নারায়ণগঞ্জে সেভেন মার্ডারের সঙ্গে র‌্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার নাম রয়েছে

র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব.) আরিফ হোসেন নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সেভেন মার্ডারের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। গতকাল বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কে এম মহিউদ্দীন তার জবাববন্দি গ্রহণ করেন। দীর্ঘ ৪ ঘণ্টার জবানবন্দিতে আরিফ হোসেন ৭ জনকে অপহরণের পর কোথায়,কিভাবে হত্যা করে লাশ ফেলে দেয়া হয়েছে তার বিশদ বর্ণনা দিয়েছেন এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তিনি ছাড়াও আরও কারা কারা জড়িত তাদের নামও বলেছেন। এর মধ্যে র‌্যাবের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার নাম রয়েছে। এ ছাড়া জবানবন্দিতে আরিফ হোসেন ৭ জনকে অপহরণ ও হত্যার প্রধান আসামি আলোচিত নাসিক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তার কয়েকজন লোকের নামও বলেছেন। এদিকে আইনজীবী চন্দন সরকার হত্যা মামলায় লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদকে চতুর্থ দফায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। সেভেন মার্ডার মামলার আসামি রিমান্ডে থাকা মেজর (অব.) আরিফ হোসেনকে কঠোর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন থেকে গতকাল সকাল ৮টার দিকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম মহিউদ্দীনের আদালতে হাজির করা হয়। জবানবন্দি দানে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য বেলা ১১টা পর্যন্ত আরিফ হোসেনকে সময় বেঁধে দেন আদালত। বেলা ১১টার পর আরিফকে বিচারকের খাসকামরায় নেয়া হয়। সেখানে ৪ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ জবানবন্দি দেন আরিফ হোসেন।

সূত্র মতে, দু’টি হত্যা মামলার মধ্যে নাসিক প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৫ জনকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় ২০ পৃষ্ঠা এবং সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় ১৭ পৃষ্ঠার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে আদালত।
আদালতের একটি সূত্র জানায়, স্বীকারোক্তিতে আরিফ হোসেন বলেন, তিনি এবং লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ ও নৌবাহিনীর লে. কমান্ডার (অব.) এম এম রানাসহ র‌্যাব ১১-এর নিচের ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ আরও ১০-১১ জন জড়িত রয়েছে এ হত্যাকা-ের সঙ্গে। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মধ্যে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়ার কথা বলেছেন। এ ছাড়া শীর্ষ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা এবং নাসিক কাউন্সিলর নূর হোসেন ও তার কয়েক সহযোগীর নাম বলেছেন। তবে নূর হোসেনকে ঘটনার পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের খানসাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম সংলগ্ন (ময়লা ফেলার স্থান) এলাকা থেকে ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। গাড়িতে তুলেই তাদের প্রত্যেকের শরীরে চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করা হয়। এতে তারা অচেতন হয়ে পড়ে। কয়েক ঘণ্টা অচেতন অবস্থায় তাদের কয়েক ঘণ্টা গাড়িতে রাখা হয় এবং হত্যার পর কাঁচপুর ব্রিজের নিচ থেকে নৌকাযোগে লাশগুলো নিয়ে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও মেঘনা নদীর মোহনায় ফেলে দেয়া হয়। এর আগে লাশ যাতে ভেসে না ওঠে এ জন্য প্রত্যেকটি লাশের সঙ্গে ইট বাঁধার পর লাশের পেট ফুটো করে দেয়া হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি মামুনুর রশিদ ম-ল বলেন, মেজর (অব.) আরিফ হোসেন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে ৭ হত্যাকা-ের সঙ্গে নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘স্বীকারোক্তিতে মেজর (অব.) আরিফ হোসেন নিজের সম্পৃক্ততার পাশাপাশি বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন। তদন্তের স্বার্থে তা বলা সম্ভব নয়।’ এ ছাড়া কিভাবে অপহরণের পর হত্যা করে লাশ ফেলে দেয়া হয়েছে তার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমরা এ ৭ হত্যাকা- নিয়ে এতদিন যা বলে এসেছি এবং যাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার ৯৫ ভাগই আরিফের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে।
আদালত সূত্র মতে, সেভেন মার্ডারের ঘটনার পর করা দু’টি মামলাতেই জবানবন্দি দিয়েছেন আরিফ হোসেন। দু’টি মামলার মধ্যে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৫ জনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে একটি মামলা করেছিলেন। এ মামলায় নাসিক কাউন্সিলর নূর হোসেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী ইয়াছিন মিয়াসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এডভোকেট চন্দন সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিম অপহরণ ও পরে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত আসামি উল্লেখ করে চন্দন সরকারের মেয়ের জামাতা বিজয় পাল বাদী হয়ে অপর মামলাটি করেন।
আরিফ কারাগারে, তারেক চতুর্থ দফায় রিমান্ডে
এদিকে নজরুল ইসলামসহ ৫ জনকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার বিকালে তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও আরিফ হোসেনকে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদের আদালতে হাজির করে আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত চতুর্থ দফায় তারেক সাঈদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে এবং আরিফ হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
শুনানির সময়ে আদালত রাষ্ট্রপক্ষে পুলিশের এসআই আশরাফুজ্জামান বলেন, এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে র‌্যাব। এ জন্য আরও তথ্য জানতে ৭ দিন করে রিমান্ড প্রয়োজন। হত্যা ঘটনায় র‌্যাবের সদস্যরা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত।
রিমান্ড শুনানির সময়ে আদালতের এপিপি ফজলুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনসহ কমপক্ষে ২৫ জন অংশ নেন। তারা আদালতকে জানান, ইতিমধ্যে আরিফ হোসেন আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের অপর কর্মকর্তারা তারেক সাঈদও এ হত্যাকা-ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ জন্যই তারেক সাঈদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
আদালতে শুনানির সময়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, নারায়ণগঞ্জের সেভেন মার্ডারের ঘটনায় আদালতে দায় স্বীকার করে আরিফ হোসেনের দেয়া বক্তব্য সাধারণ মানুষ শুনলে কেঁদে দিবে। তার জবানবন্দিতে ৭ জনকে হত্যার পুরো বিবরণ উঠে এসেছে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নূর হোসেন ও গডফাদারদের যোগসাজশে এ হত্যা ঘটনাটি ঘটেছে। এ হত্যাকা-ে র‌্যাবের তিনজনসহ অনেকে জড়িত রয়েছে। তাদের মধ্যে আরিফ হোসেন ইতিমধ্যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারেক সাঈদের কাছ থেকে আরও তথ্য বের করতে তাকে রিমান্ড দেয়া দরকার।
আসামিদের পক্ষে কোন আইনজীবী না থাকায় আজও (বুধবার) তারেক সাঈদ আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। আমি সুষ্ঠু তদন্ত চাই। সুষ্ঠু বিচার চাই।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তারেক সাঈদের চতুর্থ দফায় ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন এবং যেহেতু আরিফ হোসেন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, সেহেতু তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হলো।
২৭শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ আদালত থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন নিয়ে নাসিক প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, সিরাজুল ইসলাম লিটন, তাজুল ইসলাম প্রাইভেট কারযোগে বাসায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোড থেকে গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলমসহ ৫ জনকে অপহরণ করা হয়। একই সময় একই স্থান থেকে অপহরণ করা হয় আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ইব্রাহিমকে। এ ঘটনায় ২৭শে এপ্রিল রাতেই চন্দন সরকারের পরিবার নিখোঁজ উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় একটি জিডি করেন। ২৮শে এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় নাসিক কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম একটি মামলা করেন। ৩০শে এপ্রিল বিকালে শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জন এবং ১লা মে সকালে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রত্যেকটি লাশের সঙ্গে ২৪টি করে ইট বাঁধা ছিল এবং নাভির নিচে ফুটো করা ছিল।
এদিকে অপহরণের পর হত্যায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ স্পষ্ট হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ৫ই মে লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেনকে সেনাবাহিনী থেকে এবং নারায়ণগঞ্জ ক্যাম্পের সাবেক প্রধান লে. কমান্ডার এমএম রানাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ১৬ই মে রাতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে লে. কর্নেল (অব.) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও মেজর (অব.) আরিফ হোসেনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৭ই মে তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। একই দিন রাতে ক্যান্টনমেন্ট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় লে. কমান্ডার (অব.) এম এম রানাকে। ১৮ই মে আদালত তার ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ২২শে মে তারেক সাঈদ ও আরিফ হোসেনকে প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ ৫ জনকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। ২৬শে মে এম রানাকেও ৭ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জর করে। ৮ দিন রিমান্ড শেষে ৩০শে মে তারেক সাঈদ ও আরিফকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত তাদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ৮ দিনের রিমান্ড শেষে এম এম রানাকে ২রা মে আদালতে হাজির করে তৃতীয় দফায় ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তৃতীয় দফায় তিন র‌্যাব কর্মকর্তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
৭ খুন তদন্তে আরও সময় পেয়েছে
য়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় তদন্তে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সরকারি তদন্ত কমিটিসহ সংশ্লিষ্টরা আরও সময় পেয়েছে। আগামী ৯ই জুলাইয়ের মধ্যে এ ব্যাপারে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। তদন্তের আলাদা চারটি অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন শেষে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেয়। অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করেন এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মাহবুবে আলম। এ ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি, পুলিশের আইজি, র‌্যাব ও সিআইডি’র পাঠানো অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল উপস্থাপন করেন তিনি। শুরুতে আইজিপি’র পক্ষে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের পাঠানো প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন এটর্নি জেনারেল। এরপর পর্যায়ক্রমে র‌্যাব মহাপরিচালক, সিআইডি প্রধান ও সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদন উপস্থাপনের এক পর্যায়ে এটর্নি জেনারেলের উদ্দেশে আদালত বলেন, আমরা আইজিপিকে নির্দেশ দিয়েছি প্রতিবেদন দেয়ার জন্য। এফিডেভিট আকারে আদালতে উনার প্রতিবেদন দিতে সমস্যা কোথায়? আদালতের অনুমতি ব্যতীত তিনি (আইজিপি) কি তার ক্ষমতা ডেলিগেট করবেন? এ পর্যায়ে এটর্নি জেনারেল বলেন, এটা আনুষ্ঠানিকতার বিষয়। মূল বিষয় হচ্ছে আদালতের আদেশ যথাযথভাবে পালন করা হয়েছে কিনা। কারণ আদালতের উদ্বেগ ছিল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা প্রদানের ব্যাপারে। তিনি সেই আদেশ পালন করেছেন। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, সিআইডি’র প্রতিবেদনটি দেখুন। যথাযথ মাধ্যমে তারা সঠিকভাবে আদালতের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। আদালত আরও বলেন, সশরীরে পুলিশের আইজির আদালতে হাজির হতে কোন আইনি বাধা নেই।  র‌্যাব মহাপরিচালকের প্রতিবেদনে বলা হয়, র‌্যাব-১১তে কর্মরত ৫৬ জন সদস্যকে বিভিন্ন সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সিআইডি প্রধানের পাঠানো প্রতিবেদনে বলা হয়, সাত খুনের ঘটনায় চাকরিচ্যুত র‌্যাবের তিন কর্মকর্তাসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এছাড়া, র‌্যাব সদস্যদের জড়িত থাকার বিষয়ে দু’জন প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, র‌্যাব কর্মকর্তাদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। পরে সাংবাদিকদের কাছে প্রতিবেদন উপস্থাপনের ব্যাপারে কথা বলেন এটর্নি জেনারেল। সিআইডি’র প্রতিবেদনে তিন কর্মকর্তাসহ র‌্যাব কর্মকর্তাদের জড়িত হওয়া নিয়ে একটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ব্যাপারে এটর্নি জেনারেল বলেন, এ ধরনের কথা প্রতিবেদনে পাইনি।

You Might Also Like