দেশের বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করতে পারবে জাপানিরা

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান আইন করে, জাপানিরা দেশের বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করতে পারবে না। প্রায় ৭০ বছর এই আইনে মেনে চলেছে দেশটি। কিন্তু এবার তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে প্রয়োজনে দেশের বাইরে গিয়ে যুদ্ধ করতে পারবে জাপানিরা।

শিনজো আবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাপানের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে একটি বিল পাস হয়েছে। এই বিলে বলা আছে, প্রয়োজনে দেশের বাইরে যেকোনো স্থানে যুদ্ধ করতে পারবে জাপানি সেনারা।

এই বিলের বিরোধিতা করে টোকিওতে অবস্থিত পার্লামেন্টের সামনে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো জাপানি। নতুন করে কোনো যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন তারা। কিন্তু সরকারের যুক্তি, পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় জাপানকেও প্রস্তুত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের বক্তব্য, সমন্বিত নিরাপত্তা (অন্যদেশের সঙ্গে) নিশ্চিত করতে সামরিক নীতিতে সংস্কার প্রয়োজন।

এ বিষয়ে জাপানকে উৎসাহ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এর আগে কয়েকটি যৌথ সামরিক মহড়া হয়েছে।

এদিকে বিলটি আইনে কার্যকর হতে হলে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে তা পাস হতে হবে। অবশ্য সরকারের পূর্ণ সমর্থন থাকায় উচ্চকক্ষে তা উত্থাপিত হলেই পাস হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে জরিপের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, জাপানের অর্ধেক মানুষ সামরিক নীতি সংস্কারের বিরোধী। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান যেভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা আবার হোক- এমন সম্ভাবনার মধ্যেও তারা থাকতে রাজি নয়।

নিজ দেশের নিরাপত্তার বাইরে গিয়ে বিদেশের মাটিতে জাপানিরা যুদ্ধ করতে পারবে তিন শর্তের ওপর ভিত্তি করে। প্রতিরক্ষা সংস্কার বিলে শর্ত তিনটি যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো-

১. বিদেশি শক্তি জাপানকে আক্রমণ করলে, ঘনিষ্ট বন্ধুরাষ্ট্রের ওপর হামলা হলে এবং এসব কারণে জাপানের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়লে অথবা জাপানের জনগণ হুমকিতে থাকলে সেনারা বিদেশের মাটিতে যুদ্ধ করতে পারবে।

২. কোনো পক্ষের আক্রমণের কারণে জাপানের অস্তিত্বের নিশ্চয়তা এবং জনগণকে রক্ষার আর কোনো উপায় না থাকলে দেশের বাইরে শত্রুর মোকাবিলায় যুদ্ধ করতে পারবে সেনারা।

৩. বাহিনীগুলো ব্যবহার করা হবে সর্বনিম্ন পর্যায়ে।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন।

You Might Also Like