ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে ধর্ষণ করে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে উঠেছে সিয়ামুর রহমান খোকন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের পাথরডুবি গ্রামের খলিলুর রহমানের পুত্র।

জানা গেছে, ধর্ষিতা তার নানাবাড়িতে থেকে পড়ালেখা করত। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণির ছাত্রী। মেয়েটি বিদ্যালয়ে যাতায়াত করার সময় খোকন তাকে প্রেম নিবেদনসহ বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করত। গত ২২/১০/২০১৯ তারিখে ছুটির পর বিকাল ৪টার পর স্কুল থেকে নানাবাড়িতে ফেরার সময় সিয়ামুর রহমান খোকন (১৯) ও অপর সহযোগী শওকত আলীর পুত্র নাজমুল হাসান রনি (২০) মেয়েটির পথরোধ করে। পরে তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক গেন্দা খলিফার পুত্র বাবলু মিয়ার বাড়ির ভেতরে নিয়ে যায়।এ সময় রনি ও বাবলু তাদের কথামতো কাজ করার হুমকি দিয়ে মেয়েটি ও সিয়ামুর রহমান খোকনকে একটি ঘরে রেখে তারা বাড়ির বাইরে পাহারা দেয়। একপর্যায়ে সিয়ামুর রহমান খোকন মেয়েটিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে।

এসময় সিয়ামের সহযোগী রনি জানালার ফাঁক দিয়ে গোপনে মোবাইলে ওই ধর্ষণের ভিডিও রেকর্ড করে এবং ঘটনাটি প্রকাশ করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। মেয়েটি নিজের সম্মান ও জীবনের ভয়ে ঘটনাটি প্রকাশ না করে চুপ থাকে।

এঘটনার পরও সিয়াম বিভিন্ন সময়ে মেয়েটিকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকে সে রাজি না হলে রেকর্ড করা ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছাড়ার কথা বলে হুমকি প্রদর্শন করে। এতেও রাজি না হলে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়।

পরবর্তীতে মেয়েটির আত্মীয়-স্বজন ভিডিও এর বিষয়টি জানতে পারে। উপায় না দেখে ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে সিয়ামুর রহমান খোকন ও তার দুই সহযোগী নাজমুল হাসান রনি ও বাবলু মিয়ার নামে ভুরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকেলে ভুরুঙ্গামারী সরকারি কলেজপাড়া এলাকা থেকে মূল আসামি সিয়ামুর রহমান খোকনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এব্যাপারে ওসি মু. আতিয়ার রহমান বলেন, কিছ ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে। আটক আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দিয়ে তাকে কুড়িগ্রাম আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।