দেশি পেঁয়াজ পাইকারিতে ৯, খুচরা ১৭ টাকা

গত কয়েকদিনে চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে দেশি পেঁয়াজের বাজারে ধস নেমেছে। তবে পাইকারি বাজারের চেয়ে খুচরা বাজারে দামের পার্থক্য প্রায় দ্বিগুণ।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ৯ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে এর মূল্য প্রতি কেজি ১৭ থেকে ১৮ টাকা। ভারতীয় পেঁয়াজের আমদানি এবং বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের এই মূল্য ধসের কারণ বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। দেশি পেঁয়াজের পাইকারি মূল্য ৮/৯ টাকায় নেমে যাওয়ায় কৃষকেরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

দেশের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের প্রচুর সরবরাহ থাকায় পেঁয়াজের বাজারে এখন মন্দাভাব চলছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকেরা।

খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮-৯ টাকার মধ্যে। আর প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৪০০ টাকায়। অপরদিকে পাইকারিতে প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হয় ১৩-১৫ টাকায়। এ হিসাবে প্রতি মণ পেঁয়াজের দাম পড়ে ৫২০-৬০০ টাকা। একই পেঁয়াজ শহরের বিভিন্ন খুচরা বাজারে সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের আমদানিকারক এটিএম শামছুদ্দোহা জানান, বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি। এ ছাড়া ভারতীয় পেঁয়াজ বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়। আমাদের দেশি পেঁয়াজ বেশি দিন রাখা যায় না। পাশাপাশি দেখতে সুন্দর এবং পরিচ্ছন্ন হওয়ার কারণে ক্রেতারা ভারতীয় পেঁয়াজ বেশি ব্যবহার করে। ফলে ভারতীয় পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজিতে। দেশি পেঁয়াজের ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতি কেজি পেঁয়াজ পরিবহন বাবদ ন্যূনতম ৩ টাকা ব্যয় হয়। বিভিন্ন খরচ বাবদ চলে যায় কেজিতে আরো ১ টাকা। কিন্তু বাজারে ভারতীয় পেঁয়াজের প্রচুর সরবরাহ থাকায় ক্ষেত্র বিশেষে দেশীয় পেঁয়াজে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

পেঁয়াজ আমদানিকারক শফিউল ইসলাম জানান, পরিবহন ব্যয় বেশি থাকায় বর্তমানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে তুলনামূলক কম পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। চট্টগ্রামের বাজারে সরবরাহের জন্য প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ সাড়ে ১৫ টাকায়, যা কেনা হয়েছিল ১৩ টাকা কেজি দরে। প্রতি কেজি পেঁয়াজে পরিবহন বাবদ ব্যয় হয় ৩ টাকা। এ হিসাবে ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করে ৫০ পয়সা লোকসান গুনেছেন।

কৃষকেরা জানান, বর্তমানে পেঁয়াজের ভরা মৌসুম চলছে। এই সময়ে কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দামে ব্যবধান দাঁড়িয়েছে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে খরচ পড়ে ১৫-২০ টাকা। কিন্তু তারা উৎপাদিত পেঁয়াজ ৮/৯ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে কৃষকেরা বড় লোকসানের মুখোমুখি হচ্ছেন।

You Might Also Like