দুই দশক পরও বাইডেনকে ভোলেননি চীনের সেই গ্রামবাসী

২০০১ সালের আগস্টের কথা। বেইজিংয়ের কাছের একটি গ্রামে ভ্রমণে গেছেন এক বিদেশি। দুই দশক পর তিনি এখন আমেরিকার সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হতে যাচ্ছেন।

জো বাইডেন ছিলেন তখন সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কীয় কমিটির প্রধান। চীন সফরে গিয়ে ইয়ানজিকাউ নামের একটি গ্রামে বিরতি নেন। সেখানকার মানুষের সঙ্গে তিনি কথা বলেন ও শিশুদের জন্য আইসক্রিম কেনেন।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে এমন তথ্য মিলেছে।

তাং শাওজুনের বয়স তখন ছিল ২১। বাইডেন যখন তার বাড়িতে কড়া নাড়েন, তখন দুই মাসের বাচ্চাকে যত্ন করছিলেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সেই সফর গ্রামীণ চীনের জন্য এক বিরল দৃশ্যপট। শাওজুন বলেন, আমাদের জীর্ণশীর্ণ বাড়ি ছিল দরিদ্রতায় জর্জরিত। যে কারণে তিনি আমাদের এখানে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

তবে সেই বাড়ি এখন আর আগের অবস্থায় নেই। তা নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়িতে মেহগনিসহ বিভিন্ন কাঠের আসবাবপত্র দেখা গেছে।

শাওজুনের স্বামী লিউ চ্যাংকাই বলেন, তিনি যখন এখানে আসেন, তখন আমাদের বাসায় কোনো ফ্রিজ কিংবা আধুনিক সরঞ্জামাদি ছিল না।

বাইডেন এক হাতে তার শিশুসন্তানকে নিয়ে তাকে চুমু খান। এর পর উপহার হিসেবে রান্নাঘরের মাংস কাটার ছোরার নিচে ২০০ ইউয়ান রেখে যান। যা পরে আবিষ্কার করেন তারা।

শাওজুন বলেন, ভবিষ্যতে আবার এখানে আসার কথা বলেছিলেন বাইডেন। আমরা সত্যিই শিহরিত। তখন ভেবেছিলাম, বিদেশিরা অনেক মহান। চীনাদের বিরুদ্ধে তারা কোনো বৈষম্য করে না।

এই চীনা দম্পতি কখনও ভাবতেও পারেননি যে তাদের কাছে আসা এই বিদেশি ভবিষ্যৎ মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

গত কয়েক দশকে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চীনকে অনেক বদলে দিয়েছে। দেশটির বহু এলাকা এখন চেনা-ই যায় না। বহু চালাঘর ভেঙে দু-তিন তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।

রীতিমতো অসংখ্য অতিথিশালা গড়ে উঠেছে। চীনের প্রাচীর দেখতে যাওয়া পর্যটকরা এসব জায়গায় অবস্থান করেন।

৫৭ বছর বয়সী লি হুয়া নামের এক বাবা বলেন, এখানে সফরকালে বাইডেনকে খুব বন্ধুসুলভ দেখা গেছে। চীনাদের তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। আমি তার কল্যাণ কামনা করছি। বাইডেন এই গ্রাম সফরে আসায় গর্ববোধ করছি।

তিনি বলেন, তারা যদি চীনের সঙ্গে কোনো সমস্যা না করে, তবে ফের এখানে ভ্রমণে আসতে পারেন।