‘দারফুরে রাসায়নিক অস্ত্র হামলা হয়েছে’

দারফুরে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে সুদান সরকার । আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ অভিযোগ করেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে দারফুরের জেবেল মাররা এলাকায় অন্তত ৩০বার নিষিদ্ধঘোষিত রাসায়নিক অস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্ততঃ ২৫০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। বিষাক্ত ধোঁয়ায় আক্রান্তরা রক্তবমি, শ্বাসকষ্টে ভুগে কিংবা চামড়ায় ফোসকা পড়ে মারা গেছে।

যু্ক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থাটি জানিয়েছে, সবচেয়ে সাম্প্রতিক হামলাটি হয়েছে ৯ সেপ্টেম্বরে। তারা স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত ছবি ও দুই শতাধিক সাক্ষাৎকার বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছেন।

সংস্থাটির ক্রাইসিস রিসার্চ বিভাগের পরিচালক তিরানা হাসান বলেন, ‘রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার যুদ্ধাপরাধ। আমরা যেসব প্রমাণ সংগ্রহ করেছি সেগুলো বিশ্বাসযোগ্য এবং এ থেকে এমন এক শাসকগোষ্ঠীর চিত্র ফুটে উঠেছে যারা আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার তোয়াক্কা না করেই দারাফুরের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, তারা যেসব তথ্য ও আলামত পেয়েছেন সেগুলো দুজন নিরপেক্ষ রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞকে দেখিয়েছেন।

সুদান সরকার অবশ্য অ্যামনেস্টির এ অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সুদানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহিম ঘানদৌর বলেছেন, ‘আমরা আমাদের নাগরিকদের ওপর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করিনি। আমরা এগুলো ব্যবহার করিনি। যদি এ ধরণের ঘটনা কখনো ঘটতো তাহলে সেটা বলা অনেক সহজ হতো।’

প্রসঙ্গত, ২০০৩ সাল থেকে দারফুরে সুদান সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। মূলত অনারব উপজাতি গোষ্ঠীগুলো খার্তুমের আরব শাসকদের কাছ থেকে দারফুরের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার জন্য ১৩ বছর ধরে এ লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের হিসেবে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত ওই এলাকায় ৩ লাখ লোক মারা গেছে।

You Might Also Like