নতুন পর্বে যাচ্ছে বাংলাদেশ

বিশ্বজিৎ দত্ত : রাজনীতির এক পর্ব থেকে আরেক পর্বে  যেতে কত সময় লাগে এ বিষয়ে অবশ্য রাজনীতি বিশ্লেষকরা কোনো ইঙ্গিত দেননি। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের একটি সম্মিলিত পর্ব সৃষ্টি হওয়ার  সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন এই পর্বটির নাম হতে পারে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। সম্প্রতি ওবামার ভারত সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র পরিচালক ফিল র‌্যাইনার এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বাংলাদেশের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে  তারা উদ্বিগ্ন। সংকট নিরসনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর দাস মোদির সঙ্গে এ বিষয়ে বারাক ওবামার কথাবার্তা চলছে। এর পরপরই বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার আগেই দেখা করেছেন ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণের সঙ্গে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে যে মত পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছিল এটা দূর হতে চলেছে।

কংগ্রেস আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কটা একেবারেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। ভারতীয় কূটনীতিক দেবযানিকে নিয়ে সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক যুদ্ধও অনেক হয়েছে। সাবেক পররাষ্ট্রসচিব সুজাতা সিংহ এই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে জোরালো করতে পারেনি। পরে মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফর ও বর্তমান ভারতের পররাষ্ট্রসচিব জয়শংকর একক চেষ্টায় সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রসচিব অনিল গোম্বামীকেও সরিয়ে দিয়েছে ভারত। অভিযোগÑ সারদা টাকা তছরুপ কেলেঙ্কারির  গোয়েন্দা তদন্তে তিনি বাধা প্রদান করেছেন। এটিও বাংলাদেশের সঙ্গে অনেকটা সম্পর্কিত। করণ সারদা কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশের নামও পাকেচক্রে উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আভ্যন্তরীণভাবে বাংলাদেশের দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সমঝোতার পরিবেশ  ও আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করতে  এ দুটি দেশ সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করতে পারে। কারণ হিসাবে তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের দাবি দুটি। একটি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের একক নেতৃত্ব। অন্যদিকে জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদ পেতে সহায়তা করা।  এ দুটি ক্ষেত্রেই  যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে আশ্বন্ত করেছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ইতোমধ্যেই বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভারতের কয়েকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষকের সঙ্গে আলোচনা থেকে জানা যায়, ভারত বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশ চায়। বর্তমান যে উগ্রপন্থা বাংলাদেশে রয়েছে তার অবসান চায়। এই পর্যায়ে তারা আওয়ামী লীগকে অনুরোধ করতে পারে একটি আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করার। এই প্রস্তাবের আগে সারাদেশে উগ্রবাদী নির্মূলে একটি কম্বিং অপারেশন চালাতে পারে সরকার। যার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে। অন্যদিকে বিএনপিকে জামায়াতমুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিতে হতে পারে। এবং শেখ হাসিনার অধীনেই একটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার মতো পরিস্থিতির মধ্যে চলে যেতে হতে পারে। তবে এই নির্বাচনটি কখন সম্পন্ন হবে তা নির্ভর করবে প্রধানত বিএনপির ওপর।

You Might Also Like