দুপুরে শহীদ মিনারে ফিরোজা বেগমকে শেষ শ্রদ্ধা

সকলকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন জনপ্রিয় নজরুল সংগীতশিল্পী ফিরোজা বেগম। জাতীয় কবি কাজী নজরুলের গানের পাখি খ্যাত এই শিল্পীর মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান তার কোটি ভক্ত। ফিরোজা বেগমের মরদেহ নিজ বাসায় নেয়া হয়েছে। জনপ্রিয় এ শিল্পীর প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধা জানাতে তার মরদেহ বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। ফিরোজা বেগম অনেকদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন।

ফিরোজা বেগমের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেত্রী রওশন এরশাদ ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াও শিল্পীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

কিংবদন্তী নজরুল সঙ্গীত শিল্পী ফিরোজা বেগমের মরদেহ নিজ বাসায় নেয়া হয়েছে। বুধবার সকালে এ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে মরদেহ রাজধানীর ইন্দিরা রোডের বাসা কালিন্দিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ২টা থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত মরদেহ শহীদ মিনারে সর্ব সাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।

এরপর বাদ আসর রাজধানীর গুলশান আজাদ মসজিদে নামাজে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী ফিরোজা বেগমকে দাফন করা হবে।
গত সপ্তাহে ফিরোজা বেগমকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর গত বুধবার তাঁকে বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ায় গত শুক্রবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন চিকিৎসক কৃষ্ণ মোহন সাহু ও মজিবুর রহমান।

১৯৩০ সালের ২৮ জুলাই ফরিদপুরের এক জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ফিরোজা বেগম। বাবা খান বাহাদুর সাহেব মোহাম্মদ ইসমাইল ছিলেন ব্রিটিশ সরকারের প্রথম মুসলমান কৌঁসুলি। মা বেগম কাওকাবুন্নেসা। তিন ছেলে ও চার মেয়ের মধ্যে তিনি তৃতীয় সন্তান। ৬৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংগীত সাধনা করেছেন ফিরোজা বেগম। এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে গান গাইতে গিয়ে কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। নজরুলের গান নিয়ে সারা বিশ্বে ঘুরেছেন। অল ইন্ডিয়া রেডিওতে নজরুলের গান প্রচারে অবদান রয়েছে তার।

দেশ বিভাগের পর পরিবারসহ ১৯৬৭ সালে ঢাকায় এসে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েন শিল্পী ফিরোজা বেগম। পকিস্তান সরকার তাকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেয়।

গ্রামোফোন কোম্পানির জন্য গান রেকর্ডিংয়ের কাজ করতে গিয়ে তার পরিচয় হয় সংগীত পরিচালক কমল দাশগুপ্তের সঙ্গে। ১৯৫৬ সালে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। কলকাতাতেই জন্মেছে তার তিন সন্তান তাহসিন, হামিন ও শাফিন। ১৯৭৪ সালে মারা যান স্বামী কমল দাশগুপ্ত।

নজরুল সংগীতশিল্পী হলেও ফিরোজা বেগম রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিক গান, ইসলামিক গান, লোকগানও গেয়েছেন। গ্রামোফোন রেকর্ড তো বের হয়েছেই, রেডিও, টেলিভিশনে প্রচার হয়েছে তার অসংখ্য গান। তবে চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকে কখনও আগ্রহবোধ করেননি।

বিভিন্ন সময়ে নানা সম্মাননা পেয়েছেন ফিরোজা বেগম। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো স্বাধীনতা পুরস্কার, শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার, শ্রেষ্ঠ টিভি শিল্পী পুরস্কার (পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ), নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, স্যার সলিমুল্লাহ স্বর্ণপদক, দীননাথ সেন স্বর্ণপদক, সত্যজিৎ রায় স্বর্ণপদক, বাচসাস পুরস্কার, সিকোয়েন্স পুরস্কার প্রভৃতি।

You Might Also Like