নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে সতর্কাবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রোববার ভোর ৬টা থেকে সারা দেশে জামায়াতের ডাকা দ্বিতীয় দিনের হরতাল শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে আজ সকালে একই অপরাধের মামলায় জামায়াতের আরেক শীর্ষস্থানীয় নেতা মীর কাসেমের রায় ঘোষণা করবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
চলমান হরতাল এবং রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
হরতালের শুরুতে সকালে রাজধানীর কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মিরপুর-১০ নম্বর, মিরপুর-১১ নম্বর, তেজগাঁও, মহাখালী, গাবতলী, শ্যামলী, মোহাম্মদপুরসহ অন্যান্য এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়েছে।
মিরপুর-১০ নম্বরে দায়িত্বরত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, জামায়াতের ডাকা হরতালে যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য কঠোরভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে পুলিশ। ভোর থেকে দফায় দফায় বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে তারা।
তিনি বলেন, সাদাপোশাকের পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা পুলিশের সতর্ক নজরদারিতে তারা যেকোনো সহিংসতা এড়াতে কাজ করে যাচ্ছেন। র‌্যাবের পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মাঠে রয়েছে।
মিরপুর-১০ নম্বরে রায়টকার, প্রিজন ভ্যানসহ পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়ে।
পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরো জানান, সকাল থেকে পিকেটিং বা কোনো ধরনের নাশকতা হয়নি। তিনি আশা করেন, বড় ধরনের সহিংসতা হবে না।
শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাজধানীসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ, র‌্যাবের পাশাপাশি বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে অতিরিক্ত টহল পুলিশ। সোয়াত বাহিনীর পাশাপাশি সাদাপোশাকের গোয়েন্দা সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। রাজধানীতে সক্রিয় রয়েছে র‌্যাবের একাধিক টিম।
বিজিবির সদর দফতর (মিডিয়া বিভাগ) থেকে বলা হয়েছে, সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন ইস্যুতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছিল।

You Might Also Like