দেশ ছেয়ে গেছে জালনোটে, আসল-নকল চেনার উপায়

সারাবছর দেশে জাল নোটের কালো থাবা চোখ রাঙানি দিলেও যেকোনো উৎসবে যেন এই থাবা রীতিমত ভয়ংকর হয়ে ওঠে। বরাবরের মতো ঈদ ও পূজাকে সামনে রেখে এবারো তৎপর জালনোট কারবারিরা। এবছর বিশেষ কায়দায় একশ’ টাকার নোটকে পাঁচশ’ ও এক হাজার টাকার নোট বানিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশের বাজারে ছাড়ায় আরো বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে আসল-নকলের পার্থক্য বোঝা।

দৈনিক ইত্তেফাক এক প্রতিবেদনে জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, তিন মাসে ১০০০ টাকা মূল্যমানের ১৬২৩টি নোট (১৬২৩০০০ টাকা), ৫০০ টাকা মূল্যমানের ১১১২টি নোট (৫৫৬০০০ টাকা) ও ১০০ টাকা মূল্যমানের ৫৫টি নোট (৫৫০০ টাকা) জাল হিসাবে শনাক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে জাল শনাক্ত হয়েছে ২১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ টাকা। পরিসংখ্যানে আরও দেখা যায়, শুধু আগস্টেই ১০০, ৫০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের ১৫৪০টি জালনোট শনাক্ত করা হয়েছে।

এদিকে গোয়েন্দা পুলিশের সাম্প্রতিক একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানান হয়েছে, নতুন ও পুরনো মিলিয়ে রাজধানীতে বর্তমানে অন্তত ২৫টি জাল টাকা তৈরির সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।

এক গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ইত্তেফাক জানায়, জালনোটের কারবারীদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা পুলিশ কয়েকটি এলাকা চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে কামরাঙ্গীরচর, হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, রামপুরা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ ও মিরপুর।

পত্রিকাটি তাদের প্রতিবেদনে জানায়, জাল নোট তৈরি করতে সিকিউরিটি থ্রেড ও ওয়াশ পদ্ধতি ব্যবহার করছে জাল নোট তৈরির কারিগররা। কারিগররা টাকার সাইজে কাগজ কেটে তাতে আঠা ও সিকিউরিটি থ্রেড বসিয়ে তার ওপর প্রিন্টিং মেশিনের সহায়তায় সূক্ষ্মভাবে যে কোনো মূল্যমানের টাকার ছাপ বসিয়ে দেয়। অপর দিকে ওয়াশ পদ্ধতিতে জাল নোট তৈরি করতে আসল টাকার নোট ওয়াশ করে শুকানো হয়। পরে ওই নোটের ওপর টাকার অঙ্ক বসিয়ে ছাপ দেয়া হয়। এরা ১০০ টাকার নোট ওয়াশ করে সাদা করে তার ওপর ৫০০ ও ১০০০ টাকার অঙ্ক বসিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে সিকিউরিটি সুতা আসল থাকায় সহজেই কেউ ধরতে পারে না। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরনো টাকার ওপর ছাপ বসানো হয়, যা জাল টাকা শনাক্তকারী মেশিন ধরতে পারে না।

জাল নোট চেনার উপায় প্রসঙ্গে পত্রিকাটি জানায়, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সংবলিত ১০০, ৫০০ ও এক হাজার টাকার নোটে মূল্যমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো সংবলিত নিরাপত্তা সুতা রয়েছে। নোটের মূল্যমান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের লোগো নিরাপত্তা সুতার চারটি স্থানে মুদ্রিত আছে। নোট চিত্ করে ধরলে নিরাপত্তা সুতায় মূল্যমান এবং লোগো দেখা যাবে। কিন্তু কাত করে খাড়াভাবে ধরলে তা কালো দেখা যাবে। এ নিরাপত্তা সুতা অনেক মজবুত বা নোটের কাগজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নখের আঁঁচড়ে বা মুচড়িয়ে ওই নিরাপত্তা সুতা কোনোক্রমেই উঠানো সম্ভব নয়। জালনোটের নিরাপত্তা সুতা সহজেই নখের আঁঁচড়ে বা মোচড়ানোতে উঠে যায়।

এছাড়া প্রত্যেক প্রকার নোটের উপরের ডানদিকে কোনায় ইংরেজি সংখ্যায় লেখা নোটের মূল্যমান রং পরিবর্তনশীল কালিতে মুদ্রিত রয়েছে। ১০০ ও ১০০০ টাকা মূল্যমানের নোট আস্তে আস্তে নড়াচড়া করলে নোটের মূল্যমান লেখাটি সোনালি হতে ক্রমেই সবুজ রঙে পরিবর্তিত হয়। একইভাবে ৫০০ টাকা মূল্যমানের নোটে ৫০০ মূল্যমান লেখাটি লালচে হতে পরিবর্তিত হয়ে সবুজ হয়। জালনোটে ব্যবহূত এ রঙ চকচক করলেও তা পরিবর্তিত হয় না। এ ছাড়া প্রত্যেক প্রকার নোটের সম্মুখ ও পশ্চাৎ পৃষ্ঠের ডিজাইন, মধ্যভাগের লেখা, নোটের মূল্যমান এবং সাতটি সমান্তরাল সরলরেখা উঁচু-নিচু (খসখসে)ভাবে মুদ্রিত আছে। তাছাড়া নোটের ডানদিকে ১০০ টাকার নোটে তিনটি, ৫০০ টাকার নোটে চারটি এবং ১০০০ টাকার নোটে পাঁচটি ছোট বৃত্তাকার ছাপ আছে, যা হাতের স্পর্শে উঁচু-নিচু (খসখসে) অনুভূত হয়।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

You Might Also Like