তিন হাজার বছর আগের কবর!

এখন সময় ডেস্কঃ মানুষ যেখানেই গেছে, সেখানেই এঁকে দিয়েছে তার পদচিহ্ন। কখনো নিজের অজান্তে, সকলের অলক্ষ্যে ; আবার প্রকাশ্যে, সকলেই জানতে তার অস্তিত্বের কথা।
যীশুখ্রীষ্টের জন্মের হাজার হাজার বছর আগে ফেরাউন বাদশাহরা নিজেদের গর্বের কথা প্রচার করেন অত্যন্ত দম্ভের সঙ্গে। সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে নিজেদের তুলনা করতেন তারা। তাদের অত্যাচার, নির্যাতনের সাক্ষী হয়ে আছে নানা নিদর্শন।

আবার তাদেরই সৃষ্টি পিরামিড হয়ে আছে বিশ্বের বিস্ময় হিসেবে। এর নির্মাণ কৌশল মানষের কাছে এখনো রয়ে গেছে রহস্য হয়ে। মমিগুলো কথা বলতে পারে না, তবু হয়তো তাদেরও তৈরির কৌশল তারা নিজেরাই দিবে মানুষের কাছে, হয়তো দূর কোনো ভবিষ্যতে পুরোপুরি উদঘাটিত হবে মমি তৈরির রহস্য।

সুদূর অতীত থেকে বর্তমান, সবই জানা হয়ে যাচ্ছে মানুষের। তারপরও কিছু কিছু বিষয় এড়িয়ে যাচ্ছে, পুরোপুরি জানা সম্ভব হচ্ছে না ; কিছুটা জানা , আবার কিছুটা অজানা হয়ে থেকে যাচ্ছে কোনো কোনো বিষয়।

চিন্তার কিছু নেই, সবই জানা হয়ে যাবে মানুষের। তবে সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই যেমন অতিসম্প্রতি ফিলিাস্তাইন্স কবরস্থানের সন্ধান পেয়েছেন ইসরায়েলের গবেষকরা।
4
তারা বলছেন, এই প্রথমবারের মতো ইতিহাস প্রশিদ্ধ জাতি ফিলিস্টাইনিদের কবরস্থানের সন্ধান পাওয়া গেল। কবরটি পাওয়া যায় ২০১৩ সালে। কিন্তু তখন তা গোপন রাখা হয়। প্রকাশ করা হয় রোববার (১০ জুলাই)। লিওন লেভি এক্সপিডিশন কবরটি খোড়া শুরু করেছিল ৩০ বছর আগে।
ফিলিস্তাইন্স লোকজন কোথা থেকে এসেছিল বা তাদের উৎস কোথায় সেসব নিয়ে রহস্য আগে থেকেই ছিল। ওই কবরের সন্ধান পাওয়ায় এখন তার অবসান হলেও হতে পারে কিংবা পাওয়া যেতে পারে তার একটি উত্তর।

খনন কাজে যারা নেতৃত্ব দেন তারা বলছেন, মাটি খুড়ে তারা উদ্ধার করেছেন ১৪৫টি দেহাবশেষ। দেহাবশেষগুলোর আশপাশে রাখা ছিল খাদ্যদ্রব্য, নানা রকম অলংকার সামগ্রী ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রশস্ত্র। এছাড়া সুন্দর সুন্দর সুগন্ধিও ছিল দেহাবশেষগুলোর আশপাশে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে বলা হচ্ছে, দেহাবশেষগুলো কমপক্ষে যীশুখ্রিষ্টের জন্মের একাদশ থেকে অষ্টাদশ শতক আগের।
5
খনন কাজের নেতাদের একজন ড্যানিয়েল এম মাস্টার বলছেন, ফিলিাস্তাইন্সরা যেসব নিদর্শন রেখে গেছেন, তা পরীক্ষা করে দেখা হয় একবছর দুই বছর নয়, কয়েক দশক ধরে। অবশেষে তারা এসে দাঁড়িয়েছেন এখন বর্তমান অবস্থার মুখোমুখি। ‘আমরা আসলেও রহস্য উদ্ঘাটনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছি,’বললেন তিনি।
6

কিন্তু খনন কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিন বছর ধরে কেন গোপণ রাখা হয় কবরস্থাটি পাওয়ার কথা। এর উত্তরও দিচ্ছেন খনন কাজের নেতারা। তারা বলছেন, ‘কবর খোড়ার কথা শুনলে অতিগোড়া ইহুদিরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠতো এবং এর সম্ভাবনাও ছিল ব্যাপক। তাই তাদের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করা হয়নি।’ প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ করা যায় যে, খনন কাজের বিরুদ্ধে তারা একবার বিক্ষোভও করেছিল। তাদের অভিযোগ, কবরস্থানে যারা শান্তিতে ঘুমিয়ে আছেন, তাদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে দেয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, শান্তিতে ঘুমাতে দেয়া হোক তাদের।

7

কিন্তু মাস্টার বলছেন, ‘আমরা এতোদিন অপেক্ষা করেছি জিহ্বা কামড়ে ধরে।’

ভৌগলিকভাবে ফিলিাস্তাইন্সদের উৎপত্তিস্থল আসলে কোথায় ? এ প্রশ্নের উত্তর নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মত পার্থক্য থাকলেও তা জানা যাবে ধীরে ধীরে। অনেকে বলছেন, গ্রিসের মূলভূখন্ডে, কেউ কেউ আবার বলছেন, ক্রিট কিংবা সাইপ্রাস দ্বীপে, আবার কেউ কেউ বলছেন, এ দু’টির কোনোখানে নয়, তাদের উৎপত্তিস্থল হচ্ছে আধুনিক তুরস্কের আনাতোলিয়ায়।
8

এখন দেহাবশেষগুলোর ডিএনএ, রেডিও কার্বন ও অন্যান্য পরীক্ষা করা হবে। এর ফলে সূনির্দিষ্টভাবে জানা যাবে তাদের উৎপত্তিস্থল।

বেশিরভাগ ফিলিাস্তাইন্সকে কবর দেয়া হয়েছে ব্যক্তিগত ও ব্যবহার্য জিনিসপত্রসহ। খনন কাজের নেতারা বলছেন, এসব জিনিসপত্রের মধ্যে রয়েছে ব্রেসলেট, কানের দুল, অস্ত্রশস্ত্র, সুগন্ধি রাখার পাত্র, ছোট ছোট গামলা ইত্যাদি।

‘এভাবেই ফিলিাস্তাইন্সরা তাদের মৃতব্যক্তিদের সম্মান দেখাতো। এগুলো আসলে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, এগুলোর মাধ্যমে যে চিহ্ন বা সংকেত পাওয়া যায়, সেগুলোর মর্ম উদ্ধার করলেই সবকিছুই জানা যায়,’বললেন প্রত্নতাত্ত্বিক অ্যাডাম আজা। তিনিও অংশ নিচ্ছেন খনন কাজে।

9
বাইবেলে ফিলিাস্তাইন্সদের চিহ্নিত করা হয়েছে প্রাচীন ইসরায়েলিদের চরম শত্রু হিসেবে। ধারণা করা হয়, যীশুখ্রীষ্টের জন্মের প্রায় ১২০০ বছর আগে পশ্চিমের ভূখ- থেকে তারা প্রাচীন ইসরায়েলে এসেছে।

ফিলিাস্তাইন্সরাই আধুনিককালে গোলিয়াথ হিসেবে পরিচিত। বাইবেলের মতে, এই বিশালদেহি গোলিয়াথ যোদ্ধাদের হারিয়েই হযরত দাউদ (আ.) বাদশাহ হয়েছিলেন।

You Might Also Like