নারায়ণগঞ্জে সাত খুন: অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন নজরুলের স্ত্রীর

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা দুটি মামলার একটির অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেছেন নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি।

আজ (সোমবার) সকালে নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সাত খুন মামলার শুনানির নির্ধারিত ধার্য তারিখ ছিল আজ। বাদী পক্ষ নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেছেন। এরপর মামলার পরবর্তী শুনানি ৮ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত। সোমবার শুনানি শেষে এই দিন ধার্য করা হয়।

আদালতের আদেশের পর সেলিনা ইসলাম বিউটি সাংবাদিকদের বলেন, “যারা আমার স্বামীকে হত্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত ও যাদের আসামি করে মামলা করেছিলাম, তাদের মধ্যে নূর হোসেন ছাড়া অন্য ৫ জনকে তদন্ত কর্মকর্তা অব্যাহতি দেয়ায় আমি ক্ষুব্ধ। আমার মনে হয় অনেক কিছু গোপন রাখা হয়েছে। আমি চাই নূর হোসেনকে দেশে এনে রিমান্ডে নেয়া হোক। আমার মামলায় ৬ জনকে আসামি করেছিলাম। কিন্তু একজনকে রেখে কিসের জন্য ৫ জনকে বাদ দেয়া হল, সেটা প্রশ্নবিদ্ধ থাকায় আমি আদালতে নারাজি দিয়েছি।”

সেলিনা ইসলাম বিউটি সাংবাদিকের আরো বলেন, “২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সিটি কর্পোরেশনের একটি রাস্তা প্রশস্তকরণ কাজকে কেন্দ্র করে নূর হোসেনের ফুফাতো ভাই মোবারকের সঙ্গে নজরুলের বিরোধ ও বাকবিতণ্ডা হয়। সেদিন আসামিরা আমার স্বামীকে মারতে অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করেছিল। তাদের সবার হাতে একটা-দুটা করে অস্ত্র ছিল। তাদের কেন বাদ দেয়া হল সেটা দেখব আমরা। যারা এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, তাদেরও বের করা হোক এবং নূর হোসেনকে দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।”

সাত খুনের ঘটনায় নজরুল ইসলামর স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি একটি মামলা করেন। অপরদিকে অ্যাডভোকেট চন্দন সরকার ও গাড়িচালক ইব্রাহিমকে অপহরণ ও হত্যা মামলার বাদী ছিলেন নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। এ মামলায় আসামি অজ্ঞাত করা হয়েছিল। তবে চার্জশিটের ব্যাপারে কোনো ধরনের আপত্তি নেই চন্দন সরকার পরিবারের। গত মাসের ৮ তারিখে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মামুনুর রশিদ মণ্ডল দুটি মামলারই চার্জশিট আদালতে দাখিল করেন।

৮ এপ্রিল বুধবার আদালতে দায়ের করা চার্জশিটে ভারতের কলকাতায় গ্রেফতারকৃত সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ র‌্যাবের চাকরিচ্যুত তিনজন আলোচিত কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে। অভিযুক্তদের মধ্যে নূর হোসেন ভারতে গ্রেফতার হলেও তাকে পলাতক দেখানো হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল দুপুরে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজন। এর তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যায় একে একে ভেসে ওঠে সাতজনের মরদেহ। এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্রধান আসামি করে মামলা করে নজরুলের পরিবার।

You Might Also Like