গুলশানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত এসি রবিউল স্বজনদের প্রাণের`রবি কামরুল’

এখন সময় ডেস্কঃ গুলশান জোনের এসি রবিউল নিহতের ঘটনার পর ফেসবুকে পাওয়া যায় ভিন্ন রবিউলকে। যিনি কেবল একজন দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তাই নন, বেছে নিয়েছিলেন গ্রামে প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি অন্য জীবন উপহার দেওয়ার স্বপ্নও।
নাম রবিউল করিম। ডাক নাম কামরুল। বন্ধুদের নিয়ে দেশ গড়ার স্বপ্ন এবং পরিকল্পনায় কমতি ছিল না। আড্ডা আর পরিকল্পনার ফাঁকে কখন তার নাম হয়ে গেছে ‘রবি’ কামরুল তা নিজেও টের পাননি। আর সেই নামেই তার ফেসবুক একাউন্ট। তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু সাংবাদিক নূর সিদ্দিক বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রবিউল ৩০তম ব্যাচের ছাত্র। বিসিএসও সে ৩০তম ব্যাচের। রবিউল আমার বন্ধু। আমার ভাই। আমিই নাম দিয়েছিলাম ‘রবি কামরুল’। এই নামেই সে বিশ্ববিদ্যলয়ে পরিচিত ছিল।
রবিউলের ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা যায় কী প্রাণপণ চেষ্টায় তিনি এলাকায় গড়ে তুলেছেন প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি স্কুল। মানিকগঞ্জের কাটিগ্রামে জন্মানো এই পুলিশ কর্মকর্তা ওখানেই গড়ে তুলেছেন স্কুলটি। শেষ কয়েকটি স্ট্যাটাস এই স্কুলকে ঘিরেই, স্কুলের বাচ্চাদের সঙ্গে তোলা ছবি তিনি শেয়ার দিয়েছেন। ২৯ জুন তিনি একটি ফরম শেয়ার করেন, যেটি তার বিশেষায়িত স্কুল। এতকিছু করেন যে মানুষটি, ফেসবুক পেজে ব্যক্তির পরিচয় দিতে ইন্ট্রো নামের যে নতুন জায়গা দেওয়া হয়েছে, যেখানে নিজের সম্পর্কে লিখতে হয়, সেখানে একসারিতে অনেকগুলো জিজ্ঞাসাচিহ্ন দিয়ে রাখা। এই চিহ্নে ব্যাখ্যা যিনি দিতে পারতেন তিনি এখন না ফেরার দেশে। তিনি কি নিজেকে খুঁজছেন? এত কাজের মধ্যেও নিজেকে কোথাও খুঁজে পাননি।
এই অসামান্য মানুষটির নিহতের খবরে ভেঙে পড়েছেন তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বন্ধু ও স্বজনরা। নূর সিদ্দিকী তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য তুই একটা স্কুল করেছিলি। ইটালির প্রবাস জীবন ছেড়ে দেশ সেবার ব্রত নিয়েছিলি। একবার কি ভেবেছিলি দেশটাই প্রতিবন্ধী?’
রবিউল শেষবারের মতো পুলিশ কমিশনারের বক্তব্যসহ প্রতিবেদন শেয়ার করেছিলেন তার ফেসবুকে। যেখানে জননিরাপত্তা বিধানে পুলিশ সবসময় আন্তরিকতার সঙ্গে ক্লান্তিহীন কাজ করে যাচ্ছে এবং আসন্ন ঈদকে ঘিরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে কমিশনার কোন ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঘটনার দুইদিনের মধ্যে তাকে প্রাণ দিয়ে তা ভুল প্রমাণ করতে হবে, তা কে ভেবেছিল?

You Might Also Like