নায়ক সংকটে অপু বিশ্বাস

বয়স হয়েছে। শরীরও ঠিকমতো সায় দিচ্ছে না। মাঝে মাঝেই মুটিয়ে যান। বহু কসরত করে একটু কমালেও আবার মুটিয়ে যাচ্ছেন। এই বাস্তবতার মুখোমুখি এখন অপু বিশ্বাস। ক্যারিয়ারের প্রায় পুরোটা জুড়েই শাকিবের নায়িক হয়েছেন। শাকিব ছাড়া অন্য কারো সাথে সিনেমা করতেন না। ফলে দর্শকের কাছেও একঘেয়ে হয়ে গেছেন। একই ধাঁচের অভিনয় দেখতে দেখতে দর্শক তাকে অনেকটা পরিত্যাগ করেছেন। এখন এমন অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে, শাকিবের সাথে দুয়েকটি সিনেমা ছাড়া অপুর হাতে কোন সিনেমা নেই। শাকিবও আর আগের মতো পরিচালকদের বলেন না, অপুকেই নিতে হবে।

অর্থাৎ যে শাকিবের সাথে অপুর ক্যারিয়ার ভেসে ছিল, সেই শাকিবই এখন তাকে রিজেক্ট করেছে। দুয়েকজন পরিচালক শাকিব বাদে অপুকে নিতে চাইলেও তার নায়ক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কারণ এখন যেসব তরুণ নায়ক কাজ করছে, তারা প্রত্যেকেই অপুর চেয়ে বয়সে ছোট। তো নায়ক যদি নাই পাওয়া যায়, তবে অপুর বেকার হওয়া স্বাভাবিক। আর এজন্য অপু নিজেই দায়ী। এক শাকিবের উপর ভর করে যেমন নিজের ক্যারিয়ার একমুখী করেছেন, তেমনি সময়ের ফেরে পড়ে সেই ক্যারিয়ার নিঃশেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় অপু এখন অন্য নায়কদের সাথে কাজ করতে চাইলেও বেমানান হওয়ায় পরিচালকরা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাকে নিতে পারছে না। শাকিবও নিজের ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখার জন্য নতুন নায়িকাদের সাথে সিনেমা করছেন। অপুর নামটি ভুলেও মুখে আনছেন না।

বরং কেউ অপুর কথা বললে, অন্য নায়িকাদের কথা বলছেন। এটা অপুর জন্য আরও পীড়াদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার জন্য আরও দুঃখের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যখন কোন কোন নির্মাতা তাকে অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করার কথা বলেন। যাই হোক, বাস্তবতা কাউকেই ছাড় দেয় না। অপু এখন এই বাস্তবতার মধ্যেই পড়েছেন। তবে অপু যদি এখন কেবল নায়িকা হতে চান, তবে তার ক্যারিয়ারের ইতি ঘটতে পারে। আর যদি টিকে থাকতে চান, তার জন্য উপায় হচ্ছে বড় বোন বা ভাবির চরিত্র বেছে নেয়া।

এসব চরিত্রে অপু অভিনয় করতে চাইলে নিশ্চিতভাবেই অনেকেই তাকে নিয়ে সিনেমা করবেন। কারণ চলচ্চিত্রে এ ধরনের চরিত্রে অভিনয় করার মতো শিল্পীর বড়ই অভাব রয়েছে। আর যদি নায়িকা হতে চান, তবে তার হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কাই বেশি। এখন দেখার বিষয়, অপু কি সিদ্ধান্ত নেন।

You Might Also Like