিভমেন্ট হলো প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ, উপজেলা ব্যবস্থা। জাসদের প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থার দাবী দীর্ঘদিনের। আমি মনে করি এই ব্যবস্থা চালু হলে দেশের মানুষের কল্যাণ হবে। এক কথায় বলেন চলমান বাংলাদেশ সুখে নেই, জনতার কল্যাণে সবাই রাজনীতি করে, তবে রাজনীতি এখন নেতানেত্রীর কল্যাণে ব্যস্ত। এই ধারা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে

আলোচনায় অংশ নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা, জাপা কেন্দ্রীয় নেতা জনাব আলতাফ হোসেন বলেন, জাতীয় পার্টির বছরের শাসনামল ছিলো একটি স্বর্ণউজ্জ্বল যুগ। এরশাদের প্রসংশা করে তিনি বলেন নেতা আসবে, নেতা যাবে তবে এরশাদের মত নেতা এই ভবে আর আসবে না। বাংলার মানুষ এরশাদকে আবার রাষ্ট্রপতি দেখতে চায়। এরশাদই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারকবাহক। এরশাদই বলেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান। চলমান ক্ষমতার মোরগ লড়াই থেকে বেরিয়ে একটি সুষ্ঠ, সুন্দর, সকল গণতান্ত্রিক শক্তির অংশগ্রহণে অবাধ নির্বাচন প্রয়োজন

জাতীয় যুবসংহতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব মোস্তাক আহমেদ বাবুল বলেন, দেশ দেশের মানুষ ভালো নেই। দেশ চলছে তার অজানা গন্তব্যে, এখন প্রয়োজন এরশাদের। জাপা যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র সহসভাপতি জনাব সাব্বির আহমেদ লস্কর, বলেন জাতীয় পার্টি একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হয়ে থাকবে। সম্প্রতি রওশন এরশাদের ঘোষণা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জাতীয় পার্টির কোন এমপি আর মন্ত্রী পদে থাকবেন না। তিনি ঘোষণাকে স্বাগত জানান

জাপা যুক্তরাষ্ট্রের সহসভাপতি জনাব মাহাবুবুর রহমান অনীক বলেন, জাতীয় পার্টি দেশ পরিচালনায় তার যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। গণতন্ত্র রক্ষার জন্য ৫ই জানুয়ারী নির্বাচনে অংশ নিয়ে এই দল দেশকে একটি রক্তপাত থেকে বাঁচিয়েছে। তিনি বাংলাদেশকে উন্নত দেশ ফ্রান্সের মডেল হিসাবে অনুকরণ করার জন্য বলেন। তিনি বলেন বাংলার মানুষ সংগ্রামী পারিশ্রমি ।

Japa-1আলোচনা সভার সভাপতি এম. জসীম উদ্দিন বলেন, জাতীয় পার্টি জন্ম থেকে একজন কর্মী হিসেবে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসাবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মী হিসেবে দেশের তৎকালীন সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আমরা জন ছাত্রনেতা এরশাদের ক্ষমতাগ্রহণকে সমর্থন করেছিলাম। উনারা হলেন, তৎকালীন মহসিন হল ছাত্রসংসদের সহসভাপতি বীর মুক্তযোদ্ধা, বর্তমানে মন্ত্রী জনাব মজিবুল হক চুন্নু, হিউস্টনে বসবাসরত মহসিন হল ছাত্র সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন জামাল, ছাত্রদলের সাবেক নেতা পরবর্তীতে ফেস ইউনির্ভাসিটির প্রভাষক আনিসুর রহমান খান জনি, তৎকালীন ছাত্রদল নেতা শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের জিএস নাসিম। সেই সমর্থন ছিলো একটি যুগপোযোগি ধারাকে সমুন্নত রাখার প্রত্যয়। অনেক পথ পেরিয়ে আজ ২৯টি বছর নয় ৩২টি বছর। এরশাদের শাসন জনগণ এখনও ভুলে নাই। তথাকতিথ ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানের নামে কেরানীগঞ্জের আমান গংদের গণ চাঁদাবাজি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়। ডাকসুর নেতৃত্বে এই গণচাঁদাবাজি ছিলো চাাঁদবাজদের নগরী ঢাকা। তৎকালীন ছাত্রনেতারা একেকজন শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন ৯০ এর বদৌলতে। ১৯৯১ থেকে আজ পর্যন্ত দুইদলের ক্ষমতার পালাবদল, তারপরও এরশাদের প্রয়োজন। দুই নেত্রী তাদের প্রয়োজনে (তাদের ভাষায়) স্বৈরাচার এরশাদের সাথে পিরিত করেন। কেননা দুই নেত্রীর এমিকেবল লিমিটেড কোম্পানী এখন বাংলাদেশ। এর থেকে বের হয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, দুজন দাদী/নানীর স্বপ্ন দুই রাজপুত্রকে সিংহাসনে বসিয়ে অবসর হানিমুনে যাবেন। বাংলার আপামর জনতা, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজ তা করতে দিবে না। স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে, নেতৃত্ব দিবে সেই রাজনৈতিক কর্মী তা বেরিয়ে আসবে সাধারণ জনতার মাঝ থেকে। পরিশেষে সভাপতি, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় পার্টির বর্তমান সাংগঠনিক অবকাঠামোর দূর্বলতা কাটিয়ে এরশাদ প্রিয় সকল প্রবাসী ভাইবোনদেরকে জাতীয় পার্টির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এরশাদের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য উদাত্ব আহবান রাখেন

আরো আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগ নেতা সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন, বিশিষ্ট সমাজকর্মী জনাব শাহ্ সহিদুল হক সাঈদ, জাপা যুক্তরাষ্ট্রের সহসভাপতি তোফায়েল আহমেদ, সাবেক ছাত্রনেতা, জাতীয় পার্টি যুক্তরাষ্ট্রে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব জাফর মিতা। উপস্থিত ছিলেন জাপা যুক্তরাষ্ট্রের সহসভাপতি মোঃ ফারুক আহম্মেদ, সহসাধারণ সম্পাদক কে. . নাসিম, ফয়জুল্লাহ নাঈম, স্টেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ হাসান মিলন, বিশিষ্ট গায়িকা আয়েশা খানম, মাহফুজ আহম্মেদ, তারেক আহমেদ প্রমুখ।

You Might Also Like