নদী জলসীমায় ভারতের বিশেষ বেড়া

বাংলাদেশ সীমান্তে নদীনালায় বেড়া বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া দেওয়ার পর এবার নতুন এ উদ্যেগ নিয়েছে দেশটির সরকার।

বিবিসির কলকাতা প্রতিনিধি শুভজ্যোতি ঘোষের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অনেক জায়গায় নদীনালা বা জলাভূমি থাকার কারণে এতদিন কাঁটাতারের বেড়া বসানো সম্ভব হয়নি। সেসব স্থানে সিঙ্গাপুরের আদলে পানির উপরই বিশেষ ধরনের বেড়া বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সম্প্রতি সংসদে বলেছেন, এই অসমাপ্ত কাঁটা তারের বেড়ার কাজ সরকার যত দ্রুত সম্ভব শেষ করতে চায়। এজন্য সিঙ্গাপুরের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ভারত আলোচনা শুরু করেছে।

সমুদ্রে এক বিশেষ ধরনের বেড়া দিয়ে সিঙ্গাপুর অবৈধ অভিবাসীদের ঠেকাতে সফল হয়েছে বলে উল্লেখ করে ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান বন্ধ করতেও তাঁরা অনুরুপ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে চান।

রাজনাথ সিং আরো জানান, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য ৪,০৯৬.৭ কিলোমিটার। তবে নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি এর মধ্যে ৩,৩২৬ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ৫০১ কিলোমিটার ছাড়া বাকি পুরো কাজটাই শেষ। আরো ১৩০ কিলোমিটার সীমান্তে বেড়া বসানোর কাজ চলছে দ্রুত গতিতে।

কয়েক সপ্তাহ আগে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র বার্ষিক অনুষ্ঠানে উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নেহচল সান্ধুও বলেছিলেন, নদীনালার কারণে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ায় যে ফাঁকগুলো তৈরি হচ্ছে, তা সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা দিয়েই পূর্ণ করা সম্ভব।

তিনি আরো বলেন, এই ধরনের বেড়ার পাশাপাশি সীমান্তে সেন্সরও বসাতে হবে। সেই সব সেন্সরে কী ধরা পড়ছে সেই তথ্য নিকটতম সীমান্ত চৌকিতে পৌঁছে দিতে হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অবশ্য স্বীকার করেছেন, সিঙ্গাপুরের আদলে সীমান্তের জলা জায়গায় বেড়া বসানোর কাজ যে বেশ কঠিন ও ব্যয়সাপেক্ষ। ভারতের শুকনো সাধারণ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর চেয়ে এই খরচ দ্বিগুণ বা এমন কী তিনগুণও হতে পারে।

তারপরও গোয়েন্দা সূত্রগুলোর দাবি, সীমান্তের নানা ফাঁক ফোকর দিয়ে মাদক বা জাল নোটের চালান এমন কী জঙ্গী সংগঠনের সদস্যদের যাতায়াত বন্ধ করতে ভারতের কাছে এছাড়া অন্য কোনো রাস্তা নেই।

সূত্র: বিবিসি

You Might Also Like