‘দাঙ্গা করে, হত্যা করে, মানুষ মেরে দিল্লির গদিতে বিজিপি’

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, দেশে দ্রুত রাজনৈতিক মানচিত্র বদলাচ্ছে। তিনি গত শুক্রবার কোলকাতার নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের বর্ধিত কোর কমিটির সভায় ওই মন্তব্য করেন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট থেকে বেশ কিছু শরিকদল আলাদা হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে মমতা ওই মন্তব্য করেন।

মমতা কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘দাঙ্গা করে, হত্যা করে, মানুষ মেরে আজকে দিল্লির গদিতে বসে আছ! নিজেদের কেসগুলো ক্লিয়ার করছো আর অন্যের পিছনে এজেন্সি লেলিয়ে দিয়ে সবাইকে যাতে গ্রেফতার করা যায় তাই করছ। কিন্তু আগামী দিন কী হবে? এটা কেন বুঝতে পারছ না ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হয়। আজ তোমরা যা করছ আগামী দিনে তোমাদের বিরুদ্ধে একই কেস হবে না এটা কী তোমরা গর্ব করে বলতে পার?’

ত্রিপুরায় বিজেপি যেভাবে জয়ী হয়েছে মমতা তাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাননি। তিনি বলেন, ‘গোটা গভর্নমেন্ট অব ইন্ডিয়া নিয়ে পড়ে থেকে গুজরাটে কোনোরকমভাবে জেতা যায়। গোটা গভর্নমেন্ট ও তার এজেন্সিদের নিয়ে পড়ে থেকে ত্রিপুরায় সমস্ত অনিয়ম করে, অনৈতিক কাজ করে একটা জায়গায় জেতা যায়। কিন্তু গোটা দেশে যখন নির্বাচন হয় সেটা অত সহজ নয়। উত্তর প্রদেশ উত্তর প্রদেশের মত লড়বে, বিহার বিহারের মতো লড়বে। উড়িষ্যা উড়িষ্যার মতো, তামিলনাড়ু তামিলনাড়ুর মত লড়বে, কেরালা কেরালার মত লড়বে, রাজস্থান রাজস্থানের মতো, বাংলা বাংলার মত লড়বে। মনে রাখবেন এই লড়াই অত তাচ্ছিল্যের লড়াই নয়। এই লড়াইয়ে সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। আমি গতকাল নারী দিবসের অনুষ্ঠানে যা বলেছি তার পুনরাবৃত্তি করে বলছি, ২০১৯, বিজেপি ফিনিশ। বিজেপি’র ঔদ্ধত্য ও অহংকার শেষ হয়ে যাবে।’

তৃণমূলকে স্বচ্ছ রাজনৈতিক দল বলে উল্লেখ করে চিটফান্ড দুর্নীতির কথা বলতে গিয়ে মমতা বলেন এসব আমাদের আমলে একটাও তৈরি হয়নি। চিটফান্ড সিপিএমের আমলে তৈরি হয়েছিল। আমরা রাজনৈতিক লড়াই করি বলে আমাদের লোকেদের বদনাম দেয়া হয়েছে। আমাদের লোকেদের অনেক হয়রানি হতে হয়েছে। কিন্তু তাতে আমরা ভয় পাইনি।

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল যাতে ভালো ফল করে মমতা আজ সেজন্য আজ দলীয় নেতাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের উন্নয়নের জন্য যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে মমতা আজ সেসব উল্লেখ করে মানুষের মধ্যে তা নিয়ে প্রচারণা চালাতে বলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের ওপরে জোর দেয়ার জন্য বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

You Might Also Like