দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নামে মানুষ মারার উৎসব (!)

সারা বাংলাদেশে মানুষ মারার উৎসব চলছে আর এর নাম দেয়া হয়েছে ‘বন্দুকযুদ্ধ’। এ নিয়ে গত ৪ মে থেকে শুরু করে ২৬ মে শনিবার পর্যন্ত মাদক ‘নির্মুল’ অভিযানে বিচার বহির্ভূত হত্যার সংখ্যা অর্ধ শতের কাছে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন এর বিস্তৃতি বেড়ে প্রত্্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পৌচুচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রের প্রকাশিত খবরে জানা যায়।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দাবি, নিহত সবার বিরুদ্ধেই একাধিক মামলা ছিল এবং তাঁরা মাদক ব্যবসায়ী। আর প্রত্যেকেই নিহত হয়েছে বন্দুকযুদ্ধে। আইন-শৃ্ঙ্খলা বাহিনী নিজেদের জীবন বাঁচাতেই গুলি চালিয়েছেন বলেও তাঁরা জানান।
এদিকে দেশের বিশিষ্টজনরদর অভিমত- মাদক নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হলে অবশ্যই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে মাদক ব্যবসার গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক সাজা প্রদান করতে হবে। মাদক সম্রাট ও গডফাদার নির্মূল হলেই দেশ মাদক মুক্ত হবে- এই আশা রাজনীতিক ও বিশেষজ্ঞদের। জাতীয় পার্টির প্রধান সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ বলেছেন মাদক ব্যবসায়ীরা সংসদেই আছে, তাদের ধরে ফাসি দিন।
বড়গুনায় মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার : দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদকবিরোধী অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত গুলিতে ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা সবাই মাদক ব্যবসায়ী বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
দিনাজপুর : দিনাজপুরের বীরগঞ্জে শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এদিকে রামসাগরের পশ্চিমপাড় এলাকা থেকে শনিবার ভোরে এক মাদক ব্যবসায়ীর গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই জনের কাছ থেকেই মাদক, বিস্ফোরক ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
র‍্যাব-১৩ দিনাজপুর সিপিসি ক্যাম্প-১ এর অধিনায়ক মেজর তালুকদার নাজমুছ সাকিব জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব সদস্যরা বীরগঞ্জ উপজেলার বাসুদেবপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একদল মাদক ব্যবসায়ী মাদক পাচার করার সময় র‍্যাব তাদের থামতে বললে তারা র‍্যাবের ওপর হামলা চালায়। পরে র‍্যাবও পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই সাবদারুল (৪০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়।
নিহত সাবদারুল বীরগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের নান্দাইল গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। সেখান থেকে দুই পোটলা গাজা, ৯৫ বোতল ফেন্সিডিল, একটি বিদেশি পিস্তল ও ৪ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় র‍্যাবের দুই সদস্য আহত হয়েছে। নিহত সাবদারুল এলাকার চিহ্নিত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী বলেও র‍্যাব জানিয়েছে।
এদিকে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ওসি রেদওয়ানুর রহিম জানান, ভোর রাতে সদর উপজেলার রামসাগরের পশ্চিমপাড় এলাকায় গোলাগুলির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। এ সময় একটি স্থানে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। পরে সেখান থেকে ২শ’ বোতল ফেনিসিডিল, একটি হাসুয়া, ককটেল, একটি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, ‘ধারণা করা হচ্ছে দুই পক্ষের গোলাগুলিতে এই ব্যক্তি নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। লাশ দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
তবে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুস সালাম (৩৬)। তিনি সদর উপজেলার মহররমপুর এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে।
কুমিল্লা: কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বাবুল (৪০) ও আলমাস (৩৬) নামের দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। শুক্রবার দিনগত রাত দেড়টার দিকে জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাগরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ২টার দিকে থানার ওসি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহ জাহান কবির মোবাইলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করতে ব্রাহ্মণপাড়া-দেবিদ্বার সার্কেলের এএসপি শেখ মোহাম্মদ সেলিম ও ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহজান কবির ফোর্স নিয়ে উপজেলার বাগরা এলাকায় অবস্থান নেন। রাত দেড়টার দিকে মাদক ব্যবসায়ী বাবুল ও আলমাস তাদের সহযোগীদের নিয়ে সেখানে পৌঁছালে তাদের আটকের চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
ওসি সৈয়দ আবু মোহাম্মদ শাহ জাহান কবির জানান, অভিযানকালে পুলিশ আত্মরক্ষায় ১৬ রাউন্ড গুলি চালায়। উভয় পক্ষের গুলি বিনিময়ে মাদক ব্যবসায়ী বাবুল ও আলমাস গুরুতর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল হাসপাতালে নেওয়ার পথে উভয়ের মৃত্যু হয়। নিহত বাবুল একই উপজেলার আশাবাড়ি গ্রামের আবদুল মালেকের পুত্র। তার বিরুদ্ধে ১৬টি মাদকের মামলা রয়েছে। আলমাস উপজেলার দক্ষিণ তেতাভূমি গ্রামের আফাজ উদ্দিনের পুত্র। তার বিরুদ্ধে আটটি মাদকের মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ৪০ কেজি গাঁজা ও একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত চারদিনে কুমিল্লা আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ, চৌদ্দগ্রাম ও বুড়িচং উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ছয় মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন।
পাবনা: পাবনা শহরের মহেন্দ্রপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আব্দুর রহমান নামের একজন নিহত হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, নিহত ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ী। বন্দুকযুদ্ধের সময় তিন পুলিশ সদস্য হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, আব্দুর রহমানকে গ্রেফতারের পর শুক্রবার দিনগত রাত ২টার দিকে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ তাকে সঙ্গে নিয়ে পাবনা শহরে পাশে মহেন্দ্রপুর এলাকায় মাদক উদ্ধারে যায়। এসময় আব্দুর রহমানের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করে ও গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এসময় আব্দুর রহমান পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের দাবি, মাদক ব্যবসায়ীদের ছোড়া ককটেলের আঘাতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি দেশীয় শাটারগান, তিন রাউন্ড গুলি, চার রাউন্ড গুলির খালি খোসা ও ২’শ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে।
আব্দুর রহমান সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কবিরপুর এলাকার মৃত আছের উদ্দিন শেখের ছেলে।
বরগুনা : বরগুনার জাকিরতবক এলাকা থেকে ছগির খান নামের এক মাদক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। লাশের পাশে পরে থাকা অবস্থায় একটি পাইপগান, ৫ রাউন্ড গুলি ও একশ পিস ইয়াবা উদ্ধার করার কথাও পুলিশ জানিয়েছে।
নিহত মাদক ছগির খান বদরখালী ইউনিয়নের ফুলতলা গ্রামের মৃত সোরাব খানের ছেলে বলে জানা গেছে।
বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদুজ জামান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ‘আমরা পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নে টহলরত অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় গোলাগুলির শব্দ শুনে এগিয়ে এসে স্থানীয় দোকানদারদের উঠাই। পরে তাদের নিয়ে জাকিরতবক এলাকায় গিয়ে রাস্তার পাশে মাদক ব্যবসায়ী ছগিরের লাশ পরে থাকতে দেখি। পরে আশেপাশে খুঁজে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ছগিরে সঙ্গে সাড়ে সাত হাজার টাকা পাওয়া যায়। ছগিরের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
পুলিশ জানায়, ছগিরের বিরুদ্ধে বরগুনা থানায় মাদকের ৭টি মামলা রয়েছে।
স্থানয় সূত্রে জানা গেছে, ছগির গত সাত বছর ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তাকে পরিবার থেকে একাধিকবার বাধা দেওয়া হলেও তিনি কারও কথা শোনেননি।
জাকিরতবক এলাকার স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বরগুনার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের জাকিরতবক এলাকায় হাতকাটা নাসির ও খোকন সিকদার নামের দুই মাদক ব্যাবসায়ীর কাছ থেকে মাদক নিয়ে ব্যবসা করতো ছগির। দীর্ঘদিন যাবত গোপনে নাসিরের নেতৃত্বে এ ব্যাবসা চলে আসছে বলেও জানান এলাকাবাসী।
ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের আঠাবাড়ি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শাহজাহান মিয়া (৩০) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ মে) রাত দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত শাহজাহান ঈশ্বরগঞ্জের বনগাও গ্রামের জসীম উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে ৮টি মামলা রয়েছে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি বদরুল আলম খান জানান, শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জের আঠাবাড়ি তেলওয়ারী গন্ডিমোড়ে আবুল খায়েরের গ্যারেজের পশ্চিমে ফাঁকা রাস্তায় কয়েকজন মাদক বিক্রেতা মাদক ভাগাভাগি করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও ঈশ্বরগঞ্জ থানা পুলিশ যৌথভাবে মাদকবিরোধী অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা সদস্যরা প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ পরে এবং পরে গুলি চালায়। পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থল তল্লাশি করে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহজাহানকে আটক করা হয়। গুরুতর আহত শাহজাহানকে রাতেই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ২০০ গ্রাম হেরোইন, ৫টি গুলির খোসা ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আঠারবাড়ি তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মামুন ও এএসআই মোজাহারুল আহত হয়েছেন। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইব্রাহিম নামে এক ‘মাদক ব্যবসায়ী’ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৬ মে) ভোররাতে উপজেলার দক্ষিণ বাঁশজানি এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ কবির এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের সুপরিনটেনডেন্ট ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিম আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মৃত্যবরণ করেন।’
জেলা পুলিশ সুপার মো. মেহেদুল করিম জানান, ‘ভুরুঙ্গামারীতে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে একজন মাদক ব্যবসায়ী পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিমকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।’
জয়পুরহাট: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার ভারতীয় সীমান্ত ঘেঁষা ভীমপুর এলাকায় র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে একজন নিহত হয়েছেন। তিনি মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে র্যাব। এ সময় র্যাবের দুই সদস্য আহত হন বলেও জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি এক নলা বন্দুক, গুলি ও এক বস্তা ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করারও দাবি করেছে র্যা ব।
জয়পুরহাট র‍্যাব-৫ ক্যাম্পের অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামীম হোসেন জানান, ‘শুক্রবার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাঁচবিবি উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকা ভীমপুরে একটি ইট ভাটায় মাদক কেনাবেচা চলছিল। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৫ সদস্যরা সেখানে অভিযান চালায়। এসময় র‍্যাবরে উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছুড়লে র্যাযব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাঁচবিবি উপজেলার উত্তর গোপালপুর গ্রামের একাধিক মাদক মামলার আসামি রিন্টুকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি বন্দুক, গুলি, ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুই র‍্যাব সদস্যকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পাঁচবিবির মহীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রিন্টুকে উদ্ধার করে একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও কচুয়া থানা পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে ৫ মাদক মামলার আসামি ও শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বাবলু (৩৫) নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ৩টার দিকে কচুয়া উপজেলার পালগীরী ব্রিকফিল্ডের সড়কমোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মাদক ব্যবসায়ী বাবুলের বাড়ি উপজেলার দক্ষিণ গোহাট ইউনিয়নের বলরা গ্রামে। সে ওই গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে। বাবুলের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় ৫টি মাদক মামলা রয়েছে। তার বাড়ি থেকে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, আগে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও থানা পুলিশ বাবলুর বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে মাদক বিক্রেতা বাবুল। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে বাবলু গুরুতর আহত হয়। তাকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করে। বর্তমান তার মরদেহ কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মোবারক হোসেন কুট্টি (৪৪) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। তিনি মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে পুলিশ। এসময় পুলিশ ১শ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে বলে দাবি করেন সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিয়া।শনিবার ভোর রাতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পশ্চিম বেগুনবাড়ি গ্রামে পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে সময় এই ঘটনা ঘটে।
নিহত মোবারক সদর উপজেলার ছিট চিলারং গ্রামের মৃত শফির উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার পশ্চিম বেগুনবাড়ি ইউনিয়নে অভিযান চালানো হয়। এসময় কুট্টিসহ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে হোসেন কুট্টি নিহত হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফেনী: ফেনীর রুহিতিয়া এলাকায় কবির হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ দাবি করেছে, তিনি ডাকাত ছিলেন, অন্য ডাকাতদের সঙ্গে গোলাগুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন।
ফেনী মডেল থানার ওসি রাশেদ খাঁন চৌধুরী জানান, ‘শনিবারভোর ৪টার দিকে সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের রুহিতিয়া ব্রিকফিল্ড এলাকায় গোলগুলির খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ কবিরকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’ পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বন্দুক, একটি গুলি ও গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।
তিনি আরও জানান, কবিরের বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদকসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। কবির পরশুরাম উপজেলার ধনিকুণ্ড গ্রামের আবুল খালেক বেতুর ছেলে।

You Might Also Like