নতুন জঙ্গি সংগঠনের ৬ সদস্যের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘মুজাহিদ অব বাংলাদেশ’র ছয় সদস্যের প্রত্যেককে ৬ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

মতিঝিল থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির করা হয়।

মামলার মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমার প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে সিএমএম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট রাশেদ তালুকদার প্রত্যেকের ৬ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টায় মতিঝিল শাপলা চত্বর সোনালী ব্যাংকের সামনে থেকে ‘মুজাহিদ অব বাংলাদেশ’র ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- জহিরুল ইসলাম ওরফে আনসার, খন্দকার রাজেশ সোবহান ওরফে রাজু, আবু বকর সিদ্দিক ওরফে আবীর , মোরশেদুল ইসলাম ওরফে কিং মোর খান, কাজী বাপ্পী আহমেদ ওরফে সাজ্জাদ এবং মোল্লা আকতার মোহাম্মদ মনসুর।

আজ দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংগঠনের আটককৃত ৬ নেতাকে হাজির করে ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেছেন, “গত এক বছর ধরে এ সংগঠনটি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিচ্ছিন্নভাবে আল কায়েদার ভাবধারাকে অনুসরণ করে গড়ে উঠা এ সংগঠনটির সঙ্গে বস্তুত আল কায়েদার কোনো যোগাযোগ নেই। তবে আমরা ধারণা করছি এর শীর্ষনেতাদের কেউ কেউ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে যুক্ত।”

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ এবং দশটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে জহিরুল ইসলাম এ সংগঠনের শীর্ষনেতা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরো জানিয়েছে, এ সংগঠনে সর্বসাকূল্যে ২০/৩০ জন সদস্য আছে। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, ফেসবুকের মাধ্যমে নিজেদের যোগাযোগ রক্ষা করা, সদস্য সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধরনের জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করছে তারা। সম্প্রতি ঢাকায় এক ‘পীর’কে হত্যার পরিকল্পনাও করেছেন। এর আগেও রাজধানীতে এক পীর হত্যার সঙ্গেও জড়িত ছিল এরা।

পুলিশ বলেছে, ফেসবুকের মাধ্যমে এরা নামাজ পড়ার আহ্বান জানায়, দ্বীনের দাওয়াত দেয়, সমমানসিকতার কাউকে পেয়ে গেলে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে জিহাদি হিসেবে প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়। প্রশিক্ষণে তাদের ছুরি-চাপাতি চালনা এবং বর্শা নিক্ষেপ শেখানো হয়।

‘মুজাহিদ অব বাংলাদেশ’ নামের এ নব্য জঙ্গি সংগঠনের বড় কোনো অর্থের উৎস নেই জানিয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বলেন, ‘এরা সাধারণত চাকরিজীবী। স্বাভাবিক জীবনযাপন করে। তাদের বেতনের কিছু অংশ দিয়ে তারা সংগঠনটি চালায়। এদের মধ্যে শিক্ষিত এবং কম শিক্ষিতও আছে। এরা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে অনেক দক্ষ ও সক্রিয়।’