দুদকে অভিযোগের পর জামিন পেলেন হয়রানির শিকার বিদ্যুৎ গ্রাহক

বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য দেড় লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার পরও সংযোগ পাননি চট্টগ্রামের সৈয়দ আলম নামের একজন বিদ্যুৎ সংযোগ প্রত্যাশী। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্মকর্তার কাছে যাওয়ার পর তিরস্কারের শিকার হন। এর পর আবার বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলা করে এই বৃদ্ধকে জেলেও পাঠান বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা।

এ ঘটনা গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের দুদকের গণশুনানিতে সৈয়দ আলমের ছেলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে উপস্থাপন করলে দুদক দুর্নীতিবাজ বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই ঘটনার সূত্র ধরে কারাগারে থাকা বৃদ্ধ সৈয়দ আলমকে বৃহস্পতিবার দুপুরে জামিন প্রদান করেন আদালত।

সৈয়দ আলমের আইনজীবী মুকুল আচার্য্য বিকেলে জানান, গতকাল বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও হয়রানির বিষয়টি গণশুনানিতে দুদুক কমিশনার ড. নাছির উদ্দিনের সামনে উপস্থাপন করেন সৈয়দ আলমের ছেলে মনছুর আলম মিন্টু। এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেন দুদক কমিশনার। তাৎক্ষণিকভাবে এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে এবং দুর্নীতিবাজ বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন দুদক কমিশনার।

এ ঘটনার সূত্র ধরে বৃদ্ধ সৈয়দ আলমের জামিনের জন্য বৃহস্পতিবার বিদ্যুৎ আদালতে (দক্ষিণ) আবেদন জানান সৈয়দ আলমের আইনজীবী। মামলার নির্ধারিত দিন না থাকলেও বিষয়ের গুরুত্ব ও যথার্থতা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মাহমুদুল হাসান সৈয়দ আলমের জামিন মঞ্জুর করেন।

আইনজীবী মুকুল আচার্য্য জানান, প্রায় এক বছর পূর্বে বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটারের জন্য কক্সবাজার জেলার চকরিয়া বিদ্যুৎ কার্যালয়ের প্রকৌশলী ফয়জুল আলমের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা জমা দেন বৃদ্ধ সৈয়দ আলম (৭০)। টাকা দেওয়ার এক বছরেও সংযোগ না দেওয়ায় ৭ মার্চ ওই কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করলে তিনি আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় সৈয়দ আলমকে অপমান করে অফিস থেকে বের করে দেন। এ ঘটনার পর সৈয়দ আলম সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার খবর শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ এনে পাল্টা মামলা দায়ের করে বিদ্যুৎ আদালতের মাধ্যমে ওই বৃদ্ধকে কারাগারে প্রেরণ করেন। পুরো ঘটনাটি বুধবার বিকেলে চট্টগ্রামের দুদকের গণশুনানিতে কেঁদে কেঁদে তুলে ধরেন বৃদ্ধের ছেলে মনছুর আলম মিন্টু। মিন্টু অভিযোগ করার এক পর্যায়ে দুদক কমিশনারের পায়ে ধরে ঘটনার বিচার দাবি করেন।

You Might Also Like