নক্ষত্রের মৃত্যুর ছবি তুলল হাবল টেলিস্কোপ

মানুষ মারা গেলে আকাশের তারা হয়ে যায়- শৈশবে আমরা বহুবার শুনেছি এই বহুল প্রচলিত কল্পকথা। কিন্তু আকাশের তারা মারা গেলে কোথায় যায়? মৃত নক্ষত্র অন্য কোনো আকাশের তারা হয়ে যায় কি? এমন ভাবনা মনে আসতেই পারে।

বিজ্ঞানীরা মহাকাশে নক্ষত্রের জীবনের চূড়ান্ত পর্যায় অর্থাৎ মৃত্যু নিয়ে বিশদ গবেষণা করে চলেছেন বহুদিন ধরেই। সম্প্রতি একদল মহাকাশ বিজ্ঞানী নাসার হাবল টেলিস্কোপের সাহায্যে নিকট দূরত্বে থাকা দুটি নীহারিকা পর্যবেক্ষণ করে এক যুগান্তকারী আবিষ্কার করেছেন। উল্লেখ্য যে, নীহারিকা দুটি তাদের জীবনের একদম চুড়ান্ত পর্যায়ে ছিল। বিজ্ঞানীদের এই আবিষ্কার নিয়ে একটি গবেষণাপত্র গ্যালাক্সি জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক রচেস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির জোয়েল কাস্টনার এক বিবৃতিতে বলেছেন, হাবল টেলিস্কোপের নতুন মাল্টিওয়েব লেংথ সংযোজন নীহারিকা দুটির বিশদ এবং অপেক্ষাকৃত স্পষ্ট ছবি তুলতে সহায়তা করেছে। তিনি আরো বলেন, ছবিগুলো যখন ডাউনলোড করছিলাম নিজেকে চকলেটের দোকানে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট্ট শিশুর মতো মনে হচ্ছিল।

কাস্টনারের নেতৃত্বে গবেষকদল হঠাৎ লক্ষ্য করেন যে, নীহারিকা আকস্মিকভাবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পৃথক হয়ে দুটি নীহারিকাতে পরিণত হয়ে গেছে। তাদের ধারণা এসব নীহারিকা কোর দুইটি নক্ষত্রকে ধারণ করে। আর তাদের মধ্যকার মিথস্ক্রিয়ার ফলেই ছবিগুলোতে এমন বিশাল ধূলিকণার বর্ণিল মেঘ দেখা যাচ্ছে। নক্ষত্র দুটি একে অপরের চারপাশে অনবরত ঘুরতে থাকে। একটা সময় পর একটি নক্ষত্র ক্রমাগত ভর হারাতে থাকে এবং অন্য নক্ষত্রটি সেই ভর শোষণ করে নেয়।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, চলমান এই প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে দুর্বল নক্ষত্রকে সবল নক্ষত্র একদম শোষণ করে নেয় বা খেয়ে ফেলে।

গবেষণাপত্রের আরেক লেখক ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের অধ্যাপক ব্রুসবেলিক বলেন, এনজিসি ৬৩০২ এবং এনজিসি ৭০২৭ নামক এই নক্ষত্র দুটি সরাসরি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কারণ নক্ষত্র দুটির পাশেই রয়েছে নক্ষত্র খেঁকো বৃহদাকার লাল দৈত্য নক্ষত্র, যা সূর্যের চেয়েও হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল। তিনি আরো বলেন, এমনও হতে পারে যে এই নক্ষত্র দুটিকেও লাল দৈত্য ইতোমধ্যেই শুষে নিয়েছে।

তবে আরো কিছু নীহারিকা পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে যে, কিছু নক্ষত্র নীহারিকার কেন্দ্রস্থলে ভর হারিয়েও বেঁচে গেছে।

You Might Also Like