দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে বাংলাদেশের বন্যা : ত্রাণ সংকটে দুর্গতরা

বন্যা

দেশের উত্তরাঞ্চলে নদ-নদীগুলোতে পানি ঘণ্টায় ঘণ্টায় কমছে বা বাড়ছে। কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ও ধরলা, বগুড়ায় যমুনা ও বাঙ্গালী এবং গাইবান্ধায় দুই নদীতে পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। কুড়িগ্রামে বৃহস্পতিবার দুই শতাধিক গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। গাইবান্ধায় দ্বিতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যার্তদের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে টানা বৃষ্টি। বন্যাদুর্গত এলাকায় শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে। পশুখাদ্যের সংকটও প্রকট। সরকারি পর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম।

ত্রাণ সংকটের কারণে বেশ কিছু এলাকায় যেতে পারছেন না জনপ্রতিনিধিরা। কিছু কিছু এলাকায় অপ্রতুল ত্রাণ নিয়ে বিতরন করার সময় বন্যাদুর্গতদের ধাওয়ার শিকার হয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন –

কুড়িগ্রাম

ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তাসহ কুড়িগ্রামে সব কটি নদ-নদীর পানি বেড়ে পুনরায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন করে প্লাবিত হয়েছে দুই শতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় তিন লাখ মানুষ। পাশাপাশি টানা বৃষ্টির ফলে বন্যার্ত জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি।

গতকাল বিকেলে সেতু পয়েন্টে ধরলা বিপৎসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র ৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। তিস্তার পানিও কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। পানির প্রবল চাপে সদর উপজেলার সারডোব, বাংলাবাজার, বাংটুরঘাট, উলিপুরের নাগরাকুড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। পানি কমার পর বেশ কিছু পরিবার ঘরে ফিরে গেলেও আবারও তারা বাঁধ ও উঁচু রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছে।

বন্যাকবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবারসহ গোখাদ্যের তীব্র সংকট। টানা দুই সপ্তাহের বন্যায় জেলার ৯টি উপজেলার ৯ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৮ জন মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। প্রত্যন্ত এলাকায় এখনো কোনো ত্রাণ পৌঁছেনি।

এদিকে গতকাল সকালে চররাজীবপুরে আল-আমিন নামে আড়াই বছরের এক শিশু বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছে। সে উপজেলার শিবেরডাঙ্গি বাজারপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

উলিপুরে ফের বন্যা আতঙ্ক

উলিপুরে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তার পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বাঁধ, আশ্রয়কেন্দ্র, উঁচু সড়কসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেওয়া বানভাসিদের ঘরে ফেরা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

দুর্গত এলাকায় খাবার পানি, শুকনো খাবার ও শিশুখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। চরাঞ্চলে চারণভূমি তলিয়ে যাওয়ায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। গতকাল পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৩৫ টন চাল, এক হাজার ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার, নগদ সাত লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং ১৩০টি তাঁবু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল।

তিস্তায় পানি কমা-বাড়ার চক্রে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে

ভারত থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে তিস্তায় পানি একবার বাড়ছে তো আরেকবার কমছে। গতকাল দুপুরে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে গত বুধবার রাতে ওই পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্র জানায়, গত বুধবার সকালে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এরপর দুপুর ১২টায় বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার, বিকেল ৩টায় ৩৫ সেন্টিমিটার, সন্ধ্যা ৬টায় ৪২ সেন্টিমিটার এবং রাত ৯টায় ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ওই সূত্র মতে, গত ১১ জুলাই তিস্তা বিপৎসীমা অতিক্রম করে। ১৩ জুলাই বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে তিস্তাপারে প্রথম দফা বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরপর ১৫ জুলাই পর্যন্ত বিপৎসীমা বরাবর পানি প্রবাহিত হয়ে ১৬ জুলাই নিচে নেমে আসে। ২২ জুলাই পুনরায় পানি বেড়ে বিপৎসীমা বরাবর প্রবাহিত হয়ে ২৩ জুলাই ২৮ সেন্টিমিটার নিচে নামে।

গত বুধবার সকাল থেকে আবারও পানি বাড়তে থাকলে জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার ১৫টি গ্রামের ১৫ হাজারের বেশি মানুষ দ্বিতীয় দফায় বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে।

রংপুর বিভাগে বন্যায় এ পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যু

রংপুর বিভাগের আট জেলায় সৃষ্ট বন্যায় পানিতে ডুবে এবং সাপের ছোবলে গত ১১ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে ৬৭২টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।

রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মোস্তাফা খালেদ আহমেদ জানান, বন্যাদুর্গত এলাকায় স্বাস্থ্যগত কারণে কোনো মানুষ মারা না গেলেও পানিতে ডুবে এবং সাপের দংশনে ৩৩ জন মারা গেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছে কুড়িগ্রাম জেলায়।

বন্যা মোকাবেলায় সরকার শতভাগ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। ?বন্যা শুরু হওয়ার আগে চাল, শুকনো খাবার, নগদ টাকা এবং বন্যার্তদের জন্য তাঁবু দেওয়া হয়েছে। গতকাল রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

তবে বাস্তবতা হলো, বন্যাদুর্গতদের মাঝে সরকারিভাবে যেটুকু ত্রাণ দেওয়া হয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় কোনো ত্রাণই পৌঁছেনি।

গাইবান্ধায় দ্বিতীয় দফা বন্যা

উজানের ঢল ও অবিরাম বৃষ্টিতে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদের পানি আবারও বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল ব্রহ্মপুত্রের পানি ছয় সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪৯ সেন্টিমিটার এবং ঘাঘট নদের পানি চার সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে যেসব এলাকা থেকে পানি সরে গিয়েছিল, সেসব এলাকাসহ নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। এতে দ্বিতীয় দফা বন্যায় মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। এর ফলে পানি কমতে শুরু করায় ঘরবাড়িতে ফেরার প্রস্তুতি নিতে শুরু করা বানভাসিদের অপেক্ষার প্রহর আরো দীর্ঘায়িত হয়ে পড়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় জেলার সাত উপজেলার ৫১টি ইউনিয়নের ৪২৪টি গ্রাম ও দুটি পৌরসভার পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬৯ হাজার ৮৭০টি। পানিবন্দি বেশির ভাগ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে এসে উঠছে।

বন্যার্ত মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ত্রাণ তৎপরতা পর্যাপ্ত নয়। গতকাল ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া গবাদি পশুর খাদ্য ক্রয়ে দুই লাখ এবং শিশুখাদ্যের জন্য দুই লাখ টাকা পাওয়া গেছে।

শেরপুরে ভেসে গেছে ২১ কোটি টাকার মাছ

পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের পানি শেরপুর ফেরিঘাট পয়েন্টে কিছুটা কমলেও কয়েক দফা বৃষ্টিতে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষের দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। উজানে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনায় পুনরায় পানি বৃদ্ধির খবরে জেলায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কে সাত দিন ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ তৎপরতা চালানো হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা খুবই কম। অনেক এলাকায় এখনো ত্রাণসামগ্রী না পৌঁছানোর কারণে খাদ্য সংকটে ভুগছে বন্যার্তরা।

এদিকে গতকাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা বিষয়ক এক মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জানানো হয়, সাম্প্রতিক বন্যায় জেলার পাঁচ উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিন হাজার ১৩২টি মৎস্য খামার, পুকুর ডুবে ও পার ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই হাজার ৪০৬ জন মৎস্য চাষি। চাষের মাছ ও পোনা ভেসে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

ময়মনসিংহে বেড়িবাঁধ ভেঙে ১০ গ্রাম প্লাবিত

ময়মনসিংহ সদরের চরজেলখানা এলাকায় পুরনো ব্রহ্মপুত্রের বেড়িবাঁধ ভেঙে চরগোবিন্দপুর, চরভবানীপুর, দুর্গাপুরসহ চরাঞ্চলের অন্তত ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার পরিবার। ডুবে গেছে বেশ কিছু মাছের খামার।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল হক জানান, প্রবল স্রোতে বাঁধের দুর্বল অংশ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে। তবে বালুর বস্তা ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়েছে।

বগুড়ায় আবারও বাড়ছে ২ নদীর পানি

বগুড়ায় যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করেছিল। তবে গত দুই দিনের টানা বর্ষণে ফের নদীর পানি বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক পরিবারের মানুষ।

১২ দিন ধরে জেলার সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলার ২৫ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছে বাঁধে ও উঁচু স্থানে। গৃহহারা হয়েছে দুই হাজার পরিবার। যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় তাদের মনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে টানা বর্ষণে আবারও নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে।

এদিকে বাঙ্গালী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনট উপজেলায় প্রায় দুই লাখ পরিবার নতুন করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানির তোড়ে এসব এলাকার রাস্তাঘাট ভেঙে গেছে। ভেসে গেছে আবাদের মাছ। তলিয়ে গেছে ফসলের ক্ষেত।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় সাত সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে যমুনা গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিপৎসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া বাঙ্গালী নদী বিপৎসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

রাজবাড়ীতে বিপৎসীমার ওপরে পদ্মা

পদ্মা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও গতকালও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন। জেলা সদরের গোদার বাজার ফেজ-১-এর কিছু স্থানে সিসি ব্লক ধসে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছে।

নদীর তীরবর্তী কালুখালী, রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দ উপ?জেলার ক?য়েক?টি ইউ?নিয়?নের প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় খাবার, বিশুদ্ধ পা?নি ও গবা?দি পশুর খাদ্য সংকটে মান?বেতর জীবন যাপন করছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া গেজ স্টেশন পয়েন্টে পদ্মার পা?নি ১০ সেন্টিমিটার ক?মে বিপৎসীমার ১০ সে?ন্টিমিটার এবং পাংশার সেনগ্রাম পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার কমে ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

লালমনিরহাটে দ্বিতীয় দফা বন্যা

কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে লালমনিরহাটের পাঁচ উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ। গত বুধবার সকাল থেকেই তিস্তা ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকায় নিম্নাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি ঢুকতে শুরু করে। ওই দিন রাতে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। তবে গতকাল দুপুর থেকে পানি কমতে শুরু করে। এদিকে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে হাতীবান্ধার কয়েকটি এলাকায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর জানান, এবারের দুই দফা বন্যায় পাঁচ উপজেলার এক লাখ সাত হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মাঝে সরকারিভাবে ৫০৫ টন চাল, নগদ আট লাখ ৯১ হাজার টাকা ও শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

তবে মাঠপর্যায় থেকে জানা গেছে, জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিপুল বানভাসির জন্য এই সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। এই এলাকায় অপ্রতুল ত্রাণ নিয়ে বিরতনের সময় বানভাসিদের ধাওয়ার শিকার হয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি।

You Might Also Like