ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর আমেরিকায় ইসলাম বিদ্বেষী তৎপরতা বৃদ্ধি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে সেদেশে ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্ঠিগুলোর তৎপরতা ব্যাপক বেড়ে গেছে।

‘দ্য সাউদার্ন পোভার্টি ল সেন্টার’ আমেরিকায় নাগরিক অধিকারের বিষয়টি দেখাশোনা করে থাকে। এই প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনের প্রথম বছরে অর্থাৎ ২০১৭ সালে আমেরিকায় ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্ঠির সংখ্যা ১০১ থেকে বেড়ে ১১৪তে পৌঁছেছে।

এই পরিস্থিতিকে অপ্রত্যাশিত বলে মনে করছেন না অনেকেই। কেননা ২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প কোনোরকম রাখঢাক ছাড়াই আমেরিকায় মুসলমানদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ার কথা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন। ক্ষমতায় আসীন হবার প্রথম সপ্তায় তিনি ৮ মুসলিম দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষাও করেছেন।

ওই আদেশে স্বাক্ষর করার ফলে আমেরিকায় প্রবেশ করার ব্যাপারে বিশেষ করে মুসলমানদেরকে কী যে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিল, তা বলাই বাহুল্য। সমগ্র বিশ্ব সেই পরিস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে গেছে। মনে পড়বে নিশ্চয়ই ইরানের ৫ বছরের একটি শিশুর ছবি, কাস্টমস কর্মকর্তারা যাকে গ্রেফতার করেছিল। ওই শিশুকে গ্রেফতার করার ফলে এতো বেশি প্রতিবাদ বিক্ষোভ হয়েছিল যে শেষ পর্যন্ত মার্কিন ফেডারেল আদালত ওই বিদ্বেষী নীতির বিরুদ্ধে বিচারিক আদেশ জারি করতে বাধ্য হয়।

আদালতের ওই আদেশের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন উচ্চ আদালতে আপিল করে ৮ মুসলিম দেশের নাগরিকদের আমেরিকায় প্রবেশিধার বন্ধের বিষয়টি পুনরায় নিশ্চিত করতে চেয়েছিল।

ট্রাম্পের ইসলাম বিরোধী মনোভাবের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যায় বায়তুল মোকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার ঘটনার মাধ্যমে। এই ঘটনা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে মার্কিন সরকারের ইসলাম বিদ্বেষী সুস্পষ্ট পদক্ষেপগুলোর অন্যতম।

আমেরিকায় মুসলমানদের প্রবেশ এবং সফরের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা এবং মুসলমানদের প্রথম কেবলার ওপর ট্রাম্পের রাজনৈতিক হামলার ফলে ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্ঠিগুলো তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিতে অনুপ্রাণিত হয়েছে। মাত্র ১ বছরে ১৩টি ইসলাম বিদ্বেষী গোষ্ঠি বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনা তারই প্রমাণ বহন করে। বর্ণবাদী ও ইসলাম বিদ্বেষী একটি সরকার পেয়ে উগ্র গোষ্ঠিগুলো যে তাদের তৎপরতা ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেবে-তা তো আর বলারই অপেক্ষা রাখে না। তাদের সেই বিদ্বেষী কর্মকাণ্ডের প্রভাব মার্কিন মুসলমানদের ওপর কঠোরভাবে পড়েছে। আমেরিকায় এখন কয়েক লক্ষ মার্কিন এবং অভিবাসী মুসলমানের জীবন অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মার্কিন গবেষকরাও এখন এই সত্য অস্বীকার করছেন না।

You Might Also Like