নারীদের কাছে যেতাম নিজের স্বার্থে : নওয়াজউদ্দিন

তারকাদের জীবন অনেক ঘটনাবহুল হয় তাতে কোনো সন্দেহ নেই। দর্শকদেরও এ নিয়ে বেশ কৌতূহল থাকে। তাই বিভিন্ন তারকাকে দেখা যায় আত্মজীবনী লেখতে। বলিউডের অনেকেই এখন সেই পথে হাঁটছেন। তবে তাদের আত্মজীবনী প্রকাশের পর থেকেই সামনে উঠে আসছে এমন কিছু ঘটনা যা সবাইকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে। কিছুদিন আগে ঋষি কাপুর ও করন জোহরের প্রকাশিত জীবনীতে এমনই কিছু তথ্য বেরিয়ে আসে।

এবার আলোচনায় অভিনেতা নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকীর জীবনী ‘অ্যান অরডিনারি লাইফ’। বইটি লিখেছেন ঋতুপর্ণা চ্যাটার্জি। যদিও এখনো বইটি প্রকাশিত হয়নি। তবে তার আগে একটি ওয়েবসাইটে বইটির কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরা হয়েছে। জীবনীতে তার জীবনে প্রেম নিয়ে কথা বলেছেন এ অভিনেতা।

বইটিতে নওয়াজ জানান, জীবনের প্রথম সুনিতা নামের একটি মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি। তখন মুম্বাইয়ে মঞ্চে কাজ করতেন এ অভিনেত্রী। অন্যদিকে সুনিতা গ্র্যাজুয়েট। তাদের মধ্যে সম্পর্ক বেশ ভালোই চলছিল। সুনিতা ছিল পাহাড়ি মেয়ে। একদিন তিনি তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। তবে ফিরে এসে নওয়াজের সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেন। নওয়াজ সর্বশেষ যখন তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তখন সুনিতা জানান, তিনি তার ক্যারিয়ারে মনোযোগী হতে চান। নওয়াজকেও ক্যারিয়ারের প্রতি মনোযোগী হতে বলেন তিনি। এরপর ভীষণ হতাশ হয়ে গিয়েছিলেন এ অভিনেতা। পরবর্তীতে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন তিনি।

এরপর সুজান নামের এক ইহুদি নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান নওয়াজ। তারা বেশ কিছুদিন একসঙ্গে ছিলেন। এমনকি তাকে বিয়ে করার কথাও ভেবেছিলেন গ্যাং অব ওয়াসিপুর অভিনেতা। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্কটি টেকেনি।

তারপর অভিনেত্রী নিহারীকা সিংয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী। এ প্রসঙ্গে তার বইতে নওয়াজ লিখেছেন, ‘মিস লাভলি সিনেমার একটি নাচের দৃশ্যের শুটিং চলছিল। তখনই অভিনেত্রী নিহারীকা সিংয়ের মধ্যে কিছুটা পরিবর্তন দেখা দিল। তারপর থেকে সে আমার কাছ থেকে দূরে থাকতে শুরু করে। তার আগে আমার সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করত। কথা বলত। আমি ভাবলাম তাকে জিজ্ঞেস করব। তবে উত্তর পেলাম না। একদিন আমার বাড়িতে মাটন খাওয়ার নিমন্ত্রণ করলাম। সে এল। মাটন খেল। প্রশংসাও করল।’

‘এরপর আমাকে মটন খাওয়ানোর জন্য তার বাড়িতে ডাকল। আমি সেদিন প্রথমবার নিহারীকার বাড়ি গেলাম। দরজা বন্ধ ছিল। তা খোলামাত্র দেখে অবাক হলাম। দেখলাম, হাজারটা মোমবাতির আলো। আমি ওকে জড়িয়ে ধরে সোজা শোবার ঘরে নিয়ে চলে গেলাম। সেই থেকে শুরু হলো আমাদের প্রেম। মাত্র দেড়বছর ছিল সেই সম্পর্ক।’

এসব সম্পর্ক নিজের স্বার্থে গড়তেন জানিয়ে নওয়াজ বলেন, ‘আর পাঁচজন নারীর মতো নিহারীকাও চাইত আমি মিষ্টি মিষ্টি কথা বলি। হাসিঠাট্টা করি। তবে আমি স্বার্থপর ছিলাম। আমি নারীদের কাছে নিজের স্বার্থে গিয়েছি। আমি যেসব নারীদের সঙ্গে মিশেছি আমাকে নিয়ে তাদের অনেক অভিযোগ থাকত। আমি তো নিজের প্রয়োজনে যেতাম। অন্য সময় তো ফোনও তুলতাম না। নিহারীকার জন্যই তাদের বাড়িতে যেতাম। নিজের আগ্রহে যেতাম। একদিন গেলাম। তাকে জড়িয়ে ধরলাম। সে বলল, আমার সঙ্গে মেলামেশা বন্ধ করে দেবে। সম্পর্ক শেষ করবে। আমি কাঁদতে লাগলাম। ক্ষমা চাইলাম। সে কোনো কথা শুনল না। দুমাস পরে আর একটি মেয়ে আমার জীবনে এল। তখন বুঝতে পারিনি, তাকে আমি বিয়ে করব।’

You Might Also Like