দল নয়, জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চায় ভারত

বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেছেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছেন, ভারতের নতুন সরকার কোনো দল বা ব্যক্তির সাথে সম্পর্ক রাখতে চায় না। ভারত সরকার পার্শ্ববর্তী দেশের জনগণের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়।

ভারতরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সাথে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

শমসের মবিন বলেন, বিএনপি’র চেয়ারপারসনের সঙ্গে সুষমা স্বরাজের অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে বেগম জিয়া দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও অমীমাংসিত বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানান।

প্রতিউত্তরে সুষমা স্বরাজ খালেদা জিয়াকে আশ্বস্ত করে বলেন, সার্ক’র গঠন অনুসারে পাশ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর সাথে কাজের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। তবে ভারতের ভিতরে এ বিষয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলে জানান সুষমা স্বরাজ।

শমসের মবিন বলেন, বৈঠকে বিএনপি’র চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সুষমা স্বরাজকে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে পৃথিবীর বৃহৎ  গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের অনেক কিছু করনীয় রয়েছে। এ সময় বেগম জিয়া ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের ৫ জানুয়ারি ও মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রসঙ্গে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে কোনো আলাপ হয়েছে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে শমসের মবিন বলেন, এটি আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয় বৈঠকে আলোচনা হয়নি।

বৈঠকে উপস্থিত থাকা বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খাঁন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের তথাকথিত সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না’ এ বিষয়টি আমরা ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরে বলেছি, সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ভারত এ অঞ্চল এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিকাশে ভুমিকা পালন করতে পারে।

বৈঠকের এক পর্যায়ে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে খালেদা জিয়ার ১০ মিনিটের একান্ত আলাপ হয় বলেও বৈঠক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলের বেঙ্গলস্যুটের ৮২৪ নং কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়।

বৈঠকে খালেদা জিয়ার সাঙ্গে আছেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহম্মদ।

অন্যদিকে সুষমা স্বরাজের সঙ্গে আছেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতে হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ, পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আকবর উদ্দিন।

এর আগে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে খালেদা জিয়া সোনারগাঁও হোটেলে আসেন।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে খালেদার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) সদস্যরা সোনারগাঁও হোটেল এলাকার নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চিত হন।

এদিকে খালেদার সঙ্গে মতবিনিময় শেষে শুক্রবারই ভারত ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে সুষমার।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর আমন্ত্রণে বুধবার ঢাকা আসেন ভারতের নব-নির্বাচিত বিজেপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। তিনি ২৭ জুন পর্যন্ত ঢাকায় অবস্থান করবেন।

You Might Also Like