নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭, আহত ১২

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এবং বগুড়া সদরে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছে।

ফতুল্লার পাগলা পশ্চিম রসুলপুর ভাঙ্গাপুলে সোমবার রাত পৌনে ১১টায় যাত্রীবাহী একটি হিউম্যান হলারকে ট্রেন ধাক্কা দিলে পাঁচজন নিহত হয়। এছাড়া আহত হয়েছেন আরো ১২ জন। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই কুদ্দুস মিয়া জানান, পোস্তগোলা হতে পাগলা রসুলপুল এলাকা পর্যন্ত হিউম্যান হলার চলাচল করে। সোমবার রাতে পোস্তগোলা থেকে ছেড়ে আসা ১০-১২ জন যাত্রীবাহী একটি হিউম্যান হলার পাগলা ভাঙারপুল এলাকাতে আসলে কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জগামী ট্রেনের আগে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে দ্রুত হিউম্যান হলারটি যেতে ব্যর্থ হলে ট্রেন সজোরে ধাক্কা দিলে দুমড়ে মুচড়ে রেলাইনের পাশে পড়ে যায়। ওই সময়ে আশেপাশের কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে আহত হয় হিউম্যান হলারসহ আশেপাশে থাকা অন্তত ১৫-১৬ জন। তাদের মধ্যে ঘটনাস্থলেই একজন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে আরো দুইজনের মৃত্যু ঘটে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর আরো ২ জনের মৃত্যু ঘটে ।

স্থানীয়রা জানায়, হিউম্যান হলারটি পাগলা হতে পোস্তগোলা পর্যন্ত চলাচল করে। আর পশ্চিম রসুলপুর ভাঙ্গাপুলে রেল ক্রসিংটি অবৈধ। এখানে রেলের পক্ষ থেকে কোন বৈধ গেইটম্যান নেই। এছাড়া এলাকায় চলাচলরত হিউম্যান হলার স্থানীয় পাগলা এলাকার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী মীর হোসেন মিরু নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। হিউম্যান হলারের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বলে স্থানীয়রা জানান।

এদিকে, বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া এলাকায় মঙ্গলবার সকালে ট্রাকের ধাক্কায় পিকআপ চালকসহ এক নারী নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন- পিকআপ চালক আসাদুজ্জামান (২৫) ও হোটেল বাবুর্চি রাহেলা বেগম (৩০)।

নিহত পিকআপ চালক জয়পুরহাট জেলার বাসিন্দা এবং রাহেলা বগুড়া সদরের মহিষবাথান গ্রামের জনাব আলীর স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদশীরা জানান, নীলফামারীর ডোমার থেকে বালু বোঝাই একটি ট্রাক বগুড়ার দিকে আসার পথে সকাল সাড়ে ৫টার দিকে বাঘোপাড়া বাজারের কাছে ট্রাকটি বিপরীতমুখী একটি পিকআপকে ধাক্কা দেয়। এরপর ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পার্শ্বে একটি হোটেলে ঢুকে পড়ে। ট্রাকের ধাক্কায় পিকআপ চালক আসাদুজ্জামান (২৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। হোটেলে ট্রাক ঢুকে পড়ায় হোটেলে সেখানে অবস্থানরত বাবুর্চি রাহেলা বেগম (৩০) ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মারা যান।

হাইওয়ে পুলিশের এসআই আব্দুল কাদের জানান, সকাল সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ট্রাকের নীচে চাপা পড়ে থাকা রাহেলা বেগমের লাশ উদ্ধার করা যায়নি। ট্রাক ও পিকআপটি আটক করা হয়েছে।

You Might Also Like