ত্রিমুখী মার্কিন নীতির জ্বালামুখে বিপর্যস্ত মধ্যপ্রাচ্য

ঘটনাটি ঘটার পর প্রায় ৭০ বছর অতিবাহিত হয়ে গেল- এ দীর্ঘ সময়ে সমগ্র আরব উপদ্বীপে কম করে হলেও ৭০ লাখ লোকের প্রাণহানি হয়েছে- আরব ও আরবসংশ্লিষ্ট ইরান ও উত্তর আফ্রিকার জনপদগুলোর মানচিত্র ৭০ বারেরও বেশি পরিবর্তন হয়েছে এবং ঘরছাড়া হয়েছেন সাত কোটি বা ৭০০ লাখ মানুষ। এসব দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে বর্ণবাদী এবং স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট জেনারেল ট্রু ম্যানের একটি একরোখা সিদ্ধান্ত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সমগ্র মুসলিম বিশ্বের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে বলতে গেলে একক সিদ্ধান্তেই ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিতে তিনি ইহুদি রাষ্ট্র কায়েম করেছিলেন।

ভদ্রলোকের ভালো নাম হ্যারি এস ট্রু ম্যান। ১৯৪৫ সালের ১২ এপ্রিল তিনি ৩৩তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার পূর্বসূরি ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট আজ অবধি বিশ্ব রাজনীতিতে ভালো মানুষীর মূর্তপ্রতিক হয়ে রয়েছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন নজদের ইবনে সৌদ, হাইলের আব্দুর রশিদ দস্তাম এবং হেজাজের শাসনকর্তা শরীফ হোসেনের সাথে প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট যেসব অঙ্গীকার করেছিলেন তার প্রায় সবগুলোই নতুন প্রেসিডেন্ট ট্রু ম্যান এসে উল্টে দেন। নিজের জঙ্গিবাদী ক্ষমতার পরাকাষ্ঠা দেখানোর জন্য তিনি জাপানের হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলার নির্দেশ দেন। তার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কলঙ্কময়, সবচেয়ে নির্মম এবং সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটানো হয়। ১৯৪৫ সালের আগস্ট মাসে সংঘটিত সেই কুকর্মে জাপানের দু’টি মহানগরীর এক লাখ ২৯ হাজার নিরীহ মানুষ তৎক্ষণাৎ মারা পড়ে- পুরো শহর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়- এবং গত ৭০ বছর ধরে জাপান জাতি সেই ট্র্যাজেডির নির্মম পরিণতি ভোগ করে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিজেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে জাপান রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কয়েকশত বার তাবৎ দুনিয়ার কাছে ক্ষমা চেয়েছে- কিন্তু এত বড় নির্মম ঘটনার জন্য মার্কিনিরা ক্ষমা চাওয়া তো দূরের কথা- উল্টো অহঙ্কার করে বেড়াচ্ছে।

ট্রু ম্যানের কারণেই প্রথম কোরীয় যুদ্ধের সূচনা হয় এবং তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে কুখ্যাত ঠাণ্ডা যুদ্ধের অবতারণা করেন। ট্রু ম্যান ডকট্রিন বলে পরিচিত পরিকল্পনার অধীন তিনি জাতিসঙ্ঘ নামের একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন যা মূলত সারা দুনিয়ায় জাতিসঙ্ঘের নাম করে মার্কিন তাঁবেদারি স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। জাপান, কোরিয়া, ইউরোপ এবং পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ সাগর-মহাসাগরে মার্কিন সেনাবাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে তিনি যুদ্ধের হুমকির মধ্যে আবদ্ধ করার সূচনা করেন। তার পৃষ্ঠপোষকতায় মার্কিন জাতি আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে দুনিয়াব্যাপী যে তাণ্ডব, লুটপাট এবং হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে এবং এখনো চালাচ্ছে- সে সবের তুলনা হাজার বছরের মানব ইতিহাসের সব কুকর্ম একত্র করলেও হবে না। সারা দুনিয়ার ৪০ শতাংশ সম্পদ আজ মার্কিনিদের হাতে- আর পুরো দুনিয়া ধ্বংস করতে তাদের সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট। কাজেই মার্কিন মুল্লুকের একটি পিঁপড়াও নিজেদের বাদশাহ মনে করে যদি বিশ্ব ইতিহাসে ক্ষমতার পাদপীঠে থেকে তাদের মতো এত পরাজয়, এত লাঞ্ছনা, এত অভিশাপ এবং অপমান অন্য কোনো সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রের কপালে জোটেনি।

আমাদের আজকের প্রসঙ্গ- মধ্যপ্রাচ্য। প্রথম মহাযুদ্ধে ইঙ্গ-মার্কিন চক্রান্তে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি তছনছ হয়ে যায়। প্রায় ৮০০ বছরের অটোম্যান শাসনের গৌরবময় অধ্যায়ের পর পশ্চিমাদের অনুগত তাঁবেদারগণ ইরাক, মিসর, সিরিয়া, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ইরান, ইয়েমেন, লিবিয়া প্রভৃতি দেশের ক্ষমতার মসনদে চেপে বসে। শুধু ব্যতিক্রম ঘটে- সৌদি আরবে যা অটোম্যান আমলের শেষ সময়ে অনেকটা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের মর্যাদা ভোগ করত। মক্কা-মদিনা ছিল হেজাজ অঞ্চলের অধীন। হুজুরে পাক সা:-এর সরাসরি বংশধর শরীফ হোসেন অটোম্যানদের প্রতিনিধি হিসেবে সেই এলাকা শাসন করতেন, যা কিনা অনেকের কাছে দক্ষিণ আরব নামে পরিচিত ছিল। অন্য দিকে, উত্তর আরবের তিনটি এলাকা যথা- নজদ, নুফুদ এবং হাইল শাসিত হতো দু’টি পরিবার দ্বারা। উত্তর আরবের বেশির ভাগ অঞ্চল মরুভূমি এবং বাসিন্দারা যাযাবর হওয়ার কারণে পৃথিবীর কোনো শাসকই সেখানে স্থানীয় গোত্র প্রধানদেরকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রীয় শাসন কায়েম করতে পারেননি। প্রথম মহাযুদ্ধে তুর্কি অটোম্যানদের পতনের পর উত্তর আরব পুরোপুরি স্বাধীন হয়ে যায়। ইবনে সৌদের পরিবার অন্যান্য আরব উপজাতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে করতে ১৯৩২ সালের মধ্যে আজকের সৌদি আরবের পুরো এলাকা একই রাজ্যভুক্ত করে ফেলেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টের সাথে আরব নেতৃবৃন্দের যে বোঝাপড়া এবং সমঝোতা ছিল তা পরবর্তী প্রেসিডেন্ট ট্রু ম্যান রীতিমতো অপমানজনকভাবে প্রত্যাখ্যান করে মুসলমান অধিকৃত ফিলিস্তিনে ইসরাইল নামে একটি ইহুদি রাষ্ট্র কায়েম করেন। ১৯৪৮ সালের ১৪ মে ট্রু ম্যান ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেয়ার ১১ মিনিট পর জাতির উদ্দেশে ভাষণে বলেন- হিটলার যেভাবে বিনাবিচারে ইহুদি হত্যা করেছিল তখন তার নির্মমতা দেখে আমার সাধ জাগতো- যদি পারি তবে আমি ইহুদিদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র গড়ে দেবো। আমি মনে করি ইহুদিদের একটি মাথাগোঁজার ঠাঁই দরকার। অন্য দিকে, হিটলারের নির্মমতার শিকার ইহুদিরা যখন নতুন জীবন শুরু করার জন্য একটুও ঠাঁই পাচ্ছে না তখন আমেরিকান সরকার অবশ্যই চুপ থাকতে পারে না।

ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রায় ৭০ বছর পরও রাজনীতির বিশ্লেষক, গবেষক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা ভেবে পান না কেন ট্রু ম্যান সে দিন তাবৎ বিশ্ব জনমত এমনকি মার্কিন রাজনীতিবিদ এবং জনগণের বিরাট অংশকে অবজ্ঞা এবং অবহেলা করে সম্পূর্ণ স্বৈরতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার উদ্ভট চিন্তা চেতনা এবং কথাবার্তার কোনো সীমা-পরিসীমা ছিল না। চিন্তা চেতনায় তিনি কোনো সূত্র মানতেন না। ১৯৪১ সালে হিটলার কর্তৃক সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রান্ত হওয়ার এক সপ্তাহ পর তিনি লিখলেন- ‘যদি দেখা যায় জার্মানি জিতে যাচ্ছে তবে আমাদের উচিত হবে রাশিয়াকে সাহায্য করা। অন্য দিকে, যদি রাশিয়ার জয়লাভের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় তবে আমরা জার্মানিকে সাহায্য করব। এইভাবে আমরা যুদ্ধরত পক্ষকে এমন সুযোগ করে দেবো যাতে তারা ইচ্ছেমতো গণহত্যা চালাতে পারে যদিও আমি ব্যক্তিগতভাবে হিটলারকে বিজয়ী দেখতে চাই না।’

অন্য দিকে, পারমাণবিক বোমা সম্পর্কে ট্রু ম্যান ১৯৪৫ সালের ২৫ জুলাই তার ডায়েরিতে লেখেন- ‘আমরা পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বোমা বানিয়েছি। এটি আগুনের এমন এক ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাবে যা কিনা পৃথিবীতে বিধাতার অভিশাপরূপে এমন কাহিনীর জন্ম দেবে যেরূপ কাহিনী সৃষ্টি হয়েছিল ইউফ্রেতিস নদীর অববাহিকায় দুই নদীর মোহনায় সংঘটিত মহাপ্লাবনের পর।

ট্রু ম্যান ডকট্রিনে আক্রান্ত হয়ে মার্কিনিরা পুরো আরব উপদ্বীপে শুরু করে ত্রিমুখী তৎপরতা। এক দিকে মার্কিন ইহুদি স্বার্থ, অন্য দিকে নিজেদের সৃষ্ট তাঁবেদারকে রক্ষা এবং আরব জাতীয়তাবাদকে ধ্বংস করা। মার্কিনিদের তৎপরতা এবং নব্য ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের বাড়াবাড়ির কারণে শুরু হয়ে যায় প্রথম আরব-ইসরাইল যুদ্ধ। ১৯৪৮ সালের ১৫ তারিখে যুদ্ধ শুরু হয় এবং চলে ১০ মার্চ ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত। যুদ্ধে আরবরা শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় বটে কিন্তু এর ফলে চাঙ্গা হয়ে ওঠে আরব জাতীয়তাবাদ। সৌদি বাদশাহ আব্দুল আজিজ ১৯৫০ সালে তার দেশে কর্মরত আমেরিকান তেল কোম্পানিকে চরমপত্র প্রদান করেন রয়্যালটি বাড়ানোর জন্য। অন্যথায় তেলসম্পদ জাতীয়করণের হুমকি দেন। মার্কিনিরা বাদশাহর হুমকি মতে রয়্যালটি বাড়ান বটে কিন্তু তলে তলে তাকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত শুরু করেন। তারা বাদশাহর এক স্ত্রীকে হাত করেন এবং সেই স্ত্রী বাদশাহর ব্যবহৃত সুরমাতে বিষ মিশিয়ে দেন। এর ফলে বাদশাহ প্রাণে বাঁচলেও একটি চোখ চিরতরে অন্ধ হয়ে যায়।

৫০-এর দশকে মিসরে আরব জাতীয়তাবাদের পুরোধা জামাল আবদেল নাসেরের অভ্যুদয় হয়। ১৯৫৬ সালে মিসরের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেয়ার অল্প ক’দিন পরই তিনি পশ্চিমা স্বার্থের মূলে কুঠারাঘাত করে বিখ্যাত সুয়েজ খালকে জাতীয়করণ করেন। তার নেতৃত্বেই ১৯৬৭ সালে শুরু হয় দ্বিতীয় আরব-ইসরাইল যুদ্ধ। মার্কিন চক্রান্তে এ যুদ্ধে আরবরা আবার অপমানিত হয়। ঠিক এ সময়ে সৌদি বাদশাহ সৌদ ইবনে আব্দুল আজিজের নেতৃত্বে আরব রাষ্ট্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তেল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর ফলে নাসের এবং বাদশাহ সৌদ উভয়কেই রহস্যজনক মৃত্যুর কবলে পড়তে হয়। মিসরে ক্ষমতায় আসেন আনোয়ার সাদাত এবং সৌদি আরবে বাদশাহ ফয়সাল। এই উভয় নেতাকেই কায়েমি স্বার্থবাদীদের চক্রান্তে আততায়ীর হাতে নির্মমভাবে খুন হতে হয়।

গত ৭০ বছর ধরে ত্রিমুখী মার্কিন নীতির কারণে আরব উপদ্বীপে একের পর এক যুদ্ধ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, মারামারি, কাটাকাটি এবং পারস্পরিক শত্রুতা ও বিদ্বেষের কারণে আরব জাতীয়তাবাদ যেমন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে- তেমনি মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় চেতনা, জীবন ও সম্পদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ইসরাইলের কারণে পিএলওর সৃষ্টি হলো। আবার পিএলওকে ধ্বংস করার জন্য মার্কিনিরা আবু জিন্দালের নেতৃত্বে পৃথক বাহিনী গঠন করল। আফগানিস্তানের রুশ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে তালেবান এবং আল কায়েদা সৃষ্টি করল- আবার কিছু দিন পর নিজেদের স্বার্থে আঘাত পড়ায় তালেবান ও আল কায়েদা ধ্বংস করার জন্য কোমরে গামছা বেঁধে নেমে গেল। ইরানের বিপ্লব রুখে দেয়ার জন্য সাদ্দামকে মদদ দেয়া আরাম্ভ করল- আবার ক’দিন পর তাকে ধ্বংস করার জন্য জন্ম দিলো দুই-দুইটি মারাত্মক যুদ্ধের। সিরিয়ার আসাদ পরিবার, মিসরের হোসনি মোবারক, লিবিয়ার গাদ্দাফি, তিউনিশিয়ার বেন আলী প্রমুখেরা মার্কিন মদদে সৃষ্টি হয়ে আবার মার্কিনিদের দ্বারাই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আইএসের উত্থান, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ, সৌদি আরবকে ইয়েমেনি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে আক্রমণে মদদ দান, মিসরে সিসির উত্থান, মুসলিম ব্রাদারহুডের পতনের জন্য সর্বগ্রাসী তৎপরতা, ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তি, লিবিয়া, সিরিয়া, জর্ডান, ইয়েমেন, ইরান প্রভৃতি দেশের আল কায়েদার সাথে সম্পর্ক পুরো মধ্যপ্রাচ্যের শান্তিকামী মানুষেকে ভাবিয়ে তুলেছে। বর্তমান সৌদি বাদশাহকে চাপে রাখার জন্য দেশের অভ্যন্তরে একের পর এক সন্ত্রাসী হামলা, শিয়াদের প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন এবং নিজের দেশে কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা না দিয়ে হঠাৎ করে তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে দিয়ে বিশ্ব তেলের বাজারে ধস নামানোর মাধ্যমে স্বর্ণের দামের পতন ঘটিয়ে মার্কিনিরা মধ্যপ্রাচ্যকে ভয়াবহ অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার পথে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি মাত্র ৪০ ডলার। বাজার বিশ্লেষকদের মতে এ মূল্য আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে ৩০ ডলারে নেমে আসতে পারে এবং এ অবস্থা যদি বছরখানেক ধরে চলে তবে রাশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো গ্রিসের মতো দেউলিয়া হয়ে পড়বে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা হিসাব মেলাতে পারছেন না- কেন মার্কিনিরা মধ্যপ্রাচ্যের সব কিছু ধ্বংস করার চক্রান্তে উঠেপড়ে লেগেছে। দেশগুলোর প্রায় সবাই তাদের কৌশলগত মিত্র। অর্থনীতি, রাজনীতি কিংবা ভৌগোলিক স্বার্থ বিবেচনা করলে বিশ্বশান্তির জন্য আরব উপদ্বীপে শান্তি অনিবার্য। সেখানে বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি যদি অশান্তির মদদ দেয় তবে সংশ্লিষ্টদের ভীতসন্ত্রস্ত না হয়ে উপায় থাকে না। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি গবেষণা করেন এমন একজন সাংবাদিক মার্কিনিদের ইহুদিপ্রীতি এবং মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাবকে সব অশান্তির মূল কারণ বলে চিহ্নিত করেছেন। প্রায় হাজার বছর ধরে এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপ শাসন করা মুসলমানদের কৃষ্টি, কালচার, সভ্যতা, ভব্যতা, ধর্মবোধ এবং একতাকে অ্যাংলো-স্যাক্সন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যমের মতো ভয় করে। মুসলমানদের নবী, কুরআন, নামাজ, হজ, মসজিদ প্রভৃতিকে তারা বিশ্ব মুসলিম ভ্রাতৃত্ব এবং একতার প্রতীক হিসেবে দেখে। কাজেই যেকোনো মূল্যে এসব প্রতীকে কালিমা লেপন করে মুসলমানদের চিরতরে ধ্বংস করার নীলনকশার বাস্তব রূপ দেয়ার জন্য যেমন ইসরাইল নামে ইহুদি রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল তেমনি সেই ঘটনার ৭০ বছর পরেও মার্কিনিরা মধ্যপ্রাচ্যকে বিপর্যস্ত করার জন্য নিত্যনতুন ষড়যন্ত্রের জন্ম দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রু ম্যানের কূটনৈতিক উপদেষ্টারা যখন তাকে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে নিষেধ করেছিলেন তখন তিনি সহাস্যে উত্তর করলেন- ‘আমার নির্বাচনী এলকায় তো একজন আরব ভোটারও নেই-’। ট্রু ম্যানের এই দম্ভ, অহঙ্কার এবং তুচ্ছ তাচ্ছিল্যের ধারক-বাহকেরাই আজকের মধ্যপ্রাচ্যের বিষবাষ্পের জন্য দায়ী।

You Might Also Like