‘তিন দিন ধইরা পেটে ভাত নাই’

‘ঘর ভাড়া দিতে পারি নাই। দ্যাশেও যাইতে পারি না। লগে টাকা নাই। তিন দিন, তিন রাত অফিসের গেটে বইসা আছিলাম। তাই তিন দিন ধইরা পেটে ভাত নাই। পারলে বিজিএমইএর খাবার কাইড়া খামু।’ কথাগুলো এভাবেই বলছিলেন পদ্মা সোয়েটার লিমিটেডের শ্রমিক হালিমা বেগম।

এটা শুধু হালিমার কথা নয়। হালিমার মতো শত শত গার্মেন্টস শ্রমিকের কথা। শনিবার দুপুরে মিরপুর-১ এ অবস্থিত পদ্মা সোয়েটার লিমিটেডের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ শ্রমিক বিজিএমইএ ভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

অবস্থানরত শ্রমিকরা জানায়, ঈদের পর থেকে কারখানার মালিক বেতন-ভাতা নিয়ে টালবাহানা করছে। ঈদেও পুরোপুরি বেতন দেয়নি। গত (১৩ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার কারখানায় বেতন নিতে গেলে কারখানার কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। কারখানার মালিক পালিয়েছে।

কারখানাটির শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা বিজিএমইএ এর কাছে এসে কোন সমাধান পাইনি। তারা আরো আমাদের উস্কে দিচ্ছে। বিজিএমইএ’র কর্মকর্তারা বলছে, বেতন না পেলে তোমরা কারখানার মালামাল বিক্রি করে দাও। কারখানায় ভাঙচুর কর। আমাদের কাছে কেন এসেছ? আমরা কোনো সমাধান দিতে পারব না।

এ কথার সত্যতা মিলল বিজিএমইএ’র এডিশনাল সেক্রেটারি (লেবার) রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে।

তিনি বলেন, কারখানার মালিক পালিয়েছে। সেখানে আমাদের করার কী আছে। আমরা তো আর মালিককে খুঁজে দেব না। মালিক থাকলে সমস্যার সমাধান করা যেত। যেহেতু মালিক নেই। তাই আমরা কিছুই করতে পারব না।

কারখানার আরেক শ্রমিক রাসেল উদ্দিন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভাই কী লেখেন? আমগো কথা লেইখ্যা লাভ কী? এই ল্যাখা পড়ব কে? পড়লেই বা কী হইব। বেতন দিতে পারবে না। তাইলে কারখানা চালাইয়া লাভ কী? বন্ধ কইরা দেক।’

বিজিএমইএ ভবনের দেয়ালে লেখা ‘আমার মাইয়া একদিন ডাক্তার হইব’ এমন ছোট-বড় স্বপ্নে এগিয়ে যায় মানুষ। এই লেখার দিকে দৃষ্টি দিয়ে রহিমা নামের আরেক শ্রমিক বলে উঠে ‘এইসব ঢাহা মিথ্যা কথা। আমার মাইয়া স্কুলে যাইতে পারে না। কারণ পরীক্ষার ফিস দিতে পারি নাই। তাইলে আবার ডাক্তার হইব ক্যামনে?’

You Might Also Like