দশম সংসদকে নিয়ে কলঙ্কের অভিযোগ মানতে নারাজ স্পিকার

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হলে দেশের গণতন্ত্র কোথায় যেত- মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে এমন প্রশ্ন রেখে জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, আইনি কাঠামোর মধ্যেই ৫ জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ছে। চলতি দশম সংসদকে নিয়ে যে কলঙ্কের অভিযোগ দেওয়া হয় তা মানতে নারাজ তিনি।
কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (সিপিএ) এবং ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নে (আইপিইউ) বাংলাদেশের বিজয় উপলক্ষে পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজেএ) আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন তিনি। এসময় আইপিউ প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরীও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

৫ জানুয়ারি নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এনিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠেছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিরীন শারমিন বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও) অনুযায়ী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে। আইনি কাঠামোর মধ্যেই এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে যে কলঙ্কের কথা বলা হয়, তা ঠিক নয়।

এক প্রশ্নের জবাবে স্পিকার বলেন, যত প্রশ্নই উঠুক না কেন, নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা যদি রক্ষা না পেত তাহলে কি হতো? দেশে গণতন্ত্র না থাকলে সিপিএ ও আইপিইউ এর মতো প্রতিষ্ঠানে বিজয় হত?

তিনি বলেন, সাংবাবিধানিক প্রক্রিয়ায় ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যদি করা সম্ভব না হতো তাহলে আজ কি হতো? সাংবিধানিক ধারা অব্যাহত থাকত?

প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত দশম সংসদকে নিয়ে আন্তর্জাতিক ফোরামের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কোন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে শিরীন শারমিন বলেন, ‘এমন কোন অভিজ্ঞতা আমাদের হয়নি। দেশের সংসদকে সামনে নিয়েই নির্বাচনে আমরা জয়ী হয়েছি।’

অনুষ্ঠানে আইপিইউ এর প্রেসিডেন্ট সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, এই বিজয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের দায়িত্ব বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্ব গণতন্ত্রের নেতৃত্ব দিচ্ছে। দুটি সংগঠনের ৪৫ হাজার সংসদ সদস্যকে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিচ্ছে। এখন বাংলাদেশের সংসদকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে হবে। আর এ কাজটি করতে সর্বোপরি রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা ও সহযোগিতার প্রয়োজন। কারণ তারা সংসদ সদস্য হিসেবে কোন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেবেন সেটা ঠিক করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের বলা হয়, দলের সংসদ সদস্য। কিন্তু আমরা যে জনগণের সংসদ সদস্য সেটা গণমাধ্যমে বলা হয় না। সরকার ও সংসদের মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে। এটা তুলে ধরতে হবে।

পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবে অনুষ্ঠিত বিপিজেএ এর সভাপতি উত্তম চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন- ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া, সংগঠনের সাবেক সভাপতি শফিকুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আশিস সৈকত, সাধারণ সম্পাদক কামরান রেজা চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কাজী সাজিদুল হক।

You Might Also Like